1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

খামারিদের পিঠ দেওয়ালে, তবুও বাজারে বাড়ছে ডিমের দাম

কৃষি ও প্রকৃতি ডেস্ক | সাব্বির হোসেন |
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২২ বার পঠিত

​বাংলাদেশে ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়ার ক্ষেত্রে বড় সাফল্য এলেও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে এ খাতের মূল কারিগর—প্রান্তিক খামারিদের মুখে। পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট ও সিন্ডিকেটের কারণে উৎপাদকরা লোকসান গুনছেন। আর চড়া দাম দিয়ে ডিম কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।

​এক দশকে উৎপাদন বেড়েছে ৬৮ শতাংশ:
​প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ডিমের উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৪৯৩ কোটি পিস। সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০৯ কোটি পিসে। অর্থাৎ গত এক দশকে উৎপাদন বেড়েছে ৬৮ শতাংশেরও বেশি। বর্তমানে প্রতিদিন ৬ কোটি পিসের বেশি ডিম উৎপাদন হচ্ছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই আসে গ্রাম-গঞ্জের প্রান্তিক খামারিদের হাত ধরে।

​জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, বছরে একজন মানুষের অন্তত ১০৪টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে বর্তমানে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা দাঁড়িয়েছে ১৪০টিরও বেশি। সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য—২০৩০ সালের মধ্যে এটি ২০০টিতে উন্নীত করা এবং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা।

উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে বিক্রি:
​উৎপাদনে বিপ্লব ঘটলেও চরম দুর্দিনে আছেন খামারিরা। পোল্ট্রি ফিড, বাচ্চা, ওষুধ ও জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় খামার পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা বা তার বেশি। কিন্তু খামারিদের ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কমে—কখনো কখনো ৮-৯ টাকা দরে।

​খামারিদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে ৫০ কেজির পোল্ট্রি ফিডের বস্তাপ্রতি দাম সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা বেড়ে ৩,৬৭৫ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। ভুট্টা ও চালের কুড়ার (ব্রান) দাম কেজিতে ১২-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কিন্তু ডিমের বাজারদর নির্ধারণের কোনো ক্ষমতা তাদের নেই। নিরুপায় হয়ে ক্ষতি সহ্য করেই উৎপাদনে টিকে থাকতে হচ্ছে তাদের। কারণ একবার বিনিয়োগ করার পর মুরগির ডিম দেওয়া বন্ধ করা সম্ভব নয়।

​মূল দায় কাদের:
​ঢাকার খুচরা বাজারে বর্তমানে একটি বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩ টাকা বা তার চেয়েও বেশি দামে—যা উৎপাদন খরচের তুলনায় আড়াই টাকা বেশি। অথচ এই বাড়তি দামের এক পয়সাও পাচ্ছেন না প্রান্তিক খামারিরা।

​বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) মতে, খামার থেকে বাজার পর্যন্ত ডিম পৌঁছাতে মাঝপথের মধ্যস্বত্বভোগীরা প্রতিটি ডিমে প্রায় ২ টাকা বা তারও বেশি পকেটে পুড়ছে। সরকার যখন ডিমের দাম বাড়ে; তখন সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু দাম কমে গেলে খামারিদের সুরক্ষায় কোনো ‘সর্বনিম্ন বিক্রয়মূল্য’ নির্ধারণ করে দেয় না। ফলে চরম অসমতার শিকার হচ্ছেন দেশের প্রায় ৪০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত লেয়ার খামারের মালিকেরা।

​উত্তরণের পথ কী?
​চলতি বছরে রাজশাহী, গাজীপুর, পাবনা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় খামারিরা ফিডের দাম কমানো এবং শুল্ক ছাড়ের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। সংকট নিরসনে খাত সংশ্লিষ্টরা তিনটি প্রধান পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন

সরাসরি সরবরাহ চেইন তৈরি:
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে খামার থেকে সরাসরি বাজারে ডিম পৌঁছানোর সরকারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

উৎপাদন খরচের আইনি সুরক্ষা:
ডিমের দাম অতিরিক্ত কমলে খামারিদের বাঁচাতে ‘সর্বনিম্ন বিক্রয়মূল্য’ বেঁধে দেওয়া।

ফিডের কাঁচামালে শুল্ক ছাড়:
পোল্ট্রি খাতের ফিড ও কাঁচামাল আমদানিতে কর ছাড় দিয়ে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে আনা।

​খামারি বাঁচলে রক্ষা পাবে দেশের পোল্ট্রি শিল্প। ডিমের জোগান নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং ভোক্তা ও উৎপাদক উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় বাজার ব্যবস্থার এই বড় ত্রুটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।

লেখক: শিক্ষার্থী, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা, টঙ্গী।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর