1. admin@businessdigestbd.com : admin :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩০ অপরাহ্ন

৫০ হাজার টাকায়ও মিলছে না ‘ভালো’ ল্যাপটপ

নিজস্ব প্রতিবেদক |
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৩৭ বার পঠিত

দেশের প্রযুক্তিপণ্যের বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম। বিশেষ করে র‍্যাম, এসএসডি ও প্রসেসরের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা।

বাজার ঘুরে জানা যায়, আগে যে ৮ জিবি র‍্যাম ২ হাজার ৮০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটি কিনতে গুনতে হচ্ছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। ৩২ জিবির র‍্যামের দাম ৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার টাকা।

বাজার-সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ছয় মাসে কোনো কোনো যন্ত্রাংশের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে, গত এক বছরে ল্যাপটপের দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশের বেশি। ফলে একসময় ৫০ হাজার টাকার নিচে পাওয়া যেত এমন ল্যাপটপের বাজারও সংকুচিত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় যে কোনো নতুন ল্যাপটপ কিনতে ক্রেতাদের ৫০ হাজার টাকার বেশি বাজেট রাখতে হচ্ছে। আগে ৬০ হাজার টাকার একটি ল্যাপটপ কিনতে এখন খরচ হচ্ছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে মেমোরি ও চিপের সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণ, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি। এআই প্রযুক্তির জন্য মেমোরি ও সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচলিত কম্পিউটারের যন্ত্রাংশের পরিবর্তে এআই-সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে কমছে সাধারণ কম্পিউটার ও ল্যাপটপের যন্ত্রাংশের সরবরাহ।

বাজারে কোন ল্যাপটপের দাম কত?
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের দোকান ঘুরে দেখা যায়, ব্র্যান্ড ও কনফিগারেশন ভেদে ল্যাপটপের দাম বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে এসারের ল্যাপটপের সর্বনিম্ন দাম প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা। আসুসের ৬৮ হাজার, এইচপি ও ডেলের ৭৮ হাজার, লেনোভোর ৮০ হাজার ও এমএসআইয়ের ল্যাপটপের দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ৮৪ হাজার টাকা থেকে। বছর দুয়েক আগেও ৩৫-৪০ হাজার টাকায় মোটামুটি মানের ল্যাপটপ পাওয়া যেত।

রায়ান্স কম্পিউটার্সের একজন বিক্রয়কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আগে ৫০ হাজার টাকার নিচে কোর আই থ্রি প্রসেসরের ল্যাপটপ পাওয়া গেলেও এখন একই ধরনের ল্যাপটপ কিনতে প্রায় ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। কোর আই ফাইভ প্রসেসরের যেসব ল্যাপটপ আগে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, সেগুলোর দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার টাকায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে মেমোরির দাম বেড়েছে ৩০০ শতাংশ:
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) যুগ্ম মহাসচিব আহসানুল ইসলাম নাওশাদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে মেমোরি ও চিপের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে র‍্যাম, এসএসডি ও হার্ডড্রাইভের দাম গত এক বছরে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। উচ্চ ধারণক্ষমতার কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ।

আগে যে মেমোরির দাম ছিল ৩ হাজার টাকা, সেটি এখন ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার ৮০০ টাকার একটি পণ্যের দাম বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। মাদারবোর্ডের দামও বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। বিভিন্ন যন্ত্রাংশে ব্যবহৃত প্রসেসর ও কন্ট্রোলার চিপের দামও বেড়েছে।-বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) যুগ্ম মহাসচিব আহসানুল ইসলাম নাওশাদ

তিনি বলেন, ‘আগে যে মেমোরির দাম ছিল ৩ হাজার টাকা, সেটি এখন ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার ৮০০ টাকার একটি পণ্যের দাম বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। মাদারবোর্ডের দামও বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। বিভিন্ন যন্ত্রাংশে ব্যবহৃত প্রসেসর ও কন্ট্রোলার চিপের দামও বেড়েছে।

ডলারের বিনিময় হারকে আরেকটি বড় কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগে ডলারের দাম ৯০ থেকে ৯৫ টাকার মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় ১২৪ থেকে ১২৫ টাকায় পৌঁছেছে। এতে আমদানি খরচ বেড়েছে। আগে ৫০ হাজার টাকায় পাওয়া একটি ল্যাপটপের দাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়েছে।

তবে চলতি বছরের বাজেটে ল্যাপটপ, মনিটর, র‍্যাম, এসএসডি ও হার্ডড্রাইভের আমদানি শুল্ক কমানোয় কিছু ক্ষেত্রে দাম কমেছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, ল্যাপটপের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ এবং মনিটরের শুল্ক ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে নাওশাদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারে ক্রেতার চাহিদা ও বিক্রি কম। অনেক ব্যবসায়ী কেনা দামে, এমনকি লোকসান দিয়েও পণ্য বিক্রি করছেন। অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে আইটি খাতের ব্যবসায়ীরা বাড়তি চাপে রয়েছেন।

এআইয়ের চাহিদায় বদলে যাচ্ছে চিপ উৎপাদন:
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মনে করেন, ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের দাম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে স্মার্টফোন, ইলেকট্রিক গাড়ি, ফ্রিজসহ প্রায় সব আধুনিক প্রযুক্তিপণ্যই চিপ ও মেমোরিনির্ভর। এসব ডিভাইস পরিচালনায় প্রসেসর ও মেমোরি প্রয়োজন। ফলে বিশ্বজুড়ে এসব যন্ত্রাংশের চাহিদা বাড়ছে।’

এআই প্রযুক্তির জন্য বিশেষ ধরনের মেমোরির চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ কারণে মেমোরি উৎপাদনকারী অনেক প্রতিষ্ঠান প্রচলিত ডিডিআর৪ ও ডিডিআর৫ মেমোরির উৎপাদন কমিয়ে এআইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় মেমোরি উৎপাদনে ঝুঁকছে। এতে সাধারণ কম্পিউটারের মেমোরির সরবরাহ কমে যাচ্ছে।

দাম বাড়ায় বিপাকে ক্রেতারা:
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিম বলেন, ‘এখন ল্যাপটপের দাম অনেক বেশি। ৫০ হাজার টাকার নিচে ভালো কনফিগারেশনের ল্যাপটপ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ও অনলাইন ক্লাসের জন্য ল্যাপটপ প্রয়োজন। কিন্তু দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে ল্যাপটপ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিসিএস কম্পিউটার সিটির একটি দোকান

বেসরকারি চাকরিজীবী জসিম বলেন, ‘বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে প্রায় সব ধরনের কাজের জন্য ল্যাপটপের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বেসরকারি চাকরিজীবীদের অনেক কাজই ল্যাপটপনির্ভর। কিন্তু হঠাৎ করে ল্যাপটপের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন ল্যাপটপ কেনা কিংবা পুরোনো ল্যাপটপ পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ৫০ হাজার টাকার নিচে ভালো মানের ল্যাপটপ পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। ল্যাপটপের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সরবরাহ কমেছে, দুই হাজারের জায়গায় মিলছে ২০০ ল্যাপটপ:
দেশের প্রযুক্তিপণ্য আমদানিকারক ও পরিবেশকদের কাছেও সংকটের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের ডিরেক্টর (চ্যানেল সেলস) মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে মেমোরি ও গ্রাফিক্স চিপের সংকটের কারণে ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের দাম বাড়ছে। এআইয়ের ব্যবহার বাড়ায় শুধু কম্পিউটার নয়, স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসেও মেমোরির চাহিদা বেড়েছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছে না।

তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে ল্যাপটপের দাম ৬০ শতাংশের বেশি ও গত ছয় মাসে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্ববাজারে সংকটের প্রভাব বাংলাদেশে কিছুটা দেরিতে পড়েছে। কারণ, আমদানিকারক ও পরিবেশকদের কাছে আগের দামে কেনা পণ্যের মজুত ছিল। সেই মজুত শেষ হওয়ার পর নতুন আমদানি করা পণ্যের দাম বেড়েছে।

সরবরাহ পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে সুজন বলেন, ‘আগে কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দুই হাজার ল্যাপটপ সরবরাহের প্রস্তাব দিলেও এখন সেখানে ২০০টির প্রস্তাব পাওয়া যাচ্ছে। শুধু ল্যাপটপ নয়, প্রিন্টারসহ অন্য প্রযুক্তিপণ্যের সরবরাহেও সংকট তৈরি হয়েছে।

বদলে যাচ্ছে ল্যাপটপের প্রযুক্তি ও ব্যবহার:
ভবিষ্যতে ল্যাপটপের সক্ষমতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসছে বলেও মনে করেন মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন। তার মতে, আগে প্রসেসরের কোর আই থ্রি, আই ফাইভ, আই সেভেন কিংবা রাইজেন সিরিজ দিয়ে ল্যাপটপের সক্ষমতা বোঝানো হতো। এখন এআই সক্ষমতা, মেমোরি ও টপসের ভিত্তিতেও ডিভাইসের কার্যক্ষমতা বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘লেনোভো ও এইচপিসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড এআইভিত্তিক ল্যাপটপ বাজারে আনছে। এসব ডিভাইস দিয়ে প্রেজেন্টেশন তৈরি, ক্লাসের লেকচার প্রস্তুত ও মিটিংয়ের সারাংশ তৈরি করা সম্ভব হবে। কেউ কোনো মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে না পারলেও এআইয়ের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্তের সংক্ষিপ্তসার পেতে পারবেন। তার মতে, নতুন প্রযুক্তির কারণে ল্যাপটপের দাম বেশি হলেও কাজের প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের মধ্যে এসব ডিভাইসের চাহিদা বাড়বে।

বিশ্ববাজারেও বাড়ছে কম্পিউটারের দাম:
শুধু বাংলাদেশের বাজার নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের দাম বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের সংকট ও এআই প্রযুক্তির প্রসারের কারণে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মূল্য ১৫ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো ল্যাপটপ ও সাধারণ কম্পিউটারের দাম গড়ে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। কিছু গেমিং কম্পিউটার ও জনপ্রিয় মডেলের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির হার ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের বিশেষ সিরিজের সর্বনিম্ন দাম ১ হাজার ডলার নির্ধারণ করায় ৫০০ ডলারের নিচের সাশ্রয়ী কম্পিউটারের বাজারও সংকুচিত হচ্ছে।

প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এআইভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র সম্প্রসারণের ফলে মেমোরি ও এসএসডির মতো যন্ত্রাংশের চাহিদা বেড়েছে। এতে সাধারণ কম্পিউটারের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বিশ্বব্যাপী কম্পিউটার বিক্রিতেও।

নতুন চিপ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সংকট কাটতে সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কম্পিউটারের বাড়তি দাম ২০২৭ সালের শেষ নাগাদও অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ‘ডিজিটাল ডিভাইসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ফ্রিল্যান্সারসহ তরুণদের প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষ করে যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন এবং উচ্চমূল্যের কাজ করতে চান, তাদের জন্য উন্নতমানের কম্পিউটার, বেশি র‍্যাম ও আপডেটেড প্রযুক্তি ব্যবহার করা প্রয়োজন। কিন্তু ডিভাইসের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকের পক্ষেই এসব কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘এর একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, তরুণদের সাধারণ কাজের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের কাজের দিকে যেতে হবে। কিন্তু উচ্চমূল্যের কাজ করতে হলে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন। সেই প্রযুক্তি কেনার সামর্থ্য না থাকলে তাদের কাজের পরিধি বাড়বে না, বরং আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

আলমাস কবীর বলেন, ‘বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কিছু ডিজিটাল ডিভাইসের দাম বেশি হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, আমাদের বাজার তুলনামূলক ছোট। ফলে বড় বাজারের দেশগুলোর মতো বিপুল পরিমাণে পণ্য আমদানি বা কেনার সুযোগ নেই। অন্য কোনো দেশ যেখানে ১০০টি ডিভাইস কিনছে, সেখানে আমরা হয়তো ৩০টি কিনছি। স্বাভাবিকভাবেই বেশি পরিমাণে কেনার ফলে যে মূল্যসুবিধা পাওয়া যায়, আমরা তা পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে স্মার্টফোন উৎপাদন বা সংযোজনের কিছু উদ্যোগ থাকলেও ল্যাপটপ ও অন্য কম্পিউটিং ডিভাইসের ক্ষেত্রে এ সক্ষমতা এখনো সীমিত। ডিভাইসের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা আমাদের একার হাতে নেই, কারণ বিশ্বব্যাপীই এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা রয়েছে। তবে দেশের বাজারের বাস্তবতা বিবেচনায় এ সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ একদিকে যেমন প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে তেমনি সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য কম্পিউটার ও ল্যাপটপ কেনাকে ব্যয়বহুল করে তুলছে। ফলে শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সাধারণ ক্রেতাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের খরচও বাড়ছে।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর