1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

ইউটিউব দেখে আনারকলি চাষ, ১০ লাখ টাকা আয়ের আশা মিঠুর

কৃষি ও প্রকৃতি ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৪ বার পঠিত

ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে দেড় বিঘা জমিতে বিদেশি ফল আনারকলি চাষ শুরু করেন মেহেরপুরের কৃষক মিঠু। সবজি চাষে লোকসানের ধাক্কা সামলে নতুন এ উদ্যোগে মাত্র ৬ মাসেই ফলন পেতে শুরু করেন তিনি। এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। ফল বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন এই তরুণ কৃষক। তার বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে লালচে-বেগুনি রঙের আনারকলি। নতুন এই ফলের চাষ দেখতে ও চাষপদ্ধতি জানতে ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

সবজি চাষ ছেড়ে এই নতুন ফলের চাষে এক মৌসুমেই ১০ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তরুণ এই কৃষক। মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মিঠু দেড় বিঘা জমিতে মাচা পদ্ধতিতে আনারকলি চাষ শুরু করেন। চারা রোপণ থেকে শুরু করে মাচা তৈরিসহ এখন পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার। গাছ লাগানোর ৬ মাসের মধ্যেই ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে লালচে-বেগুনি রঙের আনারকলি।

কৃষক মিঠু বলেন, ‘আমি আগে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করতাম। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বারবার লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছিল। তখন ইউটিউবে আনারকলি চাষের ভিডিও দেখে এ ফল চাষে আগ্রহী হই। পরে খোঁজখবর নিয়ে মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামে নিজের দেড় বিঘা জমিতে মাচা পদ্ধতিতে আনারকলি চাষ শুরু করি।

তিনি বলেন, ‘চারা রোপণ, মাচা তৈরি ও পরিচর্যাসহ এখন পর্যন্ত আমার প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গাছ লাগানোর ৬ মাসের মধ্যেই ফুল ও ফল আসতে শুরু করেছে। গাছে গাছে থোকায় থোকায় ফল ধরেছে। বাজারে প্রতি কেজি আনারকলি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে এবার প্রায় ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।

মিঠু বলেন, ‘এ ফল চাষে রাসায়নিক সারের ব্যবহার তুলনামূলক কম। জৈব সার ব্যবহার করেই ভালো ফলন পাওয়ার চেষ্টা করছি। একটি গাছ থেকে কয়েক দফায় ফল সংগ্রহ করা যায়। তাই ভবিষ্যতে এ চাষ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে। আমার বাগানের ফল দেখতে এবং চাষপদ্ধতি জানতে অনেকেই আসছেন। তাদের আগ্রহ দেখে ভালো লাগছে। আমি মনে করি, কৃষকেরা প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ও লাভজনক ফল চাষে এগিয়ে এলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

জানা যায়, চাষ শুরুর আগে সঠিক জাত নির্বাচন, পরিচর্যা, বাজারের চাহিদা ও বিক্রির ব্যবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে আনারকলি চাষ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। টক-মিষ্টি এ ফলের স্বাদ নিতে ও বাগান দেখেতে অনেকেই আসছেন মিঠুর বাগানে। কেউবা আসছেন চাষপদ্ধতি দেখতে ও পরামর্শ নিতে। তারা আগামীতে এই ফলের চাষ করবেন।

আনারকলি চাষে আগ্রহী কৃষক আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা সাধারণত ধান, পাট ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করি। কিন্তু অনেক সময় উৎপাদন খরচ অনুযায়ী বাজারে দাম পাওয়া যায় না। এতে লোকসানের মুখে পড়তে হয়। মিঠু ভাইয়ের আনারকলি বাগান দেখে নতুন করে আশাবাদী হয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে গাছে ফল আসছে, আবার বাজারে দামও ভালো বলে জানতে পেরেছি। তাই আমিও আনারকলি চাষের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ পেলে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু জমিতে এ ফল চাষ শুরু করতে চাই।

আরেক কৃষক বশির আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে কৃষিতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি সবকিছুর পেছনে বেশি টাকা ব্যয় করতে হয়। কিন্তু ফসল বিক্রির সময় অনেক ক্ষেত্রে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। মিঠুর আনারকলি চাষের কথা শুনে এবং তার বাগান দেখে আমারও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফলটি কয়েক দফায় সংগ্রহ করা যায় বলে বিষয়টি সম্ভাবনাময় মনে হচ্ছে। তবে চাষ শুরুর আগে উৎপাদন খরচ, রোগবালাই ও বাজারজাতকরণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই। সবকিছু অনুকূলে থাকলে আমিও এ চাষে যুক্ত হব।

কৃষক মিনারুল ইসলাম বলেন, ‘মেহেরপুরের মাটিতে নতুন ধরনের ফল চাষ করে মিঠু যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা আমাদের মতো কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা। আমরা অনেক সময় একই ধরনের ফসল চাষ করি, ফলে বাজারে দাম কমে গেলে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। আনারকলির মতো নতুন ফল চাষের মাধ্যমে সেই ঝুঁকি কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। আমি এ ফলের চাষপদ্ধতি, চারা সংগ্রহ ও পরিচর্যা সম্পর্কে জানতে চাই। কৃষি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেলে আগামী মৌসুমে জমির একটি অংশে আনারকলি চাষের পরিকল্পনা আছে।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, ‘আনারকলি একটি পুষ্টিকর ও সম্ভাবনাময় ফল। মেহেরপুরের মাটিতে এ ফলের চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ আছে। কৃষক মিঠু ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আনারকলি চাষ শুরু করেছেন এবং ভালো ফলন পাচ্ছেন বলে জানান। নতুন ও লাভজনক ফসল চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ফসল চাষের আগে কৃষকদের মাটির উপযোগিতা, চাষপদ্ধতি, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা এবং বাজারজাতকরণ সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। পাশাপাশি বাজারের চাহিদা ও উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে চাষের পরিকল্পনা করা জরুরি। সঠিক পরিচর্যা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ কাজে লাগাতে পারলে আনারকলি চাষ কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর