1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

তরুণদের আশার আলো হাইলাইন ব্রাউন জাতের মুরগি

কৃষি ও প্রকৃতি ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২০৪ বার পঠিত

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোল্ট্রি শিল্প তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বেকারত্ব দূর করে আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে বহু তরুণ এখন এ শিল্পকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছেন। তুলনামূলক কম পুঁজিতে শুরু করে অল্প সময়ে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকায় পোল্ট্রি ফার্মিংয়ের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে হাইলাইন ব্রাউন জাতের মুরগি। বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সহজে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং উচ্চ ডিম উৎপাদনের ক্ষমতার কারণে জাতটি খামারিদের, বিশেষ করে তরুণদের কাছে প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে।

হাইলাইন ব্রাউন একটি শংকর প্রজাতির লেয়ার মুরগি, যা বিশেষভাবে ডিম উৎপাদনের জন্য উন্নত করা হয়েছে। এ জাতের মুরগি বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পে একটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হাইলাইন ব্রাউন জাতের মুরগির সহজলভ্যতা, ফার্মিং ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব ইফতেখার ইসলাম।

উচ্চ ডিম উৎপাদন:

হাইলাইন ব্রাউন মুরগি ১০০ সপ্তাহের উৎপাদন চক্রে ৪৬৮ থেকে ৪৭৩টি ডিম দিতে পারে। এর মানে, গড়ে প্রতি সপ্তাহে একটি মুরগি ৫টিরও বেশি ডিম উৎপাদন করে। তাদের ডিম উৎপাদনের দক্ষতা সর্বোচ্চ ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়, যা বাণিজ্যিক ফার্মিংয়ের জন্য অত্যন্ত লাভজনক।

খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা:

হাইলাইন ব্রাউনের খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা ১.৯ থেকে ২.১ এর মধ্যে, যা অন্যান্য লেয়ার জাতের তুলনায় উন্নত। এর অর্থ হলো, প্রায় ২ কেজি খাদ্য থেকে এরা ১ কেজি ওজন বৃদ্ধি করতে পারে। এটি খরচ কমিয়ে লাভ বাড়াতে সহায়ক।

জলবায়ু সহনশীলতা:

বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র জলবায়ুর সঙ্গে হাইলাইন ব্রাউন সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। এটি তাদের বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পালনের জন্য উপযোগী করে তুলেছে।

ডিমের গুণগত মান;

এ জাতের মুরগির ডিম বাদামি রঙের হয়, যা বাংলাদেশের বাজারে সাদা ডিমের তুলনায় বেশি জনপ্রিয় এবং দামেও ভালো। ডিমের খোসা শক্ত এবং টেকসই, যা পরিবহনের সময় ক্ষতির ঝুঁকি কমায়। ৩৮ সপ্তাহ বয়সে এদের ডিমের অভ্যন্তরীণ গুণমান হিউ ইউনিটে ৯০-এর বেশি হয়, যা উচ্চমানের ডিমের সূচক।

হাইলাইন ব্রাউন কোথায় পাবেন:

বাংলাদেশে হাইলাইন ব্রাউন মুরগির একদিন বয়সী বাচ্চা সহজেই পাওয়া যায়। বাচ্চার দাম সাধারণত ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে হয়। এগুলো সংগ্রহ করতে পারেন জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে। এ ছাড়া কাজী ফার্মস, প্যারাগন, নারিশের মতো প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি কোম্পানিগুলো নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবাও প্রদান করে, যা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক।

হাইলাইন ব্রাউন ফার্মিংয়ে সাফল্যের টিপস
হাইলাইন ব্রাউন মুরগির খামার স্থাপনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবে। প্রথমত, খামারের অবস্থান নির্বাচন করতে হবে এমন জায়গায়; যেখানে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল এবং সূর্যালোক পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, মুরগির খাঁচা বা শেড তৈরি করতে হবে পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত পরিবেশে। তৃতীয়ত, সুষম খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি না হয়। এ ছাড়া নিয়মিত টিকাদান এবং পশুচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাবনা:

হাইলাইন ব্রাউন মুরগির খামার শুরু করা তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি লাভজনক উদ্যোগ হতে পারে। এ জাতের মুরগি শুধু উচ্চ ডিম উৎপাদনই নিশ্চিত করে না বরং বাংলাদেশের বাজারে এর ডিমের চাহিদা এবং দামও সন্তোষজনক। তরুণরা স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রপ্তানির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে পারেন। এ ছাড়া পোল্ট্রি শিল্পে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা, যেমন- ঋণ, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা এ খাতে নতুনদের জন্য পথ সুগম করছে।

চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান:

পোল্ট্রি শিল্পে সাফল্যের পথে কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, রোগের প্রাদুর্ভাব এবং বাজারে দামের ওঠানামা। এ সমস্যাগুলো মোকাবিলায় উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ নেওয়া, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা এবং বাজার বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা করা জরুরি। এ ছাড়া স্থানীয় পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে বাজার সম্পর্কে সঠিক তথ্য এবং সহায়তা পাওয়া যায়।

মোট কথা পোল্ট্রি শিল্প শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক স্বাধীনতাই নিশ্চিত করে না বরং দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সুতরাং তরুণ উদ্যোক্তা হতে চাইলে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইলে হাইলাইন ব্রাউনের লেয়ার ফার্মিং হতে পারে আপনার স্বপ্নপূরণের দারুণ হাতিয়ার।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর