1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

বুড়ি বাঁধে মাছ ধরার উৎসবে হাজারো মানুষ

জেলা প্রতিনিধি | ঠাকুরগাঁও |
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৬ বার পঠিত

কেউ ভেলায় বা ছোট নৌকায়, কেউবা পানিতে কোমরজল ডুবে জাল ফেলছেন সারি বেঁধে। সঙ্গে হাজারো মানুষের কলরব-সব মিলিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সুক নদীর বুড়ি বাঁধ যেন এক উৎসবের মেলা। প্রতি বছরের মতো এবারও বাঁধটিতে শুরু হয়েছে মাছ ধরার উৎসব। এই অনন্য উৎসব দেখতে ও এতে অংশ নিতে নদীজুড়ে ভিড় করেছেন হাজারো মানুষ।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধের জলকপাট খুলে দেওয়ার পর থেকেই নদীর দুই পাড়ে মানুষের ঢল নামে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে শত শত মানুষ জাল, খইলসা ও নৌকা নিয়ে বাঁধের পানিতে নেমে পড়েন। রাতভর মাছ ধরার পর ভোর হতেই শিকারিরা ধরা মাছ নিয়ে ডাঙ্গায় ফিরে আসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সদরের আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের সংযোগস্থলে অবস্থিত বুড়ি বাঁধ, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে। প্রতি বছর বাংলা কার্তিক মাসের শুরুতে বাঁধের জলকপাট খুলে দেওয়া হয়, আর এ সময় আশপাশের এলাকা থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসেন মাছ ধরতে ও দেখতে। তিন থেকে চার দিনব্যাপী এই উৎসবে নদীজুড়ে ধরা পড়ে দেশীয় প্রজাতির নানা মাছ- টাকি, পুটি, মলা, ফলি, শিং, শোল, টেংরা- যা ভালো দামে বিক্রি হয় বাঁধ পাড়ের অস্থায়ী বাজারে।

স্থানীয়দের দাবি, আগের মতো এখন আর তেমন বড়বড় মাছ মেলে না। একজন স্থানীয় মৎস্যজীবী বলেন, আগে রিং জাল দিয়ে অনেকে আগেভাগেই মাছ ধরে ফেলত, তাই এখন মাছ কিছুটা কমে গেছে। কিন্তু তবুও এই উৎসবটাই আমাদের আনন্দের জায়গা-সবাই মিলে একসঙ্গে মাছ ধরা, হাসি-আনন্দ ভাগাভাগি করা যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথা মতে, ১৯৫২ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২ হাজার ৩৮৮ হেক্টর জমির ওপর নির্মাণ করে বুড়ি বাঁধটি, যা পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে সংস্কার করা হয়। চলতি বছর বাঁধটির মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার হেক্টর উঁচু জমির আমন ধানের সেচের চাহিদা পূরণ করা হয়েছে- যা ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, আমরা বুড়ি বাঁধে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে কাজ করছি। এ বছর একাধিকবার অভিযান চালিয়ে রিং জাল ধ্বংস করা হয়েছে। আগামীতে যেন আরও বেশি মাছ পাওয়া যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষ এখন বিনোদনের জায়গা খুঁজে পায় না, তাই এই বাঁধের উৎসব তাদের আনন্দের এক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর