1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

ইউটিউব দেখে কালো ধান চাষে সফল শাবান আলী, বাড়ছে কৃষকদের আগ্রহ

কৃষি ও প্রকৃতি ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ৪৩ বার পঠিত

ইউটিউব দেখে নতুন জাতের ধান চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি কলনিপাড়া গ্রামের কৃষক শাবান আলী। প্রচলিত ধানের বাইরে গিয়ে মাত্র এক বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্ল্যাক রাইস চাষ করে তিনি পেয়েছেন আশাতীত সফলতা। কম খরচ, তুলনামূলক কম পরিচর্যা এবং বাজারে অধিক মূল্যের কারণে এই ধান এখন স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

কৃষক শাবান আলী জানান, ইউটিউবের ভিডিও দেখে তিনি প্রথম ব্ল্যাক রাইস চাষ সম্পর্কে ধারণা পান। পরে অনলাইনের মাধ্যমে দুই কেজি বীজ ১২শ টাকায় কিনে ঝুঁকি নিয়ে অল্প জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন। ফলন ও বাজারমূল্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পর তিনি এখন বেশ সন্তুষ্ট।

তিনি জানান, তার সাফল্য দেখে এলাকার অনেক কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তারা ইতোমধ্যে তার কাছে এই জাতের ধানের বীজ নেওয়ার জন্য অগ্রিম যোগাযোগ করছেন।

শাবান আলী আরও জানান, অন্যান্য ধানের তুলনায় এই ধানে সার ও সেচ কম লাগে। তিনি এ পর্যন্ত মাত্র দুইবার সার প্রয়োগ করেছেন, তাতেই ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তার আশা, এক বিঘা জমিতে প্রায় ২০ মণ ধান পাওয়া যাবে। আর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই ধান কাটা ও মাড়াইয়ের উপযোগী হয়ে উঠবে। তিনি আরও বলেন, এ জাতের ধানের বাজারমূল্য তুলনামূলক ভালো বলে জেনেছেন। সঠিক দামে বিক্রি করতে পারলে ভালো লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি আরও বেশি জমিতে ব্ল্যাক রাইস চাষ করার পরিকল্পনা করছেন।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জুয়েল রানা জানান, প্রায় তিন বছর আগে ঢাকার একটি খামার থেকে জোড়পুকুর গ্রামের কাজল প্রথমবারের মতো এ জাতের ধানের বীজ সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন। এরপর থেকে গাংনী উপজেলায় এ ধানের আবাদ ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরও জানান, গত বছর তার মামা চেংগাড়া গ্রামের জুবায়ের হোসেন আড়াই বিঘা জমিতে ব্ল্যাক রাইসের চাষ করেন। সেখানে বিঘাপ্রতি ১৬ থেকে ১৭ মণ ধান উৎপাদন হয়। উৎপাদিত ধান থেকে চাল তৈরি করে প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং ধান বিক্রি করেন প্রতি মণ ৪ হাজার টাকা দরে।

এদিকে শাবান আলীর সফলতা দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন আশপাশের কৃষকরাও।

একই মাঠের কৃষক আশরাফ হোসেন বলেন, শাবান ভাইয়ের জমিতে ভালো ফলন দেখে আমরা অবাক হচ্ছি। সাধারণ ধানের তুলনায় শুনছি এ ধান চাষে খরচ কম লাগছে, আর বাজারে দামও অনেক ভালো। যদি শাবান ভাই লাভবান হন। তাহলে আমরা অবশ্যই আগামী মৌসুমে ব্ল্যাক রাইস চাষ করব।

আরেক কৃষক ডাবলু জানান, আমরা আগে এই ধানের ব্যাপারে তেমন জানতাম না। এখন শাবান আলীর কারণে জানতে পেরেছি। তার জমির ফলন দেখে আমরা উৎসাহিত হয়েছি। যদি সরকারিভাবে সহযোগিতা পাওয়া যায়, তাহলে আমরা বড় পরিসরে এই ধান চাষ করতে চাই।

কৃষক ইছাহক জানান, নতুন জাতের এ ধানের ভালো ফলন ও বাজারমূল্য তাকে বেশ আগ্রহী করে তুলেছে। তাই আগামী মৌসুমে তিনিও শাবান আলীর কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে এ ধানের চাষ শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। পরবর্তীতে ফলন ও বাজার সন্তোষজনক হলে ধীরে ধীরে আবাদ আরও বাড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে তার।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার মতিয়র রহমান বলেন, ব্ল্যাক রাইস চাষের মূল কারণ হচ্ছে এর উচ্চ বাজারমূল্য। সাধারণ ধানের তুলনায় এর দাম অনেক বেশি এবং নির্দিষ্ট কিছু ভোক্তা শ্রেণির কাছে এর আলাদা চাহিদা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ব্ল্যাক রাইস পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে এ ফসলের বাজার আরও সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মেধা জানান, মেহেরপুর সদর ও গাংনী উপজেলায় বর্তমানে মোট দুই বিঘা জমিতে কালো ধানের আবাদ হয়েছে। এই ধানের বাজার যদি ভালো থাকে এবং চাষিরা লাভবান হন, তাহলে জেলার অন্যান্য কৃষকদের এ জাতের ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও কৃষকদের আগ্রহ অব্যাহত থাকলে, মেহেরপুরসহ আশপাশের এলাকায় ব্ল্যাক রাইস চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর