1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

কম খরচে বেশি লাভ, বরই উৎপাদনে আগ্রহী কৃষকেরা

কৃষি ও প্রকৃতি ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৯ বার পঠিত

কম খরচে বেশি লাভ, বাজারে ভালো চাহিদা ও তুলনামূলক কম ঝুঁকির কারণে পিরোজপুরের অনেক কৃষক ধান বা অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে বরই বা কুল চাষের দিকে ঝুঁকছেন। বরই গাছ অল্প সেচেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। ঠিকমতো পরিচর্যা করলে একবার গাছ লাগালে কয়েক বছর ধরে ফল পাওয়া যায়। বরই চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার তারাবুনিয়া গ্রামের বরই বাগানে প্রবেশ করলে গাছে ঝুলতে দেখা যায় সবুজ-হলুদ ও লালচে বরই। আকারে বড় ও স্বাদে সুমিষ্ট হওয়ায় বাগানেই বিক্রি হয়ে যায় সব বরই। সাধারণত আপেল, বলসুন্দরী, থাই ও কাশ্মীরি বরই বেশি চাষ হয়। একটি গাছ থেকে গড়ে ৩০ কেজি বরই তোলা সম্ভব। পিরোজপুরের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ অন্যান্য জেলায় বিক্রি হয়।

কম খরচে বেশি ফলন হওয়ায় বরই চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয়দের। একবার গাছ লাগানোর পর কয়েক বছর ধরে ফলন পাওয়া যায়, যা কৃষকদের জন্য নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি করছে। এ ছাড়া বাজারে বরইয়ের চাহিদা বেশি থাকায় ন্যায্য দাম পাওয়ায় এলাকার কৃষকেরা ধান চাষের পরিবর্তে বরই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ধান চাষ করে খরচ উঠাতে না পারলেও বরই চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন করছেন তারা। একই জমি থেকে আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি আয় করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান বরই চাষিরা।

জানা যায়, পিরোজপুর জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ১৪৬ হেক্টর জমিতে বরই চাষ হয়। যা থেকে প্রায় ১৩২১ মেট্রিক টন বরই উৎপাদন হচ্ছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা।

বরই চাষি বীরেন বিশ্বাস বলেন, ‌‘বরই চাষ করে আমরা অধিক লাভবান হচ্ছি। বিভিন্ন প্রজাতির বরই উৎপাদন হয় এলাকায়। এলাকার অধিকাংশ মানুষ বরই চাষের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়। কখনো ৪ হাজার, কখনো সাড়ে তিন হাজার করে বিক্রি করি। প্রতি একর বরই চাষে আমাদের ২৫ হাজার টাকা করে খরচ হচ্ছে। প্রতি বিঘায় ২ লক্ষাধিক টাকা আয় হয়।’

বীরেন বিশ্বাসের স্ত্রী বলেন, ‘বাগানে বরই তুলি, পরিচর্যা করি, বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা আসেন; তাদের কাছে বিক্রি করি। পিরোজপুর, ইন্দেরহাট, নাজিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বরই কিনতে এখানে পাইকাররা আসেন। প্রতিটি গাছে স্প্রে করা লাগে, সার-ওষুধ দেওয়া লাগে। আগাছা নিরানো লাগে। এ ধরনের কাজ বাগানে করে থাকি।’

তারাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা নারায়ণ চন্দ্র বলেন, ‘আমাদের তারাবুনিয়া গ্রামে ৯০% মানুষ বরই চাষের সাথে জড়িত। এ ছাড়া লিচু চাষ, আম চাষসহ অন্যান্য ফল চাষ করে থাকেন এলাকার মানুষ। প্রতি কেজি বরই ৮০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা আরমান শেখ বলেন, ‘এলাকার মানুষ বরই, আম, লিচুসহ বেশ কয়েকটি ফল উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্বরূপকাঠি, ইন্দেরহাট, পিরোজপুর, কাউখালীসহ অনেক জায়গা থেকে পাইকাররা এসে বরই কিনে নিয়ে যান। ধান উৎপাদনের থেকে এখন বরই উৎপাদন বেশ লাভজনক। স্থানীয় কৃষকেরা বরই উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন।’

জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘পিরোজপুর জেলায় ১৪৬ সেক্টরে কুল চাষ হয়। এ জেলায় তিনটি জাতের বরই চাষ হয়। নারিকেলি, বলসুন্দরী এবং ভারতসুন্দরী। মোট উৎপাদনের পরিমাণ ১৩২১ মেট্রিক টন। বরই চাষিদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সব ধরনের সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া রোগবালাই, সার ব্যবস্থাপনাসহ কৃষকের পরামর্শের জন্য মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তাদের সহযোগিতা করছেন।’

পরিকল্পিতভাবে বরই চাষ করা গেলে কৃষকদের আর্থিক স্বচ্ছলতাও বাড়বে এবং দেশের ফল উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর