1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

মন্দিরের সেবায়েত থেকে জমিদার, রাজা টংকনাথের রাজবাড়ির ইতিহাস : রাইয়্যান ইসলাম

ভ্রমণ ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত

ঠাকুরগাঁও জেলার ​রাণীশংকৈল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার পূর্বে বাচোর ইউনিয়নের কুলিক নদীর তীরে অবস্থিত রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি। রাজবাড়ির নির্মাণশৈলী বেশ সুন্দর, মেঝে মার্বেল পাথরের তৈরি। কারুকাজমণ্ডিত সৌন্দর্য এখনো প্রাচীন রাজভবনটির দেওয়ালে দেখা যায়।রাজবাড়ির ভেতরে পূর্বপাশে আছে একটি অন্দরমহল, পশ্চিমদিকে সিংহদরজা এবং অপরপ্রান্তে দুটি দিঘি। বিশাল এই সিংহদরজা দিয়ে রাজবাড়ির ​ভেতরে প্রবেশ করতে হয়।

রাজবাড়িংসলগ্ন উত্তর-পূর্ব কোণে আছে কাচারিবাড়ি। লাল রঙের দালানটির স্থাপত্যশৈলীতে আধুনিকতার পাশাপাশি ভিক্টোরিয়ান অলংকরণের ছাপ সুস্পষ্ট।​উনিশ শতকের শেষভাগে রাজবাড়িটি নির্মিত হয়। রাজা টংকনাথের বাবা বুদ্ধিনাথের আমলেই রাজবাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বুদ্ধিনাথের মৃত্যুর পরে রাজা টংকনাথ রাজবাড়ির অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, রাজা টংকনাথের পূর্ব-পুরুষদের কেউ জমিদার ছিলেন না।বর্তমান রাণীশংকৈল উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার পূর্বে কাতিহার নামক জায়গায় গোয়ালা বংশীয় নিঃসন্তান জমিদার বাস করতেন। সেই জমিদারের মন্দিরে দেখাশোনার কাজ করতেন টংকনাথের বাবা বুদ্ধিনাথ। গোয়ালা জমিদার ভারত হয়ে কাশি যাওয়ার সময় তাম্রপাতে দলিল করে যান যে, তিনি ফিরে না এলে মন্দিরের সেবায়েত বুদ্ধিনাথ জমিদারির মালিক হবেন।গোয়ালা জমিদার ফিরে না আসায় বুদ্ধিনাথ জমিদারির মালিক হন।

তবে অনেকের ধারণা, এই ঘটনা বুদ্ধিনাথের দু’এক পুরুষ পূর্বেরও হতে পারে। ​জমিদার বুদ্ধিনাথের দ্বিতীয় ছেলে টংকনাথ তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের আস্থা অর্জন করার জন্য মালদুয়ার স্টেট গঠন করেন। বিভিন্ন সময় সমাজসেবামূলক কাজের জন্য ১৯২৫ সালের ১৮ নভেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর হাউজে রাজা টংকনাথকে ব্রিটিশ সরকার ‘চৌধুরী’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

কথিত আছে, টংকনাথের আমন্ত্রণে তৎকালীন ভাইসরয় এবং দিনাজপুরের মহারাজা গিরিজানাথ রায় রাণীশংকৈলে এলে আমন্ত্রিত অতিথিদের টাকার নোট পুড়িয়ে রীতিমতো রাজকীয় অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন করেন। পর্যাপ্ত স্বর্ণালংকার উপহার দেন। ফলে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ‘চৌধুরী’ উপাধি এবং দিনাজপুরের মহারাজা গিরিজানাথ রায়ের কাছ থেকে ‘রাজা’ উপাধি পান।

রাজা টংকনাথের স্ত্রী রাণী শংকরী দেবীর নামানুসারে মালদুয়ার স্টেটের নামকরণ করা হয় রাণীশংকৈল। বর্তমানে এটি রানীশংকৈল উপজেলা নামে পরিচিত। ​দেশভাগের প্রাক্কালে রাজা জমিদারি ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমান। এর মধ্য দিয়ে মালদুয়ার স্টেট অর্থাৎ রাজা টংকনাথ চৌধুরীর জমিদারি পরম্পরার সমাপ্তি ঘটে।বর্তমানে রাজবাড়িটি দেখতে আসেন দূর-দূরান্তের মানুষ। এ ছাড়া প্রতি ঈদের ছুটিতে হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু আসেন রাজবাড়িটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে।লেখক: শিক্ষার্থী, রসায়ন বিভাগ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর