সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করতে গিয়ে হঠাৎ চোখে পড়ল অবিশ্বাস্য কোনো ঘটনা। কোনো পরিচিত নারীর অশ্লীল বা নগ্ন ভিডিও, আবার হতে পারে কোনো ব্যক্তি এমন কথা বলছেন, যা তিনি কখনো বলেননি, কিংবা এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, যা বাস্তবে ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে না। ভিডিওটি সত্যি, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি তা নিয়ে সন্দেহ জাগতেই পারে। উন্নত এআই প্রযুক্তির কারণে এখন নকল ভিডিওও অনেক বাস্তবসম্মত হয়ে উঠেছে। তবে মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় নিয়ে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করলে ভিডিওটি নিয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সম্ভব।
প্রথম ৫ সেকেন্ড:
ভিডিওতে কোনো ব্যক্তি থাকলে প্রথমেই তার মুখের অভিব্যক্তি, চোখের পলক এবং মুখের নড়াচড়া খেয়াল করুন। এআই দিয়ে তৈরি কিছু ভিডিওতে চোখ-মুখের অভিব্যক্তি অস্বাভাবিক লাগতে পারে। কখনো মুখের আকৃতি বদলে যায়, আবার কখনো কান, চুল বা চোয়ালের আশপাশে ঝাপসা ভাব দেখা যায়। তবে শুধু চোখের পলক কম পড়া কিংবা ত্বক অতিরিক্ত মসৃণ দেখালেই ভিডিওটি নকল, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বাস্তব ভিডিওতেও আলো, ক্যামেরা ও ফিল্টারের কারণে এমনটা হতে পারে।
পরের ৫ সেকেন্ড:
কোনো ব্যক্তি কথা বললে তার ঠোঁটের নড়াচড়া এবং কণ্ঠস্বরের মধ্যে মিল রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। কথার সঙ্গে ঠোঁটের নড়াচড়া বারবার না মিললে ভিডিওটি সম্পাদিত বা এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। কণ্ঠস্বরের স্বাভাবিক ওঠানামা, শব্দের উচ্চারণ এবং কথা বলার সময় মুখের অভিব্যক্তিও খেয়াল করুন। তবে ভিডিওর শব্দ ও ছবি আলাদাভাবে সম্পাদনা করা সম্ভব। তাই এই লক্ষণ একা চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।
১০ থেকে ২০ সেকেন্ড:
এআই ভিডিওতে কখনো হাতের আঙুলের সংখ্যা বা গঠন অস্বাভাবিক দেখা যেতে পারে। কোনো বস্তু ধরার সময় হাতের অবস্থান বদলে যাওয়া, আঙুল একটির সঙ্গে আরেকটি মিশে যাওয়া কিংবা কোনো বস্তু হঠাৎ আকৃতি পরিবর্তন করার মতো অসংগতি খুঁজুন।
শুধু সামনের ব্যক্তিকে দেখলেই হবে না, পেছনের দৃশ্যেও নজর দিতে হবে। দরজা, জানালা, গাছপালা বা আসবাবের আকৃতি ভিডিওর এক অংশ থেকে অন্য অংশে অস্বাভাবিকভাবে বদলে যাচ্ছে কি না, তা খেয়াল করুন। আলো ও ছায়ার দিকেও নজর দিন। একই দৃশ্যে কোনো বস্তুর ছায়া একদিকে এবং অন্য বস্তুর ছায়া অসংগত দিকে পড়লে সন্দেহ হতে পারে।
শেষ ১০ সেকেন্ড: উৎস ও তথ্য যাচাই করুন
ভিডিওটি কে প্রকাশ করেছে, মূল উৎস কোথায় এবং অন্য নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে একই ঘটনার খবর রয়েছে কি না, তা দ্রুত খুঁজে দেখুন। ভিডিওতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ঘটনার দাবি থাকলে তার যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেখুন।
ভিডিওর কোনো স্থিরচিত্র নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করেও আগের কোনো ছবি বা ভিডিওর সঙ্গে মিল খোঁজা যায়। পাশাপাশি, ভিডিওতে এআই-নির্মিত কনটেন্টের লেবেল বা কনটেন্ট যোগ্যতার মতো উৎস-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা যেতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড বা সম্পাদনার সময় এসব তথ্য মুছে যেতে পারে।
৩০ সেকেন্ডের পরীক্ষাই কি যথেষ্ট?
না। এই দ্রুত পরীক্ষায় সন্দেহজনক লক্ষণ ধরা পড়তে পারে, কিন্তু কোনো ভিডিও আসল না নকল, তা নিশ্চিত করা যায় না। আধুনিক এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওতে অনেক সময় এসব অসংগতিও থাকে না। আবার বাস্তব ভিডিও কমপ্রেশন, খারাপ আলো কিংবা সম্পাদনার কারণে অস্বাভাবিক দেখাতে পারে।
তাই ভিডিও দেখে সন্দেহ হলে সেটি যাচাই না করে শেয়ার করবেন না। বিশেষ করে দুর্ঘটনা, নারীর আপত্তিকর ভিডিও, রাজনৈতিক বক্তব্য, আর্থিক লেনদেন কিংবা কোনো ব্যক্তির নামে প্রচারিত বিতর্কিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে মূল উৎস ও একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র মিলিয়ে দেখা জরুরি। মনে রাখবেন, ৩০ সেকেন্ডে ভিডিও যাচাইয়ের প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়, কিন্তু সত্যতা নিশ্চিত করতে আরও তথ্য যাচাই প্রয়োজন।