বাংলাদেশের চির যৌবনা নদী মেঘনা। দেশের দীর্ঘতম নদীও এটি। মেঘনাপাড়ে বেশ কিছু সৈকত আছে, যেখানে পড়ন্ত বিকেল বা সন্ধ্যা নামার মুহূর্তটা বেশ উপভোগ্য। তাই সময় পেলে ঘুরে আসতে পারেন মেঘনার তীর থেকে।
মেঘনাতীরে বিকেলবেলায় মোলায়েম দৃশ্য আর নদীর বুকে ঢেউ খেলা পানি একাকার হয়ে নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। একদিকে যেমন অনিন্দ্যসুন্দর; তেমনই সারি সারি গাছের মাঝে বিকেলের সূর্যের উঁকিটা অন্তরের গভীরে নাড়া দেয় বেশ তীব্রভাবে। তাই পর্যটকদের কাছে অন্যতম একটি উপভোগ্য নদী মেঘনা। বিভিন্ন উৎসবের সময়ে হাজার হাজার পর্যটকের হৃদয়ের জানালা খুলে দেখতে আসেন এমন দৃশ্য।
যখন ক্লান্ত সূর্যটা হেলে পড়ে, ছুটে চলে পশ্চিমা দিগন্তে। সূর্যের মায়াবী রশ্মি যেন মেঘনার জলে মিশে যায়। মেঘনার জলে চোখ ফেরালে যেন আরেকটা সূর্য বিদায় দৃশ্যমান হয়। নদীর বুকে খেলা করে জোয়ার-ভাটার স্রোত। জোয়ার থাকুক আর ভাটা থাকুক, সূর্যাস্তের চিকচিকে আলো নিবিড় সখ্য গড়ে তোলে ঢেউয়ের সঙ্গে।
নদীর গল্পটাই এমন। নিজের সঙ্গে বহন করে অজস্র মানুষকেও। জনপদের দায়িত্বও তার। নদীভাঙন থেকে জনপদকে রক্ষার জন্য থাকে বেড়িবাঁধ। এসব বেড়িবাঁধ রীতিমতো পর্যটকদের মনে জায়গা দখল করে নেয়। কারণ নদীর মনোরম দৃশ্য দেখতে সেখানেই দাঁড়াতে হয়। তাই বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নাগাদ এখানে তরুণদের আড্ডা বেশ জমে ওঠে।
মেঘনার জলের সঙ্গে মিশে থাকা সৈকতকে অনেকে মিনি কক্সবাজার বলেন। এখানে বিকেলবেলার সূর্যরশ্মির সঙ্গে জোয়ার আর ভাটার দৃশ্য বেশ ঝলমলে। আসলে নদীর দৃশ্য অন্য স্থানগুলোর তুলনায় একটু বেশিই ব্যতিক্রম। স্থানগুলোয় প্রিয়জনদের নিয়ে আপনিও ঘুরে মনকে আনন্দ দিতে পারেন।
নদীর এমন দৃশ্য দেখতে বন্ধুদের নিয়ে নিয়মিত নদীর পাড়ে যান অনেকেই। যথাসময়ে আবার ঘরে ফিরে যান তারা। মনের যত দুঃখ-বেদনা, দুশ্চিন্তা আছে, সবগুলোকে ঝেড়ে ফেলতে সূর্যাস্তের দৃশ্য বেশ কাজে দেয়। এজন্য এ অপরূপ ছোঁয়া পেতে আসেন পর্যটকরা। এই অপূর্ব সৌন্দর্য দেখতে যেতে পারেন আপনিও।