গানের মঞ্চ থেকে নির্বাচনের মাঠ চষে বেড়াছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনির খান। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য শিল্পী মনির খান শুক্রবার দিনভর গাজীপুর-৩ আসনে গণসংযোগ করেন। বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর পক্ষে ধানের শীষে ভোট চান তিনি।
শ্রীপুর উপজেলার মাওনা, শৈলাট, গাজীপুর বাজার, ধনুয়া, হাজী মার্কেট এলাকার হাট-বাজারে দলীয় কর্মী-সমর্থক নিয়ে গণসংযোগ করেন কণ্ঠশিল্পী মনির খান। সন্ধ্যায় সলিং মোড় বাজারে গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এ সময় মনির খান বলেন, গত ১৭ বছর মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেনি। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দেওয়ার সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারেক রহমান দেশের মানুষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছেন, সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য। ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। কিন্তু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে কাজ করছে একটি চক্র। সব ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে সবাই মিলে ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন। যাতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।
এদিকে সলিং মোড়ের পাথারপাড়া আইডিয়াল স্কুল মাঠে এক নির্বাচনী সভায় অংশ নেন ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। প্রধান অতিথির বক্তেব্য তিনি বলেন, এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, জনগণের দেওয়া আমানত রক্ষা করবেন তিনি। নির্বাচনের মাঠে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ।
শ্রীপুর উপজেলা ও গাজীপুর সদরের পিরুজালী, ভাওয়ালগড় ও মির্জাপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাজীপুর-৩ আসন। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় প্রার্থী। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ইজাদুর রহমান মিলন। বহিষ্কৃত হওয়ার আগে তিনি গাজীপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন। কিন্তু দলের নির্দেশনা অমান্য করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল দলীয় পদ হারান। একই সঙ্গে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়। দলের নির্দেশ অমান্য করে ২০২৪ সালের ৮ মে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে দ্বিগুণ ভোট বেশি পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে আর মিলনকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ঘোড়া প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। ইজাদুর রহমান মিলনও সংসদীয় এলাকায় গতকাল গণসংযোগ করেছেন।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের শূরা সদস্য মাওলানা এহসানুল হক। গতকাল শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় জোটের সব শরিক দলের নেতাকর্মীকে নিয়ে নির্বাচনী মিছিল করেছেন। এ সময় জোটের প্রার্থী এহসানুল হক ও অন্যান্য দলের নেতারা রিকশা প্রতীকে ভোট চান।