1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

ডিজেল সংকটে সৌরবিদ্যুতের নলকূপই কৃষকের ভরসা

কৃষি ও প্রকৃতি ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৮ বার পঠিত

সেচ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ চালিত নলকূপ
নড়াইল সদর উপজেলায় বোরো ধানের ক্ষেতে সেচ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ চালিত নলকূপ। এতে গ্রামের কৃষকদের সেচ খরচ যেমন কমেছে; তেমনই পানির সরবরাহও নিশ্চিত হয়েছে। ফলে তাদের নেই ডিজেল বা বিদ্যুতের চিন্তা। কম খরচে চাহিদামতো পানি পাওয়ায় খুশি তারা।

কৃষকেরা জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের দুটি বিলে সোলার প্যানেলের সাহায্যে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। শুরুতে অনেকের মধ্যে সংশয় থাকলেও এখন এ পদ্ধতির সুফল পাচ্ছেন সবাই।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের ২ বিলে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচপাম্প (অগভীর নলকূপ) স্থাপন করা হয়েছে। এসব পাম্প থেকে দৈনিক ১৬ ঘণ্টায় ৮ লাখ লিটার পানি তোলা সম্ভব। এর মাধ্যমে বোরো মৌসুমে তিনদিন পরপর সেচ দিলে মাটিভেদে ৫০-৬০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টায় ৮৮ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে। একইসঙ্গে ২৪ লিটার ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে। যা কৃষকদের ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার দিকে বড় একটি পদক্ষেপ।

সরেজমিনে জানা যায়, এলাকায় বোরো মৌসুমে পানির কোনো সংকট নেই। অবিরাম চলছে পানির প্রবাহ। মাঠজুড়ে সবুজ ধানের চারা বাতাসে দোল খাচ্ছে। কোনো কোনো জমিতে সেচ দিয়ে পাটের বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। নিয়মিত পানির সরবরাহ থাকায় জমির উর্বরতাও ভালো থাকছে বলে জানান কৃষকেরা।

চাচড়া গ্রামের কাইদুল বিশ্বাস বলেন, ‘সোলার পাম্পের কারণে আমরা কম খরচে বোরো আবাদে সেচ দিতে পারছি। আমাদের ডিজেলের জন্য পাম্পে গিয়ে লাইন দিতে হচ্ছে না। বোরো মৌসুমে অন্যান্য জায়গায় কৃষকেরা সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে। তবে আমাদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই।’

কৃষকেরা জানান, সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পের মাধ্যমে এলাকার অনেকেই সহজে সেচ দিতে পারছেন। ধান ছাড়াও পাট ও শাক-সবজিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। সৌর পাম্পে শ্যালো মেশিনের তুলনায় অনেক গুণ লাভ।

মিতনা গ্রামের বিবেক কুমার বলেন, ‘অনেকে ৭০০ টাকার শ্রম বাদ দিয়ে ধান বাঁচাতে ২০০ টাকার ডিজেল আনতে পাম্পে লম্বা লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। তেলের লিটার ২০০ টাকা, তা-ও সময়মতো পাচ্ছি না। বোরো আবাদে সৌর পাম্পের মাধ্যমে সেচ দেওয়ায় কোনো চিন্তা নেই। সূর্যের আলো থেকে সব হচ্ছে। বিদ্যুতের প্রয়োজন নেই। তেলের দরকার নেই। সরকারের প্রতি দাবি, কৃষকদের জন্য এ রকম সৌর পাম্প প্রত্যেক মাঠে স্থাপন করা হোক। যাতে বোতল নিয়ে পাম্পে গিয়ে বসে থাকা না লাগে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এ প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত দুটি সোলার পাম্প বর্তমানে কৃষকেরা যৌথভাবে পরিচালনা করছেন।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ২-৩ দিন পরপর প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ ধরনের ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং তারা উপকৃত হবেন।’

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর