সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্টের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে স্প্যাম বার্তা এবং ভুয়া অ্যাকাউন্টের সমস্যাও। এ পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের এআই-নির্মিত কনটেন্ট সম্পর্কে সচেতন করতে এবং স্প্যাম শনাক্তে সহায়তা দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে টিকটক। এজন্য অ্যাপের মধ্যেই চালু করা হয়েছে বিশেষ একটি ‘এআই হাব’। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবহারকারীরা এ সুবিধা পাবেন।
টিকটকের এআই হাবে কী থাকছে?
টিকটকের নতুন এআই হাবের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কনটেন্ট সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি এআই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে কী কী বিষয় জানা প্রয়োজন, সে সম্পর্কেও সচেতন হওয়ার সুযোগ থাকবে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে টিকটক কাজ করছে ‘কোয়ালিশন ফর কনটেন্ট প্রোভেন্যান্স অ্যান্ড অথেন্টিসিটি’ (C2PA) জোটের সঙ্গে। এ জোটের লক্ষ্য হলো ডিজিটাল কনটেন্টের উৎস ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও মান উন্নয়নে কাজ করা। এর ফলে এআই দিয়ে তৈরি বা পরিবর্তিত কনটেন্টের উৎস সম্পর্কে তথ্য বোঝার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা সহায়তা পেতে পারেন।
এ ছাড়া এআইয়ের বিভিন্ন টুল নিরাপদে ব্যবহারের উপায় জানাতে নতুন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগও রয়েছে টিকটকের। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কেও ধারণা পাবেন।
স্প্যাম ও ভুয়া অ্যাকাউন্ট নিয়েও উদ্বেগ:
শুধু এআই কনটেন্ট সম্পর্কে সচেতনতা নয়, প্ল্যাটফর্মে স্প্যাম ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিস্তার ঠেকানোও টিকটকের অন্যতম লক্ষ্য। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এআই সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে গত বছর থেকে নোফিল্টার ও রাসবেরি পাই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করছে তারা। এই উদ্যোগের আওতায় স্প্যাম বার্তা নিষিদ্ধ করা এবং ভুয়া অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
টিকটকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে প্ল্যাটফর্মটি ৮ কোটি ৬০ লাখের বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছে। বিপুলসংখ্যক অ্যাকাউন্ট অপসারণের এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, প্ল্যাটফর্মে ভুয়া পরিচয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সংস্থাটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ব্যবহারকারীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?
এআই দিয়ে তৈরি ছবি বা ভিডিও অনেক সময় বাস্তব দৃশ্যের মতো মনে হতে পারে। ফলে কোনও কনটেন্টের উৎস সম্পর্কে ধারণা না থাকলে ব্যবহারকারীরা বিভ্রান্ত হতে পারেন। অন্যদিকে স্প্যাম বার্তা ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতারণামূলক লিংক ছড়ানো বা অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
টিকটকের এআই হাব এ ধরনের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে শুধু এই সুবিধার উপর নির্ভর না করে ব্যবহারকারীদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা, অপরিচিত অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই করা এবং এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট দেখেই সেটিকে সত্য বলে ধরে না নেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে, এআই-নির্ভর কনটেন্টের বিস্তার ও স্প্যামের ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে টিকটক। এই হাব ব্যবহারকারীদের কতটা কার্যকরভাবে সাহায্য করতে পারে, তা নির্ভর করবে এর তথ্য, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ব্যবহারকারীদের সচেতনতার উপর।