1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

শখ থেকে পাখির ব্যবসা, মাসে বিক্রি ৩ লাখ

কৃষি ও প্রকৃতি ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৬৬ বার পঠিত

ছোটবেলা থেকেই পাখির প্রতি শখ ও গভীর ভালোবাসা মেহেদী হাসান শুভর। সেই ভালোবাসাকে পুঁজি করে গড়ে তুলেছেন পাখির ব্যবসা। প্রতি মাসে ২-৩ লাখ টাকার পাখি বিক্রি করেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
‎
‎রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকার নবাবগঞ্জ বাজারে মেহেদী হাসান শুভর আছে একটি পাখির দোকান। বড় ভাইয়ের উৎসাহ ও সহযোগিতায় তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। শুভর দোকানে আছে নানা প্রজাতির দামি পাখি। এর মধ্যে সানকনুর জাতের পাখিই বেশি। দেখতে আকর্ষণীয়, রঙিন পালক আর কথা বলার ক্ষমতার কারণে এই পাখি ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
‎
‎প্রতি জোড়া সানকনুর পাখি তিনি বিক্রি করেন ৩০-৪০ হাজার টাকা। শুধু বড় পাখিই নয়, বাচ্চা পাখিও বিক্রি করেন তিনি। কোনো কোনো পাখির দাম লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে বর্তমানে তার দোকানে প্রায় ১০ লাখ টাকার পাখি আছে।
‎
মেহেদী হাসান শুভ জানান, প্রতিদিন দোকান খোলা থাকলেও সাপ্তাহিক ঢাকার কোনো পাখির হাট বা মেলায় তিনি পাখি নিয়ে যান। দোকানের তুলনায় হাট বা মেলায় বিক্রি বেশি হয়। কারণ সেখানে পাইকারি ও খুচরা—দুই ধরনের ক্রেতাই আসেন।

পাখিগুলো কিনতে আসেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ কিনছেন শখে, কেউ উপহার দেওয়ার জন্য। কেউ কেউ আসেন ব্যবসার কারণে। হাটের পরিবেশে একসঙ্গে অনেক পাখি দেখার সুযোগ থাকায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি থাকে। দরদাম, পছন্দ-অপছন্দ—সব মিলিয়ে হাট পাখি ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

‎শুধু দোকান বা হাটেই সীমাবদ্ধ নন শুভ। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনলাইনেও পাখি বিক্রি করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অনলাইন বিক্রির ফলে তার ব্যবসার পরিধিও বিস্তৃত হয়েছে।
‎
‎ব্যবসার আয়-ব্যয় প্রসঙ্গে শুভ বলেন, ‘মাসে গড়ে ২-৩ লাখ টাকার পাখি বিক্রি হয়। তবে পাখির খাবার, খাঁচা, চিকিৎসা, দোকান ভাড়া ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে মাসে ভালোই লাভ থাকে।’
‎
‎এই তরুণ উদ্যোক্তা বলেন, ‘শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। সীমিত পুঁজি আর অভিজ্ঞতার অভাব—সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জ ছিল অনেক। তবে পাখির প্রতি ভালোবাসা আর ধৈর্যই এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। ধীরে ধীরে পাখি চেনা, তাদের যত্ন, খাবার, রোগ-ব্যাধি সম্পর্কে ধারণা বাড়তে থাকে। ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিশ্বাস তৈরি হয়। সবকিছুই শিখেছি হাতেকলমে।’

‎শুভ মনে করেন, ‘পাখির ব্যবসায় সফল হতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যত্ন ও ভালোবাসা। পাখি শুধু পণ্য নয়, তারা জীবন্ত প্রাণী। তাদের ঠিকমতো খাবার, পরিষ্কার পরিবেশ ও চিকিৎসা নিশ্চিত না করলে এই ব্যবসা টিকবে না।’
‎
‎ভবিষ্যতে ব্যবসাকে বড় করার স্বপ্ন দেখেন এই তরুণ উদ্যোক্তা। নতুন নতুন জাতের পাখি আনা, আরও বড় পরিসরে দোকান গড়ে তোলা—এমন নানা পরিকল্পনা আছে তার। শহরের ব্যস্ত জীবনের মাঝে পাখির ডানায় ভর করে শুভ এগিয়ে চলেছেন নিজের স্বপ্নের পথে।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর