যুদ্ধ চলবে নাকি থামবে, সেই সিদ্ধান্ত ইরানের জনগণের হাতে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ আরও দীর্ঘ সময় চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দেশের জনগণের মতামত নেওয়া উচিত।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে না থাকলে তাদের মতামত অনুযায়ী অন্য পথ বেছে নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। গত সপ্তাহের শেষ দিকে ইরানের সাবেক প্রাদেশিক গভর্নরদের এক সমাবেশে এসব কথা বলেন হাসান রুহানি।
এসময় তিনি সরাসরি ‘গণভোট’ শব্দটি ব্যবহার না করলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা তার বক্তব্যকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে জনগণের ভোট আয়োজনের আহ্বান হিসেবেই দেখছেন।
রুহানি বলেন, দেশের জাতীয় লক্ষ্য কী, তা আগে নিজেদের কাছে পরিষ্কার হওয়া দরকার। এরপর সেই লক্ষ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। সরকার যদি জনগণকে বলে যে বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে আরও ২০ বছর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তাহলে জনগণ সেই পরিকল্পনা মেনে নিলে যুদ্ধ চলতে পারে। কিন্তু, জনগণ যদি তা না চায় এবং অন্য কোনো পথ দেখায়, তাহলে সেই মতামতও গ্রহণ করা উচিত।
তবে, যুদ্ধের অবসান সম্মানজনকভাবে এবং দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইচ্ছার সঙ্গে মিল রেখেই করা উচিত বলে মনে করেন রুহানি। তার মতে, এতে যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে, রুহানির এ বক্তব্য ইরানের কট্টরপন্থিদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার নীতির কারণে কট্টরপন্থিরা দীর্ঘদিন ধরেই রুহানির সমালোচনা করে আসছে।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ রুহানির সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক’ বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, রুহানি না বুঝে এসব কথা বলেননি। যুদ্ধের মধ্যে তিনি কী বলছেন এবং কোন পথে এগোচ্ছেন, তা তিনি ভালোভাবেই জানেন।
এছাড়া, তেহরানের সংসদ সদস্য মরতেজা মাহমুদি রুহানিকে বিপ্লবের ইতিহাসে সবচেয়ে ঘৃণিত প্রেসিডেন্ট বলে মন্তব্য করেছেন। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সমর্থনে আয়োজিত একটি সমাবেশে একজন বক্তা রুহানিকে প্রকাশ্যে দেখলে দাঁত ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেন। পরে, ওই বক্তা তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো উচিত বলে মন্তব্য করেন।
২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন হাসান রুহানি। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি। ওই চুক্তির মাধ্যমে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু বিধিনিষেধের বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে সরে যায়।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ