1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

নির্ঘুম রাত ওরা কারা?

বিজনেস ডাইজেস্ট ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০২৪
  • ২৬০ বার পঠিত

মঞ্জুর হোসেন ঈসা : ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিলাম।১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ এর পর থেকে ১৯৯৪ সালে আমরা যারা জন্মগ্রহণ করেছি তাদের এসএসসি ব্যাচ প্রায় ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত। এর মধ্যে যারা লেখাপড়া করতে পারিনি তারা আমাদের খেলার সাথী। আমাদের অনেকেই ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে বিবাহ বন্ধনে জড়িয়া পড়িছি।একটি স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা যারা জন্মগ্রহণ করেছি তারা জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক।

আমরা হৃদয় দিয়ে, জীবন দিয়ে দেশটাকে ভালো বাসি।আমাদের অনেকের বাবা-মা মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ গ্রহণ করছেন কিংবা সহযোগিতা করেছেন সবাই সাটিফিকেট তোলার প্রয়োজনীতা অনুভব করে নাই। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের বাপ-চাচারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে আমাদের জন্ম সেই দেশে হতো তখন জন্মসূত্রে আমরা সেই দেশের নাগরিক হতাম।কিন্তু আমরা সবাই প্রিয়জন্মভূমিতেই জন্মগ্রহণ করেছি। আমরা গর্বিত আমরা বাঙালি ও বাংলাদেশী।এখন মুল আলোচনায় আসা যাক।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা অংশ গ্রহণ করছে তারা শতভাগ আমাদের সন্তান। এই ছাত্র সমাজের রক্তে বাংলাদেশের স্লোগান কারন তারা আমাদের সন্তান। আমরা কেউ রাজনীতি করি,কেউ হয়তো করিনা তবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে হৃদয় গভীর থেকে শ্রদ্ধা ও সন্মান ও মর্যাদা দিয়ে থাকি।সেই ছোট্ট বেলায় স্কুলে আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। জাতীয় সংগীত গেয়ে গেয়ে বড় হয়েছি।মহান ভাষা আন্দোলন, মহান স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস নিয়ে আমরা ও আমাদের সন্তানরা গর্ব করে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন শিশু, কিশোর, ছাত্র, পথচারী সবার জন্ম ১৯৭১ সালের পর।জন্মসূত্রে সবাই বাঙালি ও বাংলাদেশী।

যারা আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে তাদেরও জন্ম ৭১’র পর।আর এই ঘটনায় যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের জন্মও ৭১’র পর। তাহলে রাজাকারের গন্ধ কোথায় পেলেন। কেন তাদেরকে এই তকমা দিতে হলো?কার স্বার্থে ১৬ থেকে ২৬ বছরের যুবক,কিশোর কে রাজাকারের বাচ্চা গালি শুনতে হলো।যাদের পিতা-মাতার জন্ম স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের সন্তানরা মেধার অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য রাজপথে নেমে স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর এই তকমা শুনতে হলো। জুলাই মাস ২০২৪ একশো বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে নির্মম ও নৃশংস গণহত্যার মাস,শিশু হত্যার মাস।যারা এই আন্দোলনের সাথে কোনভাবেই সম্পৃক্ত নয় তাদের অনেকে ঘরে থেকে, রাস্তায় এসে অরক্ষিত বুলেটের আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে পৃথিবীকে বিদায় জানাতে হয়েছে।

কেউ কেউ হাসপাতালের বেডে চিৎকার করে বলছে আমার কি অপরাধ? আমাদের কাছে কোন ভাষা নেই। যারা মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপর নির্মম ও নৃশংসভাবে গুলি চালিয়েছে তারা কি কখনো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে? আসলে তারা কারা?তারা কি সত্যি বাংলাদেশের নাগরিক। তারা কি কোন দেশের এজেন্ট হয়ে সুপরিকল্পিত এই জঘন্য অপরাধ করিনি তো?কারন যারা গুলি করেছে তাদেরও জন্ম ৭১’র পর।যে ছাত্রলীগকে উস্কে দেওয়া হয়েছে তারাও আমাদের কারো না কারো সন্তান। কাদের সাহসে এতো বেপরোয়া হয়ে উঠলো ওরা।তোদের কে যারা উস্কে দিয়েছে তারা কি এজেন্ট না রাজাকার?

একজন বাবা হিসাবে এই প্রশ্নটুকু কি করার অধিকার আমার নেই। সেই কালো রাতে আমার ছেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ছিল। পরিবারের কেউ সেই রাতে ঘুমাতে পারনি,আজও ঘুম আসেনা।আমার ছেলের ক্লাসমেট বরিশালের আবিরকে ওরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। ওর অজস্র সহযোদ্ধা জীবন দিয়েছে। আমি বাবা,কিভাবে নিরব থাকতে পারি,চুপ করে থাকতে পারি?এই ভয় থেকে প্রতিবাদ এখন আমার অধিকার। আমাদের সন্তানরা রাজপথে গুলি খাবে আর আমরা বসে থাকবো এমন কাপুরষ বাবা আমরা নই।ইচ্ছে হয় সাইদের মতো বুকটান করে দাঁড়িয়ে থাকি আর চিৎকার করে বলি গুলি কর হারামিরবাচ্চা।আমাদের টাকায় তোর তো বেতন হয়,আমাদের রক্ষা করার জন্য শপথ নিয়েছিলি তুই সেই শপথ ভঙ্গ করেছিস।আমার সন্তানকে হত্যা না করে আমাকে গুলি করে ঝাঁঝড়া করেদে তবুও ওদের বুকে আর একটা গুলি করবিনা।

তুই তো ছোট বেলা থেকে অবাধ্য ছিলি,কোনরকম টেনেটুনে এসএসসি পাশ করে বাপের অবৈধ টাকা দিয়ে চাকরিতে ডুকেছিস।তোর অন্তরে কোন মায়া,মমতা নেই আর এই জন্য তোরা এতো গুলো তাজা প্রাণ কেড়ে নিলি ছিঃ ছিঃ,থুঃ থুঃ।দেখ তোদের কারনে তোদের পেশার কিছু ভালো মানুষ পদত্যাগ করেছে, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সন্মান। সর্বত্র হোক প্রতিবাদ, একজন মা এর প্রতিবাদ, একজন বাবার প্রতিবাদ,একজন বাঙালির প্রতিবাদ, একজন মানুষের প্রতিবাদ। নির্ঘুম রাত,ওরা কারা?

মো.,মঞ্জুর হোসেন ঈসা
একজন বাবা

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর