1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

এই গ্রামের পুরুষদের লক্ষ্যই পালোয়ান হওয়া

ফিচার ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ৩৫ বার পঠিত

বলিউডের ভাইজান খ্যাত সালমান খানের সুলতান সিনেমা দেখেননি এমন কোনো সিনেমাপ্রেমী কে খুঁজে পাওয়া কঠিন। সেখানে সালমান খান থাকেন একজন পালোয়ানের চরিত্রে। নব্বই দশকের অনেক পুরুষ সালমান খানকে অনুসরণ করতেন। বিশেষ করে তার ফিটনেসের দিকটায়। তার মতো শরীরের গঠন বানাতে নানান শারীরিক কসরত করতেন।

বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতন প্রায় সবাই। কমবেশি সবাই ফিটনেসের দিকে নজর দিচ্ছেন। তবে আজকের বিশ্বে ফিটনেস শুধু স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয় নয়, বরং অনেকের কাছে এটি একটি জীবনধারা। জিম, যোগব্যায়াম, বডিবিল্ডিং কিংবা কুস্তি-সবকিছুর প্রতিই মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তবে ভারতের রাজধানী দিল্লির উপকণ্ঠে এমন একটি গ্রাম রয়েছে, যেখানে ফিটনেস কোনো ট্রেন্ড নয়; এটি মানুষের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং পরিচয়ের অংশ। দক্ষিণ দিল্লির আসোলা-ফতেহপুর বেরি গ্রামকে অনেকে ‘বাউন্সার ভিলেজ’ বা ‘ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রাম’ নামে চেনেন।

দিল্লির শহুরে ব্যস্ততার খুব কাছেই অবস্থিত এই গ্রামটি বহু বছর ধরেই কুস্তি, শরীরচর্চা এবং শক্তিমত্তার জন্য পরিচিত। ভোরের আলো ফোটার আগেই গ্রামের বিভিন্ন আখড়া ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রে শুরু হয়ে যায় অনুশীলন। এখানকার যুবকদের বড় একটি অংশ নিয়মিত শরীরচর্চা করে এবং নিজেদের ফিট রাখাকে সামাজিক দায়িত্বের মতো মনে করে।

গ্রামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার আখড়া সংস্কৃতি। আধুনিক জিমের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় কুস্তি বা ‘পহেলওয়ানি’ এখনও অত্যন্ত জনপ্রিয়। মাটির আখড়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কুস্তি অনুশীলন করেন তরুণরা। অনেকেই ওজন তোলার পাশাপাশি ট্র্যাক্টর টানা, ভারী টায়ার বহন করা, দড়ি বেয়ে ওঠা কিংবা সহনশীলতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কসরত করে থাকেন। এসব অনুশীলন শুধু পেশিশক্তি নয়, মানসিক দৃঢ়তাও বাড়ায়।

আসোলা-ফতেহপুর বেরিতে ফিটনেসের চর্চা শুরু হয় ছোটবেলা থেকেই। এখানের পুরুষদের ছোটবেলা থেকেই লক্ষ্য থাকে একজন পালোয়ান হওয়া। পরিবারের সদস্যরা শিশুদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চায় উৎসাহিত করেন। স্থানীয় প্রবীণদের বিশ্বাস, নিয়মিত ব্যায়াম একজন মানুষকে শারীরিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাকে আত্মনিয়ন্ত্রিত ও দায়িত্বশীল করে তোলে। তাই এখানে মোবাইল গেম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তুলনায় মাঠ, আখড়া ও খেলাধুলার গুরুত্ব বেশি।

এই গ্রামের খাদ্যাভ্যাসও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কুস্তিগীর ও শরীরচর্চাকারীদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় থাকে দুধ, দই, ঘি, মাখন, বাদাম, ফল এবং উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। অনেকেই নিরামিষভোজী। ধূমপান, মাদক বা অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকাকে এখানে সুস্থ জীবনের অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখা হয়।

তবে এই গ্রামকে সবচেয়ে বেশি পরিচিত করেছে বাউন্সার পেশা। স্থানীয়দের দাবি, গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার থেকেই অন্তত একজন সদস্য নিরাপত্তা পেশার সঙ্গে যুক্ত। দিল্লি-এনসিআরের বিভিন্ন নাইট ক্লাব, পাঁচতারা হোটেল, করপোরেট অনুষ্ঠান, কনসার্ট এবং ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এখানকার যুবকদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শক্তিশালী গড়ন, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন এবং কঠোর প্রশিক্ষণের কারণে তারা এই পেশায় বিশেষ সুনাম অর্জন করেছেন।

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কয়েকজন কুস্তিগীর প্রথম পেশাদার বাউন্সার হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে এটি গ্রামের অনেক তরুণের পেশায় পরিণত হয়। বর্তমানে শত শত যুবক এই খাতে কাজ করছেন এবং অনেকে জাতীয় পর্যায়ের কুস্তি ও বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিচ্ছেন।

আসোলা-ফতেহপুর বেরি আজ শুধু একটি গ্রামের নাম নয়; এটি অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা এবং আত্মনির্ভরতার প্রতীক। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যুগে যেখানে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে, সেখানে এই গ্রামের মানুষ দেখিয়ে দিচ্ছেন যে সুস্থ জীবন, কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় মানসিকতা এখনও সাফল্যের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর