1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে এবার ভিন্ন বক্তব্য প্রতিমন্ত্রীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক |
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২২ বার পঠিত

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে এবার ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হচ্ছে, ততদিন শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত এক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তবে এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এমন নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী। সেদিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছিলেন, স্থানীয় সরকার আইনে প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে তিনি তখন বলেছিলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কুল ও কলেজ জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এর বিধি ১১.১৭-এর ‘ক’ ও ‘খ’-তে শিক্ষকদের পদকে লাভজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার আইনের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালার বিষয়টি মিলে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

তখন মীর শাহে আলম আরও জানিয়েছিলেন, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক একই সঙ্গে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। এমপিও নীতিমালার বিধি ১১.১৭-এর ‘খ’-তে আর্থিক লাভজনক পদের সংজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে। সেখানে সরকার প্রদত্ত বেতন-ভাতা ও সম্মানীর পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, আইন পেশাসহ কর্মের বিনিময়ে পাওয়া বেতন-ভাতা ও সম্মানিককে এর আওতায় রাখা হয়েছে।

১৩ সেপ্টেম্বর প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। স্থানীয় সরকার আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবারের সম্মেলনে তিনি সরাসরি বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো আইনি বা নীতিগত বাধা নেই।

সম্মেলনে বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবির প্রতিও একাত্মতা প্রকাশ করেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ আজ হোক, কাল হোক, হবেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যতবার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং মান-মর্যাদা বৃদ্ধি হয়েছে, তা হয়েছে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়ন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাতীয়করণের দাবির বিষয়ে শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয়করণের জন্য বছরে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। শিক্ষকরা সুশৃঙ্খল ও বড় পরিসরের জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করে মানবিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বার্তা পৌঁছালে বর্তমান সরকার অবশ্যই তাদের দাবির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে আসা এই সরকার শিক্ষাখাত পুনরুজ্জীবিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরে যাওয়া প্রায় এক লাখ শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে ভাতা তুলে দিতে এরই মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকার বিশেষ ফান্ড গঠন করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে, যাতে ছাদ ব্যবহার করে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্যানেল বসানো যায়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ছুটির দিনে ও অতিরিক্ত সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে।

বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষা বাজেট তিনগুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষকই একমাত্র পেশা, যা পৃথিবীর অন্য সব পেশার জন্ম দেয়। তারাই সমাজের মূল চালিকাশক্তি এবং গণতন্ত্রের বার্তাবাহক। সমাজ ও রাষ্ট্রে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী যে কোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সংসদ সদস্য ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর