1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

বজ্রপাত রোধে ৫৫টি তাল ও সুপারি গাছ রোপণ

কৃষি ও প্রকৃতি ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
  • ৩৮ বার পঠিত

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের তাৎপর্যকে সামনে রেখে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বজ্রপাতজনিত ঝুঁকি হ্রাসে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির উদ্যোগে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে ৫৫টি তাল ও সুপারি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয়েছে ‘থান্ডার সেফ বাংলাদেশ’ প্রকল্পের।

স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতীকীভাবে ৫৫টি চারা রোপণ করা হয়। আয়োজকদের মতে, এটি শুধু বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়; বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলনের সূচনা।

বাংলাদেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বিশেষ করে হাওর ও খোলা মাঠপ্রধান অঞ্চলে। গবেষণায় দেখা গেছে, তালগাছসহ উঁচু বৃক্ষ বজ্রপাতের শক্তি ধারণ করে প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এসব গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন জানায়, ‘থান্ডার সেফ বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় বর্ষা মৌসুমের পর সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে ৫ হাজার তাল, নারিকেল ও সুপারি গাছ রোপণ করা হবে। স্থানীয় জনগণ, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আছে।

বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাসফিকুল হাসান টনি বলেন, ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আমরা শুধু গাছ লাগাচ্ছি না, আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি স্থাপন করছি। থান্ডার সেফ বাংলাদেশ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলাকে একসঙ্গে যুক্ত করেছি। তাল, নারিকেল ও সুপারি গাছ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, এগুলো গ্রামীণ জনপদে বজ্রপাতের ক্ষতি কমাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ৫৫টি চারা রোপণ আমাদের প্রতীকী অঙ্গীকার। আগামী দিনে এই সংখ্যা হাজারে পৌঁছাবে। আমরা চাই দেশের প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সবুজ সুরক্ষা বলয় গড়ে উঠুক, যাতে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মানুষের জীবনও সুরক্ষিত থাকে। থান্ডার সেফ বাংলাদেশ হবে পরিবেশ, নিরাপত্তা ও জনসচেতনতার সমন্বিত একটি জাতীয় উদ্যোগের মডেল।’

স্থানীয় বাসিন্দারা এ কর্মসূচিকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতের ভয়াবহতা কমাতে এবং পরিবেশকে আরও সবুজ করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শুরু হওয়া ‘থান্ডার সেফ বাংলাদেশ’ প্রকল্প শুধু একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়; এটি প্রকৃতিকে রক্ষা করে মানুষকে সুরক্ষিত রাখার নতুন প্রত্যয়ের নাম। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ৫৫টি চারার মাধ্যমে যে যাত্রা শুরু হলো; তা ভবিষ্যতে একটি বৃহৎ সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথ তৈরি করবে।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর