1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

লিচুর রাজ্যে গাছে গাছে মুকুল, বাম্পার ফলনের আশা

উপজেলা প্রতিনিধি | ঈশ্বরদী (পাবনা) |
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৫ বার পঠিত

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা লিচুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত। এ উপজেলার পথেঘাটে এখন মুকুলের সুবাস। বাগানের গাছগুলোতে থোকায় থোকায় মুকুল ভরে গেছে। লিচুর সোনালি মুকুল বসন্তের হাওয়ায় দোলা দিচ্ছে। লিচুর বাম্পার ফলনের আশাবাদী চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় ৩ হাজার ১০০ একর জমিতে চাষ হয় রসালো ও সুস্বাদু লিচু। এ উপজেলায় লিচুর বাগান রয়েছে ১১ হাজার ২৭০ টি। গতবছর এ এলাকায় উৎপাদিত মৌসুমি লিচুর বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকার। তবে এ বছর গাছে পর্যাপ্ত মুকুল আসায় বাজার মূল্য আগের যে কোন সময়ের রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে বলে আশা করছেন চাষিরা।

চাষিরা জানান, মাঘের শেষ সপ্তাহ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সাধারণত লিচুর মুকুল আসে। এ উপজেলায় মূলত দুই জাতের লিচু সবচেয়ে বেশি চাষ হয়। এগুলোর মধ্যে মোজাফ্ফর বা দেশী, বোম্বাই বা চায়না-৩ অন্যতম। তবে বর্তমানে স্বল্প পরিসরে কদমি, কাঁঠালি, বেদেনা, চায়না-১ এবং চায়না-২ জাতের লিচুর চাষ হচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার জয়নগর, মিরকামারী, মানিকনগর, সাহাপুর, জগন্নাথপুর, ভাড়ইমারী ও আওতাপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শতকরা ৮০-৮৫ ভাগ গাছে লিচুর মুকুল এসেছে। প্রতিটি লিচু গাছ মুকুলে পরিপূর্ণ। লিচুর মুকুলের সুগন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। লিচু চাষিরা মুকুলরোধে গাছে পানি দেওয়া ও কীটনাশক স্প্রেসহ বাগান পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলার সাহাপুর গ্রামের লিচু চাষি আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আমার বাগানে ১৩৫টি লিচু গাছ রয়েছে। এরমধ্যে ৭-৮ গাছ বাদে প্রতিটি গাছে পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে। মুকুল যেন ঝরে পড়ে না যায় সেজন্য বাগানের নিয়মিত পরিচর্যা করছি। প্রতিটি লিচু গাছে প্রয়োজনীয় পানি দিচ্ছি ও কীটনাশক স্প্রে করছি। মুকুল যেভাবে এসেছে তাতে আশাকরছি ফলন ভালো হবে।

গ্রামের চাষি রফিকুল ইসলাম ফারুকী বলেন, ‘এ মৌসুমে লিচু প্রচুর মুকুল এসেছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগে মুকুল বা গুটি ঝরে না গেলে ফলন খুব ভালো হবে। গত বছর ফলন খারাপ হওয়ায় চাষিদের লোকসান হয়েছে। এবার গাছের মুকুল দেখে মনে হচ্ছে চাষিরা লাভবান হবে।’

মিরকামারী গ্রামের লিচু চাষি আবুল হাসেম বলেন, ‘লিচু এ উপজেলার মানুষের প্রধান অর্থকরী ফসল। লিচুর ফলন ভালো না হলে এ এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। গত বছর ফলন কম হওয়ায় অনেকেই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। লিচু বাগান কেটে ফেলার কথা অনেকেই বলতে শোনা যায়। ইনশাল্লাহ এবছর ফলন ভালো হয়েছে এবার চাষিরা লাভবান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, ‘এ উপজেলায় এবার ৩১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। বাগানের গাছে গাছে মুকুল এসেছে। আশাকরছি ফলন ভালো হবে। মুকুল ঝরা রোধে কৃষকদের নানান ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি।’

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর