1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

কালীগঞ্জে ‘বড়শি মৌসুমে’ মাছ শিকারিদের উৎসব

উপজেলা প্রতিনিধি | কালীগঞ্জ (গাজীপুর) |
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৮ বার পঠিত

মূলত বর্ষাকালেই শুরু হয় মাছ ধরার আয়োজন। তবে অক্টোবর থেকে মার্চ সময়টা মাছ শিকারিদের কাছে আনন্দের মৌসুম। কেউ জীবিকার তাগিদে, কেউবা নিছক শখে ছুটে যান জলাশয়ের ধারে। গাজীপুরের কালীগঞ্জের বিল-ঝিল, নদী-নালা আর খালের পাড়ে জমে উঠেছে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার উৎসব।

কালীগঞ্জ উপজেলার বেলাই বিল, আফাইন্নার বিলসহ অন্য জলাশয় ও শীতলক্ষা নদীতে বর্ষায় শুরু হওয়া এই উৎসব অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত চলে। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হয় ‌‘বড়শি মৌসুম’। সকাল থেকেই ডিঙি নৌকা, বাঁশের চেয়ার, ছাতা, টিফিনবক্স নিয়ে হাজির হন শিকারিরা। পেশায় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, চাকরিজীবী সবারই এক পরিচয়, তারা বড়শির টানে ছুটে আসেন জলভরা মাঠে।

সৌখিন শিকারিরা মৌসুমি অভিযানে নামেন। কেউ বড়শি ফেলে নদীর ধারে বসে থাকেন। কেউ আবার ডিঙি নৌকা ভাড়া করে চলে যান জলাশয়ের গভীরে। ‘মাছ ধরার আনন্দটাই আলাদা’। বলছিলেন বেলাই বিলের এক নিয়মিত শিকারি। ‘দিনভর বসে থেকেও যদি একটা বড় মাছ পাই, তাতেই সারাদিনের ক্লান্তি মুছে যায়। টাকা-পয়সা ওঠে কি না, সেটা ভাবি না।’ জানালেন তিনি।

অনেকে জানান, টোপ বানাতে কেউ কেউ শত-হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করেন। কারও কাছে এটি প্রতিযোগিতা, কারও কাছে ধ্যানের মতো অভ্যাস। বিকেল গড়ালে পাড়ে ভিড় জমে দর্শকদেরও। কেউ কৌতূহল নিয়ে দেখেন, কেউ পরামর্শ দেন আবার কেউ মাছ ধরার মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া বলেন, ‘শখের মাছ শিকার আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ। এতে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যায়। আমরা চাই, সবাই নিয়ম মেনে শিকার করুক। ছোট মাছ ছেড়ে দিক। জলাশয়ের ভারসাম্য বজায় থাকুক।’

মাছ ধরা শুধু জীবিকার বিষয় নয়; হয়ে উঠেছে গ্রামীণ বিনোদনের অনন্য মাধ্যম। ছুটির দিনে অনেকে পরিবার নিয়ে আসেন, কেউ রান্না করেন ধরা মাছ দিয়েই। কেউবা বন্ধুর সঙ্গে ছোটখাটো প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।

সূর্যের আলো ঝলমল করলে জলের ওপর বাতাস দুলে উঠলে শুরু হয় বড়শির খেলা। হঠাৎ বড় মাছ টোপে ধরা পড়লে পারে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস। কেউ হাসে, কেউ চিৎকার দেয় আবার কেউ বলেন, ‘এই আনন্দের দাম টাকায় মাপা যায় না!’

জল কমে এলেও শিকারিদের মন থেকে বড়শির টান যায় না। তারা বলেন, ‘মাছ না ধরলে দিনটা অসম্পূর্ণ লাগে।’ কালীগঞ্জের জলাশয়গুলো তাই শুধু জীবিকার উৎস নয়; মানুষ ও প্রকৃতির সংযোগের প্রতীক। বড়শির ফাঁদে শুধু মাছ ধরা পড়ে না, ধরা পড়ে আনন্দ, ধৈর্য আর জীবনের রং।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর