নবী (সা.) বলেছেন, তোমাদের রব অত্যন্ত লজ্জাশীল ও সম্মানিত। বান্দা দুই হাত তুলে দোয়া করলে তা ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জাবোধ করেন।
ইমানদার বান্দার সব দোয়াই আল্লাহ তাআলা কবুল করেন। তবে কবুল হওয়ার ধরন এক রকম হয় না। দোয়া কবুল হয় তিনভাবে:
১. হুবহু চাওয়া জিনিস পাওয়া: যা চেয়েছি, ঠিক সেটাই পেয়ে যাওয়া।
২. তার চেয়ে প্রয়োজনীয় কিছু পাওয়া: যা চেয়েছি তার চেয়েও জরুরি কোনো বিষয়, যা আমি চাইতে ভুলে গেছি বা জানি না, আল্লাহ তা দান করেন।
৩. আখেরাতে সওয়াব পাওয়া: দুনিয়ায় কিছু না পেলেও মৃত্যুর পর আখেরাতে আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে সওয়াব দেন।
অর্থাৎ দোয়া সব সময়ই কল্যাণ বয়ে আনে। তবে যা চাইলাম হুবহু তা পাওয়ার মধ্যেই সব সময় কল্যাণ থাকে না।
যেমন ছোট শিশু অনেক সময় এমন জিনিস চায়, যা তার জন্য ভালো নয়। বাবা-মা তখন তাকে এমন কিছু দেন, যা তার জন্য বেশি কল্যাণকর। এটিও তার চাওয়া পূরণেরই একটি পদ্ধতি।
দ্রুত দোয়া কবুলের ১০টি আমল ও আদব
১. হালাল উপার্জন ও হালাল খাবার
দোয়া কবুলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অন্যতম প্রধান শর্ত হলো হালাল রিজিক। নবী (সা.) বলেছেন, যার দেহ বা সম্পদ হারাম দিয়ে গঠিত, তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে? তাই উপার্জন ও খাবার হালাল রাখার চেষ্টা করুন।
২. কিবলামুখী হয়ে দোয়া করা
যেকোনো দিকে ফিরে দোয়া করলে তা কবুল হতে পারে। তবে বিভিন্ন হাদিস থেকে বোঝা যায়, কিবলার দিকে ফিরে দোয়া করলে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
৩. দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করা
নবী (সা.) বলেছেন, তোমরা কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। “কবুল হতেও পারে, নাও পারে” এমন সন্দেহ নিয়ে নয়, বরং এই বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করুন যে আল্লাহ অবশ্যই কবুল করবেন।
৪. আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ পাঠ করে দোয়া শুরু করা
প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করুন, এরপর নবীজি (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করুন। তারপর নিজের প্রয়োজন চান। এতে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বাড়ে।
৫. দুই হাত তুলে দোয়া করা
হাত না তুলেও দোয়া করা যায়। তবে হাত তুলে দোয়া করার নির্দেশনা হাদিসে আছে। নবী (সা.) বলেছেন, তোমাদের রব অত্যন্ত লজ্জাশীল ও সম্মানিত। বান্দা দুই হাত তুলে দোয়া করলে তা ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জাবোধ করেন।
৬. তাড়াহুড়ো না করা
দোয়া করে কবুল হলো কি না, তা নিয়ে অস্থির বা অতিরিক্ত পেরেশান হওয়া উচিত নয়। দোয়া করে বিষয়টি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিন। নবী (সা.) বলেছেন, বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে। “কেন কবুল হলো না, আমি তো পেলাম না” এমন অস্থিরতা দোয়া কবুলে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
৭. আল্লাহর সুন্দর নামে দোয়া করা
আল্লাহর গুণবাচক নাম ধরে ডেকে দোয়া করুন। যেমন:
ইয়া হাইয়ু (হে চিরঞ্জীব)
ইয়া কাইয়ুম (হে সবকিছুর ধারক)
ইয়া রহমান (হে পরম দয়ালু)
ইয়া রাহিম (হে অতি মেহেরবান)
৮. দোয়া কবুলের বিশেষ সময় খুঁজে নেওয়া
কিছু সময়ে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বেশি। এই মুহূর্তগুলো খুঁজে নিয়ে দোয়া করুন:
তাহাজ্জুদের সময়।
পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর।
বৃষ্টির সময়।
আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়।
জুমার খুতবা চলাকালে।
৯. দোয়া কবুলের বিশেষ স্থান খুঁজে নেওয়া
দোয়া কবুলের জন্য শরিয়তে কিছু বিশেষ স্থানের কথাও এসেছে। সুযোগ পেলে সেসব স্থানে বিশেষভাবে দোয়া করুন।
১০. দোয়া করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা
সব আদব মেনে দোয়া করার পর ফলাফল আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করুন। তিনি যা ভালো মনে করেন, যখন ভালো মনে করেন, সেভাবেই দেবেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. দ্রুত দোয়া কবুলের আমল কী?
হালাল রিজিক, দৃঢ় বিশ্বাস, কিবলামুখী হওয়া, হাত তুলে দোয়া করা, আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ পাঠ, তাড়াহুড়ো না করা এবং কবুলের বিশেষ সময়ে দোয়া করা।
২. দোয়া কবুলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত কী?
হালাল উপার্জন ও হালাল খাবার।
৩. দোয়া কবুলের সময় কখন?
ভোররাত, ফরজ নামাজের পর, বৃষ্টির সময়, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় এবং খুতবা চলাকালে।
৪. দোয়া কবুল না হলে কী করব?
অস্থির না হয়ে ধৈর্য ধরুন। দোয়া কখনো হুবহু কবুল হয়, কখনো তার চেয়ে ভালো কিছু পাওয়া যায়, আবার কখনো আখেরাতে সওয়াব হিসেবে জমা থাকে।
৫. হাত না তুলে কি দোয়া করা যায়?
হ্যাঁ, করা যায়। তবে হাত তুলে দোয়া করা উত্তম এবং হাদিসে এর নির্দেশনা আছে।
শেষ কথা:
দোয়া মুমিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহায়। ওপরের আদবগুলো মেনে, দৃঢ় বিশ্বাস ও ধৈর্য নিয়ে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের কবুলযোগ্য দোয়া করার তাওফিক দান করুন, আমিন।