রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার সাথে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি)সদ্য বিদায়ী কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদকে জড়িয়ে যে নোংরা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তা সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক চরম নৈতিক স্খলন। সস্তা ভিউ আর ‘ক্লিকবাইট’ হেডলাইনের আশায় একটি স্বাভাবিক ও সম্মানজনক পদোন্নতিকে যেভাবে ‘ব্যর্থতার দায়ে বদলি’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে—তা শুধু ভিত্তিহীনই নয়,বরং চরম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
যারা বলছেন “ব্যর্থতার দায়ে বদলি”, তাদের তথ্যগত দৈন্যতা ও অজ্ঞতা সত্যিই করুণ! একটি স্পর্শকাতর ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে পুলিশের মতো একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিয়মিত প্রশাসনিক আদেশকে বিতর্কিত করার এই অপচেষ্টা কি আপনাদের সাংবাদিকতার নীতি? ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে, স্রেফ চমক সৃষ্টির আশায় মনগড়া হেডলাইন দিয়ে আপনারা কেবল একটি বাহিনীর প্রতি জনমনে অনাস্থাই তৈরি করছেন না, বরং নিজেদের পেশাদারিত্বকেও নিলামে তুলেছেন। আপনাদের এই ‘ভিউ-বাণিজ্য’ সাংবাদিকতা নয়, স্রেফ অপপ্রচার!
প্রকৃত সত্যটি জেনে নিন:
বদলি নয়, এটি সম্মানজনক পদোন্নতি: গত ১২ আগস্ট ২০২৬ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে ২০তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের এই চৌকস কর্মকর্তাকে রংপুর রেঞ্জের ‘ডিআইজি’ হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অর্থাৎ, চার খুনের ঘটনার অনেক আগেই তাঁর পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল!
প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায়:
সরকারি নিয়মে বদলি বা পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন (Gazette) জারি হলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাতারাতি নতুন পদে চলে যান না। দায়িত্ব হস্তান্তর (Handover of charge) ও নতুন কর্মকর্তার যোগদানের ওপর ভিত্তি করে এই দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত নিয়ম মেনেই তিনি রংপুর পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সফলতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত:
ব্যর্থতার দায় তো দূরের কথা, গত ২৩ আগস্ট পুলিশ কমিশনার হিসেবে তিনি নিজেই সংবাদ সম্মেলন করে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় চার খুনের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রকৃত তথ্য তুলে ধরেন। সেই ব্রিফিংয়ে নিহত শিশুর নির্মম পরিণতির বর্ণনা দিতে গিয়ে একজন পেশাদার কর্মকর্তার যে মানবিক ও আবেগপ্রবণ রূপ পুরো দেশ দেখেছে, তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
নতুন কমিশনারের যোগদান:
আজ (২৫ আগস্ট ২০২৬) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রজ্ঞাপনে এসবির ডিআইজি মু. মাহবুবুর রশীদকে নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই আবদুল মাবুদ অবমুক্ত হয়ে তাঁর পদোন্নতিপ্রাপ্ত নতুন পদে (রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে) যোগ দিচ্ছেন।
গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ রংপুর পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি অত্যন্ত সুনাম, দক্ষতা ও সফলতার সাথে কাজ করেছেন। প্রিয় সচেতন নাগরিক, অর্ধেক সত্য বা শুধু চমকপ্রদ হেডলাইন পড়ে বিভ্রান্ত হবেন না। গুজবে কান না দিয়ে সত্য জানুন। একজন সৎ, মানবিক ও চৌকস পুলিশ অফিসারকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দিন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই অপসাংবাদিকতাকে বয়কট করুন।
সত্যের জয় হোক! ✨