দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আবারও সরকারি পর্যায়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব বর্তমানে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। সব প্রক্রিয়া ঠিকঠাক এগোলে আগামী সপ্তাহে অথবা চলতি আগস্টের শেষ দিকে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মন্ত্রিসভা প্রস্তাবটি অনুমোদন করলে পরবর্তী সময়ে প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে নতুন পে স্কেল কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মন্ত্রিসভা প্রস্তাবটি অনুমোদন করলে পরবর্তী সময়ে প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে নতুন পে স্কেল কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এর আর্থিক প্রভাব। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আইএমএফের পক্ষ থেকে পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা বিলম্বিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
তবে সরকার পুরোপুরি বাস্তবায়ন স্থগিত না করে দেশের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের উপায় খুঁজছে। এ ক্ষেত্রে একবারে পুরোপুরি বাস্তবায়নের পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে পে স্কেল চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল চালুর পর প্রায় এক দশক পার হলেও নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট হলেও জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন পে স্কেলের প্রয়োজনীয়তা ও দাবি দিন দিন আরও জোরালো হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
সুপারিশে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল নবম পে স্কেলের সুপারিশগুলো পুনর্মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। অতিরিক্ত এই ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষতা ও শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন হবে।Government
এদিকে নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও প্রত্যাশা বাড়ছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি ঠিক কবে উঠবে, অনুমোদনের পর কখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং শেষ পর্যন্ত কী ধরনের বেতন কাঠামো কার্যকর হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।