1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল, ময়মনসিংহে জামায়াত নেতার পদ স্থগিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানের কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা বান্ধবীর সঙ্গে ঝগড়ার পর টঙ্গীর মাঠে যান তাহসিফ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন : অর্থায়নে ইলিয়াস-কচি-জাহাঙ্গীর,সমন্বয়ে আলিফ-জুয়েল পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ-অবরোধ : মিরপুর, গাজীপুর ও সাভারে বন্ধ ছয় শতাধিক কারখানার উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বড় সংঘাতের আশঙ্কা : জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির, দেড় শতাব্দী ধরে নির্বিঘ্নে চলছে ধর্ম চর্চা

উপজেলা প্রতিনিধি | সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) |
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২১৫ বার পঠিত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ইউসুফগঞ্জ এলাকা একটি বিরল সম্প্রীতির উদাহরণ। এখানে দেড় শতাব্দী ধরে একই আঙিনায় পাশাপাশি চলছে নামাজ ও পূজা। ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদের পাশেই শ্রী শ্রী সাধুবাবা ব্রহ্মচারী আশ্রম। ১৮৮৩ সালে সূচনা হওয়া এ ধারা আজও অটুট রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এরই মধ্যে কেটে গেছে প্রায় দেড় শতাব্দী। এ সময়ে কখনো কোনো দ্বন্দ্ব বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। মুসলিম ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করছেন, ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন উৎসবের আনন্দও।

মন্দিরের পুরোহিত জানান, মসজিদের মুসল্লিদের নামাজের সময় যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে দিকে তাদের সব সময় খেয়াল থাকে। তিনি বলেন, আমাদের পূজার আয়োজন সব সময় এমনভাবে করা হয় যাতে মসজিদের নামাজে কোনো অসুবিধা না হয়।

মসজিদের মুসল্লি আক্কাস আলী বলেন, “আমরা এখানে দীর্ঘদিন ধরে এক সঙ্গে বসবাস করছি। মুসলমানরা নামাজ পড়ছে, হিন্দুরা পূজা করছে। কোনো সমস্যা হয়নি, হবেও না।”

মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী বিশ্বনাথ দত্ত বলেন, “আজান হলে মুসল্লিরা নামাজ পড়ছেন, আবার পূজার সময় আমাদের অনুষ্ঠানও নির্বিঘ্নে চলছে। উভয়পক্ষ মিলেমিশেই ধর্মীয় আচার পালন করছে।”

ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ইয়াসিন বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায় এখানে পূজা-অর্চনা নির্বিঘ্নে করে আসছেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সব সময় সহযোগিতা করা হয়।”

স্থানীয়দের মতে, ইউসুফগঞ্জের এই মসজিদ ও মন্দিরের পাশাপাশি অবস্থান শুধু ধর্মীয় আচার নয়, সামাজিক সম্প্রীতিরও প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই আঙিনায় দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে যেভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করছেন, তা সোনারগাঁবাসীর কাছে গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।

এলাকার প্রবীণরা মনে করেন, এই চর্চা ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মিলেমিশে চলার যে সংস্কৃতি ইউসুফগঞ্জে গড়ে উঠেছে, সেটি বাংলাদেশের সামগ্রিক সম্প্রীতির প্রতিফলন।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানার রহমান বলেন, “বছরের পর বছর ধরে এখানে মসজিদ ও মন্দিরের কার্যক্রম সমানভাবে চলছে। আসন্ন দুর্গাপূজাও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী। এখানকার সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকবে।”

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর