নিজস্ব প্রতিবেদক : ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত ও আহতদের রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি। এমন অবস্থায় নিজেদের দাবি আদায়ের বিষয়ে আরো ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন সাউথ এশিয়া পার্সপেক্টিভসের নির্বাহী সম্পাদক মুশফিকুল ফজল আনাসারী।
নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথগ্রহণ করেছেন গত ৮ই আগস্ট। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যখন তিনি কাঁধে নিয়েছিলেন, তখন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চলছিল অস্থিরতা।
বিশেষত, পুলিশ বাহিনীতে ভয়াবহ আতঙ্ক ও পূর্ববর্তী ক্ষমতাসীনদের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করার অপরাধবোধ নিয়ে অনুশোচনায় ভুগছিলেন তারা। পরবর্তীতে ১২ই আগস্ট থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর নির্দেশনা ও দেশপ্রেমের জায়গা থেকে কর্মে ফিরে আসেন পুলিশ সদস্যরা।
নতুন সরকার যখন দেশবিরোধী শক্তির আন্তর্জাতিক নানান ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ব্যস্ত, তখন কিছু মানুষ নানান দাবি নিয়ে প্রতিনিয়ত রাজপথ দখলে নিচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের আওতায় চাকরিরত আউটসোর্সিং কর্মচারী, গ্রাম পুলিশ ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবীরা তাদের বিবিধ দাবিতে সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন।
এর ফলে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বেড়েছে জনদুর্ভোগ। সেইসাথে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন সরকারের উপদেষ্টারা।
মুশফিকুল ফজল আনসারী ফেসবুকে লিখেন, পলাতক গোষ্ঠী হারানোর বেদনা নিয়ে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। অনেকে আবার না পাওয়ার বেদনায় রুষ্ট।
দাবি আদায়ে আন্দোলনকারীদের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি লিখেন, কোথায় ছিল এরা এতদিন? গর্ত থেকে বেরিয়ে হঠাৎ অতি বিপ্লবী! কেবল নিজেদের সুবিধা আদায়ের জন্য? বুঝলাম, বঞ্চনার শিকার। সময় দিন, ধৈর্য ধরুন।
সময়তো আর চলে যাচ্ছে না! মাসুম বাচ্চাদের রক্তের দাগ শুকায়নি আর আপনারা নেমে পড়েছেন হিস্যা আদায়ে? ছাত্ররা এখনও লক্ষ্যে স্থির এবং সংকল্পে অটুট। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণ তাদের দিয়েই সম্ভব। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে কোনো কিছুই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে না যায়।