1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

পোশাক শিল্পে নিরাপত্তা অগ্রগতি টেকসই করার এটি উপযুক্ত সময়

নিজস্ব প্রতিবেদক |
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১০০ বার পঠিত

শ্রমিকদের অধিকার এবং নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার পাশাপাশি নিরাপত্তা অগ্রগতিকে টেকসই করে তুলতে হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর তৈরি হওয়া নিরাপত্তা শঙ্কা এবং শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে বেশ কয়েকজন ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, বিশেষজ্ঞ ও রপ্তানিকারকের সঙ্গে কথা বলেছে জাগো নিউজ। তারা জানান, শুধু আইন প্রণয়ন নয়, বাস্তব প্রয়োগ, পর্যাপ্ত পরিদর্শন ব্যবস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি ‘প্রতিরোধভিত্তিক নিরাপত্তা সংস্কৃতি’ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে অবস্থিত রানা প্লাজার আটতলা ভবন আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক নিহত হন। গুরুতর আহত হন ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। সেখানে পাঁচটি পোশাক কারখানা ছিল। এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনাগুলোর একটি, যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর বৈশ্বিক ক্রেতা, প্রস্তুতকারক এবং নীতিনির্ধারকরা গার্মেন্টস শিল্পকে নিরাপদ ও টেকসই করতে ব্যাপক উদ্যোগ নেন। কারখানার কাঠামোগত নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে নানা ধরনের সংস্কার ও তদারকি ব্যবস্থা চালু হয়। ফলে আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার বলেন, ‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ কর্মপরিবেশ নিরাপদ করতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু এই অগ্রগতি অর্থবহ করতে হলে এটিকে অবশ্যই টেকসই করে তুলতে হবে। শ্রমিক সুরক্ষায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ, স্বচ্ছ নজরদারি ও কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।’

সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, ‘আমি যদি বৈদ্যুতিক, অগ্নিনির্বাপক ও ভবন নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে চাই, রানা প্লাজা ভবন ধসের সময়ের তুলনায় এখন অনেক ভালো। কিন্তু আত্মতুষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অগ্রগতি ধরে রাখতে এবং উন্নতি টেকসই করতে পর্যবেক্ষণ ও ক্রমাগত উন্নয়ন আবশ্যক।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সিনিয়র রিসার্চ ডিরেক্টর খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বিজনেস ডাইজেস্টকে বলেন, ‘নিরাপত্তা অগ্রগতি টেকসই করার জন্য এটি উপযুক্ত সময়। অন্যদিকে, শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়গুলোকে টেকসই তার অংশ হিসেবে নিতে হবে। শ্রমিকরা শিল্পের অংশ। তাদের যথাযথ অধিকার পাওয়া উচিত।’

বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মক্ষেত্র দাবি করে বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহিল রাকিব বলেন, ‘বাংলাদেশের আরএমজি সেক্টর বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ শিল্প। বাংলাদেশের নির্মাতারা স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পুরস্কার পায়। আমরা এ অগ্রগতি ধরে রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করছি, যাতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি।’

ন্যায্য মজুরি বা জীবনধারণযোগ্য মজুরি সময়ের দাবি
কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অগ্রগতি স্বীকার করে পোশাক শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা ন্যায্য মজুরি বা জীবনধারণযোগ্য মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, ‘শ্রমিক উৎপাদনশীলতার নামে শ্রমিকদের জীবনধারণযোগ্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটা সঠিক শিল্পের জন্য ভালো নয়। আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি ১২ বছর আগের তুলনায় অনেক ভালো। তবে আরও উন্নতির সুযোগ আছে এবং এজন্য কারখানার মালিকদের উচিত তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়া।

আমিন বলেন, ‘বিদ্যমান মজুরি উন্নত জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট নয়। মজুরি বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ফলে শ্রমিকরা অপুষ্টির শিকার হয় এমনকি তাদের সন্তানরাও।’

ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ও শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তাদের মনে রাখা উচিত যে আমাদের অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে, যাদের উৎপাদন ক্ষমতা আমাদের চেয়ে বেশি। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে শ্রমিকদের দায়িত্ব কী এবং তারা কীভাবে তা করবে। ট্রেড ইউনিয়ন তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা উচিত।’

কারখানার মালিক ও সরকারকে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মনোযোগ দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর