1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

নহরে জুবাইদা: ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল

ভ্রমণ ডেস্ক | সানজিদা নুসরাত পিংকী |
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৮ বার পঠিত

সেদিন মক্কা সিটি ট্যুর ছিল। আমরা মসজিদে নামিরা থেকে আরাফাতের ময়দানে গেলাম। আরাফাতের ময়দান ঘুরে মুজদালিফা হয়ে মিনা যাওয়ার পথে পুরাতন স্থাপনা লক্ষ্য করি। স্থাপনাগুলো ড্রেনের মতো, পাহাড়ের পাশ দিয়ে চলে গেছে দৃষ্টিসীমার বাইরে। মনে প্রশ্ন জাগে, এগুলো কী? গুগলে সার্চ দিয়ে হতবাক হয়ে গেলাম। এই হলো নহরে জুবাইদা! নহরের সমার্থক সরু, স্রোতস্বিনী, জলধারা, খাল, নালা।

আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের স্ত্রী জুবাইদা বিনতে জাফর মক্কায় হজযাত্রীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল খনন করেছিলেন। যা হজের সময় পানির অভাব দূর করে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। খালটি তায়েফের কাছের ঝরনা থেকে পানি এনে মক্কা পর্যন্ত পৌঁছে দিতো। জুবাইদা নিজে এই বৃহৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা করে ব্যয়ভারও বহন করেন।

নহরে জুবাইদা ইসলামি প্রকৌশল ও মানব সেবার বিস্ময়কর নিদর্শন হিসেবে বিদ্যমান। জুবাইদা অত্যন্ত বিদুষী, ধর্মপরায়ণ ও পরোপকারী একজন নারী ছিলেন। জুবাইদা জাফর ইবনুল মানসুরের মেয়ে। জাফর ইবনুল মানসুর খলিফা হারুনুর রশিদের চাচা। জুবাইদার আসল নাম ছিল আমাতুল আজিজ। তার দাদা আল-মানসুর তাকে আদর করে ‘জুবাইদা’ (ছোট মাখনের টুকরা) ডাকতেন। কালক্রমে তিনি ‘জুবাইদা’ নামেই পরিচিতি লাভ করেন।

নহরে জুবাইদা নির্মিত হয়েছিল ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে। এটি ইরাকের নু’মান উপত্যকা থেকে শুরু হয়ে তায়েফের পাশ দিয়ে আরাফাহ হয়ে মক্কার দিকে পানি সরবরাহ করতো। প্রায় এক হাজার বছর ধরে সচল থাকলেও বর্তমানে কিছু অংশ অবশিষ্ট আছে; তবে ব্যবহৃত হয় না।

ভদ্রাবতীর পাড়ে কুমারপল্লি:
নহরে জুবাইদা কঠিন ভূখণ্ডে সুড়ঙ্গ ও জলপ্রণালি তৈরি করে, বিশাল প্রকৌশল কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছিল। এর নির্মাণে বেশ বাধা অতিক্রম করতে হয়েছিল। কঠিন শিলা কেটে খাল তৈরি করা এর অন্যতম। এটি একটি জটিল প্রকৌশল, যেখানে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ, খালের অংশ এবং জলাধার নির্মাণ করা হয়েছিল, যা পানিকে বাষ্পীভবন থেকে রক্ষা করতো।

সে সময় মক্কায় জমজম ছাড়া পানির উৎস ছিল না। হজে প্রচুর মানুষের ভিড়ে পানির তীব্র সংকট দেখা দিতো। উচ্চ মূল্যে পানি ক্র‍য় করতে হতো। খলিফা হারুনুর রশিদের আমলে পানির অভাব বেশ তীব্র ছিল। তখন এক বালতি পানি বিক্রি হয় ২০ দিরহামে। ১৯৩ হিজরিতে খলিফার মৃত্যুর পর রানি জুবাইদা হজ পালন করতে মক্কা যান। পানির সমস্যা দেখে তিনি একটি খাল কাটার সিদ্ধান্ত নেন।

নহরে জুবাইদা খননে আনুমানিক ১৭ লাখ দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) খরচ হয়। জুবাইদার খাল খননের ফলে হাজিদের জন্য বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত হয়। এই ব্যবস্থা মক্কা ও আশেপাশের এলাকার কৃষকদেরও উপকৃত করেছিল। তারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে খালের পানি ব্যবহার করতো। তিনি মক্কা ও মদিনার পথে মুসলিম হজযাত্রীদের জন্য কূপ, জলাধার এবং কৃত্রিম পুল তৈরি করেন।

‘দারব জুবাইদা’ (জুবাইদার পথ) নামে পরিচিত পথটির উন্নয়নেও ভূমিকা রাখেন। খালটি শুধু পানিই সরবরাহ করতো না বরং বাগদাদ থেকে মক্কা পর্যন্ত বিস্তৃত ‘দারব জুবাইদা’কে (হজ্জ্বযাত্রার পথ) সুগম করে তোলে। হজযাত্রীদের সুবিধার জন্য পথে বিশ্রামস্থল, কূপ, পুকুর ও বাতিঘর স্থাপন করা হয়। নহরে জুবাইদা কেবল মক্কার হাজিদের পানির সংকট দূর করেনি বরং শত শত বছর ধরে মুসলিম উম্মাহর সেবা ও নারীর দূরদর্শিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

আজকের যুগেও অনেক ক্ষেত্রেই মুসলিম নারীরা অবহেলিত। সেই সময় রানী জুবাইদা কি চিন্তা করেছিলেন! এর ফলপ্রসূ বাস্তবায়নও বাকি রাখেননি। নারী জাগরণের ইতিহাসে তাকে উদাহরণ হিসেবে বলাই যায়। তিনি অনেক নারীর অনুপ্রেরণা। মুসলিম সভ্যতার ইতিহাসে রানী জুবাইদার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

নহরে জুবাইদা শুধু একটি জলধারা ছিল না, এটি রানী জুবাইদার প্রজ্ঞা, উদারতা এবং মুসলিমদের প্রতি ভালোবাসার বহিপ্রকাশ ছিল। বর্তমানে এটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত। একটি কালজয়ী স্থাপনা, যা ছিল প্রকৌশল ও মানবতার অপূর্ব মেলবন্ধন।

নহরে জুবাইদার ভগ্নাবশেষ এখনো আরাফাতের ময়দান, মুজদালিফা ও মিনার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নহরটি এখন আর পুরোপুরি সক্রিয় জলধারা না হলেও আমার মতো অনেক পর্যটক ও হাজি নহরে জুবাইদা দেখতে মিনা ও আরাফাতের ময়দানে ছুটে যান। নহর দেখার পরে তারা অভিভূত হয়ে যান এবং মহীয়সী নারী জুবাইদার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে থাকেন।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর