1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বান্ধবীর সঙ্গে ঝগড়ার পর টঙ্গীর মাঠে যান তাহসিফ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন : অর্থায়নে ইলিয়াস-কচি-জাহাঙ্গীর,সমন্বয়ে আলিফ-জুয়েল পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ-অবরোধ : মিরপুর, গাজীপুর ও সাভারে বন্ধ ছয় শতাধিক কারখানার উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বড় সংঘাতের আশঙ্কা : জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি

রাস্তার পাশের শরবত ও ফলের রস কতটা নিরাপদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক | নাদিয়া সুলতানা মুন |
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৮ বার পঠিত

ঢাকার গরমে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ চোখে পড়ে বরফ ঠান্ডা শরবত – লাল, সবুজ, হলুদ রঙের আকর্ষণীয় পানীয়। ক্লান্ত শরীর, শুকনো গলায় এক গ্লাস শরবত যেন মুহূর্তেই স্বস্তি এনে দেয়। অল্প দামে সহজলভ্য হওয়ায় পথচারীদের কাছে এগুলো খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শরবত ও ফলের রস কতটা নিরাপদ?

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণত লেবুর শরবত, বেলের শরবত, আখের রস, তরমুজ বা পেঁপের জুস বেশি দেখা যায়। অনেক বিক্রেতা এগুলোর সঙ্গে চিনি, লবণ, বরফ, তোকমা দানা, কখনো কৃত্রিম রঙ বা ফ্লেভার মিশিয়ে স্বাদ বাড়ান। কিছু ক্ষেত্রে সিরাপ বা মিষ্টি ঘন দ্রবণও ব্যবহার করা হয়, যার মান বা উপাদান সম্পর্কে ক্রেতাদের কোনো ধারণা থাকে না।

এসব শরবতের মূল উপাদান – ফল – স্বাস্থ্যকর হলেও সমস্যা তৈরি হয় প্রস্তুত প্রক্রিয়ায়। বেশিরভাগ সময় ফলগুলো খোলা অবস্থায় রাখা হয়, ফলে সহজেই ধুলোবালি ও দূষণের সংস্পর্শে আসে। অনেক ক্ষেত্রে ফল ভালোভাবে না ধুয়েই কাটা হয়। একই ছুরি বা ব্লেন্ডার বারবার ব্যবহার করা হলেও তা ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না, যা জীবাণু ছড়ানোর বড় কারণ হতে পারে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো পানির মান। শরবত তৈরিতে যে পানি ব্যবহার করা হয়, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফুটানো বা বিশুদ্ধ করা থাকে না। অনেক সময় রাস্তার কলের পানি বা অজানা উৎসের পানি ব্যবহার করা হয়। একইভাবে ব্যবহৃত বরফও অনেক সময় অপরিষ্কার পানিতে তৈরি হয়। ফলে পানির মাধ্যমেই শরীরে ক্ষতিকর জীবাণু প্রবেশের ঝুঁকি থাকে।

এ ধরনের পানীয় খাওয়ার ফলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিসসহ নানা পানিবাহিত রোগ হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।

তবে সব রাস্তার শরবত যে একেবারেই অস্বাস্থ্যকর, তা নয়। কিছু বিক্রেতা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখেন। কিন্তু বাইরে থেকে তা সবসময় বোঝা যায় না। তাই সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

শরবত খাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করা জরুরি – পানি ও বরফের উৎস পরিষ্কার কি না, ফল ধোয়া হয়েছে কি না, গ্লাস ও যন্ত্রপাতি পরিষ্কার আছে কি না। এসব বিষয়ে সন্দেহ হলে না খাওয়াই ভালো।

গরমে তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তার শরবত সহজ সমাধান মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি। তাই নিরাপদ থাকতে হলে সম্ভব হলে বাসা থেকে পানি বা নিজের তৈরি শরবত সঙ্গে রাখাই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আইসিডিডিআরবি, বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর