1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম নয়, সুস্থ জীবনের ভিত্তি

কৃষি ও প্রকৃতি ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৬ বার পঠিত

খাদ্য মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক উপাদান; নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য সুস্থ জীবনের ভিত্তি। বর্তমান বিশ্বে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সবার জন্য খাদ্যের সহজলভ্যতা, ক্রয়ক্ষমতা, পুষ্টিমান ও নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমি হ্রাস, মাটির অবক্ষয়, পানিসংকট, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং খাদ্যের অপচয় এই চ্যালেঞ্জকে আরও জটিল করে তুলছে। বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম নয়; এটি গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, পরিবেশের ভারসাম্য এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি।

খাদ্যনিরাপত্তা মানে শুধু খাদ্য উৎপাদন নয়
একটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা কেবল মোট খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ দিয়ে বিচার করা যায় না। প্রতিটি মানুষের পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। খাদ্য বাজারে থাকলেও দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে থাকলে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। আবার পেট ভরানোর মতো খাবার পাওয়া গেলেও খাদ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টি না থাকলে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে ধান উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি মাছ, শাক-সবজি, ফল, ডাল, তেলবীজ ও প্রাণিজ খাদ্যের উৎপাদনও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভবিষ্যৎ কৃষি পরিকল্পনায় শুধু ধানের উৎপাদন নয়; বৈচিত্র্যময় খাদ্য উৎপাদন এবং সুষম খাদ্য গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে শিশু, নারী, প্রবীণ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের পুষ্টি চাহিদা বিবেচনায় নিতে হবে।

কৃষি ও পরিবেশের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য:
কৃষির সঙ্গে মাটি, পানি, বায়ু, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্যের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। সুস্থ মাটি ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফলন সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত ও নিরাপদ পানির অভাবে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। পরাগায়নকারী পোকামাকড়, মাটির উপকারী অণুজীব এবং অন্যান্য জীবের ভূমিকা উপেক্ষা করলে কৃষিব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে অপরিকল্পিত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো, জলাশয় দূষণ এবং কৃষিজমির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এর প্রভাব শুধু প্রকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; খাদ্যের নিরাপত্তা, কৃষকের স্বাস্থ্য এবং উৎপাদন ব্যয়ের ওপরও পড়ে। এ কারণে কৃষির লক্ষ্য হতে হবে এমন একটি উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা; যেখানে জমির উর্বরতা বজায় থাকবে, পানির অপচয় কমবে, উপকারী জীব সংরক্ষিত হবে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। পরিবেশবান্ধব কৃষি কোনো বিলাসিতা নয়; এটি ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তার অপরিহার্য শর্ত।

খাদ্য উৎপাদনের নতুন চ্যালেঞ্জ:
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, খরা, তাপপ্রবাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও উপকূলীয় লবণাক্ততা কৃষি উৎপাদনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। কোনো মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ফসলের ক্ষতি করে, আবার অন্য সময়ে সেচের পানির অভাব দেখা দেয়। তাপমাত্রার পরিবর্তনে ফসলের বৃদ্ধি, ফুল-ফল ধারণ, রোগবালাই ও পোকার বিস্তারেও পরিবর্তন আসতে পারে। এই পরিস্থিতিতে জলবায়ু-সহনশীল জাত, স্বল্পমেয়াদি ফসল, পানি সাশ্রয়ী সেচ, ফসলের বহুমুখীকরণ এবং স্থানভিত্তিক কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। কৃষকের কাছে সময়মতো আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্যকে কাজে লাগিয়ে কৃষির ঝুঁকি কমাতে হবে।

মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও সুষম সার ব্যবস্থাপনা:
মাটি কৃষির প্রাণ। অথচ অনেক ক্ষেত্রে মাটির প্রকৃত চাহিদা না জেনে অনুমাননির্ভর সার প্রয়োগ করা হয়। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ে; অন্যদিকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ব্যবহারে পরিবেশদূষণ ও পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি তৈরি হয়। মাটির পিএইচ, জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপাদানের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সার ব্যবস্থাপনা করতে হবে। মাটি পরীক্ষার ফলাফল ও ফসলের চাহিদার ভিত্তিতে সুষম সার প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের অর্থ সাশ্রয় হতে পারে এবং মাটির দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতাও রক্ষা পায়। জৈব পদার্থ বৃদ্ধি, ফসলের পর্যায়ক্রমিক চাষ, ডালজাতীয় ফসলের অন্তর্ভুক্তি, সবুজ সার এবং ফসলের অবশিষ্টাংশের যথাযথ ব্যবস্থাপনাও মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়ক। তবে কোন পদ্ধতি কোথায় কার্যকর হবে; তা স্থানীয় মাটি, ফসল ও কৃষিব্যবস্থার উপযোগিতা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ও উদ্ভাবনের সম্ভাবনা:
আগামীর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আজই কার্যকর উদ্ভাবন গ্রহণ করতে হবে। আধুনিক কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, উপগ্রহভিত্তিক তথ্য, ডিজিটাল কৃষি পরামর্শ এবং নির্ভুল কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ফসলের রোগ ও পোকামাকড় শনাক্তকরণ, আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সম্ভাব্য সমস্যার সংকেত দেওয়া সম্ভব। মাটির সেন্সর ও তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ সেচ এবং সার ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে। ড্রোনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় ফসল পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপকরণ প্রয়োগের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাফল্য নয়। কৃষকের বাস্তব অভিজ্ঞতা, কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং মাঠপর্যায়ের বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের সঙ্গে প্রযুক্তির ফলাফল মিলিয়ে দেখতে হবে। এআই-ভিত্তিক রোগ শনাক্তকরণ বা সার সুপারিশের নির্ভুলতা বিভিন্ন ফসল, জাত, মৌসুম ও এলাকার পরিস্থিতিতে যাচাই করা জরুরি। প্রযুক্তিকে সহজবোধ্য, সাশ্রয়ী ও স্থানীয় ভাষায় ব্যবহারযোগ্য করতে পারলে ক্ষুদ্র কৃষকেরাও এর সুফল পাবেন।

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও কীটনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার:
খাদ্যের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য নিরাপদ রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার, অনুমোদনহীন পণ্যের প্রয়োগ, নির্ধারিত মাত্রা অমান্য করা এবং ফসল সংগ্রহের আগে অপেক্ষাকাল না মানার ফলে খাদ্যে ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ থাকার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এ জন্য সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বা আইপিএম, জৈবিক দমন, উপকারী পোকা সংরক্ষণ, রোগবালাই পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনভিত্তিক বালাই নিয়ন্ত্রণকে উৎসাহিত করতে হবে। কৃষকদের সঠিক মাত্রা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, প্রয়োগবিধি ও ফসল সংগ্রহের আগের অপেক্ষাকাল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।

খাদ্যের অপচয় কমানোও খাদ্যনিরাপত্তার অংশ:
খাদ্য উৎপাদনের জন্য জমি, পানি, শ্রম, জ্বালানি ও অর্থ ব্যয় হয়। উৎপাদিত খাদ্য সংরক্ষণ, পরিবহন বা বাজারজাতকরণের দুর্বলতার কারণে নষ্ট হলে এসব সম্পদেরও অপচয় ঘটে। তাই শুধু উৎপাদন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিলে চলবে না। উৎপাদিত খাদ্য যেন ভোক্তার কাছে নিরাপদ অবস্থায় পৌঁছায়; সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামপর্যায়ে উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা, আধুনিক হিমাগার, উপযুক্ত প্যাকেজিং, দ্রুত পরিবহন এবং কৃষক থেকে ক্রেতার সরাসরি সংযোগ খাদ্যের অপচয় কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফল-মূল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ, উদ্বৃত্ত খাদ্যের যথাযথ ব্যবহার এবং ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য কেনা, রান্না ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে অপচয় কমানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

কৃষকের ন্যায্যমূল্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন:
খাদ্যনিরাপত্তার কেন্দ্রে রয়েছেন কৃষক। অথচ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাজারদরের অনিশ্চয়তা, মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব এবং সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে অনেক কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। কৃষকের আয় অনিশ্চিত থাকলে ভবিষ্যৎ উৎপাদনে বিনিয়োগের সক্ষমতাও কমে যায়। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজারতথ্য সহজলভ্য করা, কৃষক সমবায় শক্তিশালী করা, সরাসরি বিপণন, চুক্তিভিত্তিক চাষে ন্যায্যতা, কৃষিঋণ এবং ফসলবিমার কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি নারী কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে হবে। কৃষিকে লাভজনক পেশায় পরিণত করা গেলে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়বে। উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণন, প্রতিটি পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ফলে কৃষি শুধু খাদ্যের জোগানদাতা নয়, টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবেও আরও শক্তিশালী হবে।

টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই:
খাদ্যনিরাপত্তা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ক্ষুধামুক্তি, সুস্বাস্থ্য, নিরাপদ পানি, দায়িত্বশীল উৎপাদন ও ভোগ, জলবায়ু মোকাবিলা এবং স্থলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। কৃষি ও পরিবেশকে বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করলে এই লক্ষ্যগুলো অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। এ জন্য সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, গণমাধ্যম এবং কৃষকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। গবেষণার ফলাফল দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের মান বাড়াতে হবে এবং প্রযুক্তির সুফল যাচাইয়ের জন্য নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়তে হলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্যের ন্যায্য প্রাপ্যতা, পুষ্টিমান, নিরাপত্তা এবং কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাটি, পানি, বায়ু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার মাধ্যমে কৃষির প্রাকৃতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে হবে। বাংলাদেশের জন্য এখন সময় এসেছে বিজ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও কৃষককেন্দ্রিক কৃষিব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার। আধুনিক উদ্ভাবনের সঙ্গে স্থানীয় জ্ঞান ও কৃষকের অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে, অপচয় কমবে এবং খাদ্যব্যবস্থা আরও সহনশীল হবে। তাই অঙ্গীকার হোক, খাদ্যের অপচয় নয়, সুষম ব্যবহার; মাটির অবক্ষয় নয়, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা; অপরিকল্পিত উপকরণ ব্যবহার নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি; কৃষকের বঞ্চনা নয়, ন্যায্য অধিকার। আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি-সুস্থ মানুষ, নিরাপদ খাদ্য, সুরক্ষিত পরিবেশ ও টেকসই বাংলাদেশের ভিত্তি।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর