1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

কাঠঠোকরা পাখির অজানা কাহিনি : সানজানা যুথি

কৃষি ও প্রকৃতি ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫১ বার পঠিত

আমাদের প্রকৃতিতে এমনও অনেক বিস্ময়কর পাখি আছে, যারা খুব সহজেই কঠিন কাজ করে ফেলে। বলছিলাম কাঠঠোকরা পাখির কথা। এরা মিনিটে একশ বারেরও বেশি ঠোকরাতে পারে। আর দিনে প্রায় আট থেকে দশ হাজারেরও বেশি গাছ ঠোকরায়। তবে সর্বশক্তি দিয়ে কাঠ ঠোকরালেও এদের মস্তিষ্কে কোনো ক্ষতি হয় না। ক্ষতি না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এদের জিহ্বা। এদের জিহ্বা অবিশ্বাস্য রকমের লম্বা হয়। কখনো কখনো ঠোঁটের প্রায় দ্বিগুণ।

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, কাঠঠোকরা পাখির জিহ্বা মস্তিষ্কের পেছনের দিকে পেঁচানো থাকে। মাথার পেছন ঘুরে আবার তা সামনে চলে আসে। মূলত এই জিহ্বাই কাঠঠোকরা পাখির মাথায় সিট বেল্টের মতো কাজ করে। অর্থাৎ যখন কাঠঠোকরা পাখি গাছে আঘাত করে; তখন তাদের মাথায় বিপরীত প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সেই প্রতিক্রিয়া কাঠঠোকরার জিহ্বা শোষণ করে নেয়। ঠোকরানোর সময় তার মস্তিষ্কের ওপর চাপ কমিয়ে দেয়।

কাঠঠোকরা পাখির কাঠ ঠোকরানোর অন্যতম কারণ হলো খাদ্য সংগ্রহ করা। এরা গাছের ভেতরে থাকা পোকা খেয়ে বেঁচে থাকে। এজন্যই কাঠঠোকরাকে গাছের ডাক্তার পাখি বলা হয়। কারণ এরা গাছের ভেতরে থাকা পোকামাকড় খেয়ে ফেলে, যা গাছের দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার জন্য সহায়ক।

কাঠঠোকরা পাখি খাবারের খোঁজে গাছে ছোট ছোট করে ঠোকরায়। আর যদি বড় করে কোনো গাছে ঠোকরায়, তাহলে বুঝতে হবে এরা থাকার জন্য ঘর তৈরি করছে। মজার ব্যাপার হলো, এরা এক মৌসুমের বেশি এক বাসায় থাকে না। প্রতি মৌসুমে এরা নতুন করে ঘর তৈরি করে থাকে।

পুরাতন গাছের ঘরগুলোতে অন্য পাখি বসবাস করে। বাংলাদেশে বেশ কিছু প্রজাতির কাঠঠোকরা দেখা যায়। এদের মধ্যে বাংলা কাঠঠোকরা, বড় কাঠঠোকরা, মেটেটুপি কাঠঠোকরা, হিমালয়ী কাঠঠোকরা, হলদেচন্দি কাঠঠোকরা। কাঠঠোকরার বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আকার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। বর্ণিল দেহ, লম্বা ও শক্ত ঠোঁট আর পায়ের গড়ন—কাঠঠোকরাকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

শহরের কোলাহল এদের কাঠ ঠোকরানোর শব্দ তেমন শোনা না গেলেও গ্রামাঞ্চলে বেশ পরিচিত কাঠঠোকরা পাখি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, শহরের মতো গ্রামেও গাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এ পাখির সংখ্যা এখন বিলুপ্তির পথে। তাই আমাদের এখনই কাঠঠোকরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি সংরক্ষণে বনায়ন করতে হবে। তবেই বাঁচবে পাখি, বাঁচবে প্রকৃতি।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর