1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

পেঁয়াজ চাষ করে লোকসানে মেহেরপুরের চাষিরা

কৃষি ও প্রকৃতি ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪২ বার পঠিত

মেহেরপুর জেলায় এখন পেঁয়াজের ভরা মৌসুম চলছে। মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ থাকলেও কৃষকদের মনে নেই স্বস্তি। ক্ষেতভর্তি পেঁয়াজ প্রস্তুত থাকলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তা উত্তোলন করতে পারছেন না অনেক চাষি। বাজারে দরপতন ও ক্রেতা সংকটের কারণে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন তারা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন। তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারদরের ধস কৃষকদের হতাশ করে তুলেছে।

মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। কিন্তু কৃষকদের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। অনেকেই পেঁয়াজ তুলে বিক্রি না করে জমিতেই রেখে দিচ্ছেন, দাম বাড়ার আশায়।

মুজিবনগর উপজেলার স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ‌‘প্রতি মণ পেঁয়াজ এখন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দামে বিক্রি করলে আমাদের খরচই উঠবে না। সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক—সব কিছুর দাম বেড়েছে। আমরা তো বিপদে পড়ে গেছি।’

আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরও এমন পরিস্থিতি হয়েছিল। এবারও যদি একই অবস্থা থাকে, তাহলে আমাদের পেঁয়াজ চাষ বন্ধ করে দিতে হবে। সরকার যদি এ সময়ে আমদানি করে, তাহলে আমরা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হবো।’

একই গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট করে ফসল ফলাই। কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে সব পরিশ্রম বৃথা যায়। এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তাতে প্রতি কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা লোকসান হচ্ছে।’

কৃষক নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পেঁয়াজ ওঠার মৌসুমে বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধ রাখা উচিত। তা না হলে দেশের কৃষকেরা টিকে থাকতে পারবে না। আমাদের উৎপাদিত পেঁয়াজের সঠিক দাম নিশ্চিত করতে হবে।’

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষকদের খরচ পড়ছে প্রায় ১৯ টাকা। অথচ বর্তমান বাজারে তারা বিক্রি করছেন ১৭ থেকে ১৮ টাকা দরে। ফলে প্রতি কেজিতেই লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমে গেছে। এতে তারাও চাপে আছেন।

এ বিষয়ে কৃষি বিপণন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‌‘পেঁয়াজের ভরা মৌসুমে যাতে আমদানি না হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।’

এ দিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সঞ্জিব মৃধা বলেন, ‘কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, পেঁয়াজ উত্তোলনের পর ১০ থেকে ১৫ দিন জমিতে সেচ না দিতে। এতে কিছুদিন জমিতেই পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং কৃষকেরা ভালো দামের জন্য অপেক্ষা করতে পারবেন।’

সব মিলিয়ে উৎপাদন ভালো হলেও বাজার ব্যবস্থাপনা ও আমদানি নীতির কারণে মেহেরপুরের পেঁয়াজ চাষিরা এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর