জমির সীমানা নির্ধারণ ও নকশা তৈরির কাজ করে দেওয়ার কথা বলে ৮০ লাখ টাকা ঘুস দাবি করার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের এক সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে এক লাখ টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার হন সার্ভেয়ার মো. আসাদুল ইসলাম। পরে এ ঘটনায় হওয়া মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে, আসাদুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, আসাদুল ইসলাম লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত। এক ব্যক্তির কাছে জমির সীমানা নির্ধারণ-সংক্রান্ত কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি এক লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন তিনি। অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক প্রাথমিকভাবে এর সত্যতা যাচাই করে ফাঁদ অভিযানের পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ওই কার্যালয়ে সার্ভেয়ারের নির্ধারিত কক্ষে অভিযোগকারী আসাদুল ইসলামকে এক লাখ টাকা দেন। টাকা গ্রহণের পর তিনি তা নিজের ডান পাশের সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাকে রাখেন। এ সময় আগে থেকে অবস্থান নেওয়া দুদকের ফাঁদ দলের সদস্যরা তাকে হাতেনাতে আটক করেন।
আদালতে দেওয়া আবেদনে আরও বলা হয়, ঘুসগ্রহণের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে আসাদুল ইসলাম তা স্বীকার করেন। পরে তার ব্যবহৃত সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাক থেকে খাকি রঙের খামে রাখা এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা টাকার নম্বরের সঙ্গে আগের দিন অভিযোগকারীকে দেওয়া টাকার নম্বরের মিল পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ বাদী হয়ে আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করেন।
দুদক সূত্র জানায়, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. মনিরুল ইসলাম ঢাকা জেলার লালবাগ থানার চর-কামরাঙ্গী মৌজায় বিভিন্ন দাগে থাকা মোট ২৮২ শতাংশ জমির মালিকদের কাছ থেকে নিবন্ধিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নেন। জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি পৃথক করা এবং স্কেচম্যাপ তৈরির জন্য গত ২৭ এপ্রিল তিনি ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন।
তবে, প্রায় ছয় মাস লালবাগ রাজস্ব সার্কেলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও জমির সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে তাকে ওই কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে কাজটি করে দেওয়ার বিনিময়ে আসাদুল ইসলাম তার কাছে ৮০ লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন মনিরুল ইসলাম।
বিষয়টি দুদককে জানালে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে ফাঁদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় দুদকের ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এর বিশেষ দল মঙ্গলবার লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে এক লাখ টাকা ঘুসগ্রহণের সময় আসাদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।