1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

তরুণদের স্মৃতিতে জুলাই বিপ্লব ও প্রত্যাশা

ফিচার ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৫ বার পঠিত

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। বৈষম্যহীন নতুন রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্নে সেদিন অকাতরে প্রাণ বিলিয়েছিলেন দেশের অকুতোভয় ছাত্র-জনতা। বিজয়ের দুই বছর পর দাঁড়িয়ে বিপ্লবের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, শহীদদের স্মৃতি ও আগামীর প্রত্যাশা নিয়ে বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন বিজনেস ডাইজেস্টের নিজস্ব প্রতিবেদক।

মেধার লড়াই থেকে গণজাগরণ
মুহাম্মদ শাফায়াত হুসাইন
শিক্ষার্থী,কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, কুষ্টিয়া

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে মেধার ন্যায্য মূল্যায়নের যৌক্তিক দাবিতেই সূত্রপাত ঘটে কোটা সংস্কার আন্দোলনের। শুরুতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আর ন্যায়ের দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছিল। তাদের মূল প্রত্যাশা ছিল আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক সমাধান। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সংলাপের পথ রুদ্ধ করে দমন-পীড়ন, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও নির্বিচার গ্রেপ্তারের পথ বেছে নেয়।

রাষ্ট্রীয় এই নির্মমতার মুখে শিক্ষার্থীদের দাবি আর শুধু কোটা সংস্কারে সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা দ্রুতই সরকার পতনের ‘এক দফা’ দাবিতে রূপ নেয়। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব ছাড়াই ভয়হীন তরুণেরা রাজপথের নিয়ন্ত্রণ নেয়। নেতৃত্বের শূন্যতাকে তারা নিজেদের ঐক্য ও ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তায় শক্তিতে পরিণত করে। নিজেদের সিদ্ধান্তে অদম্য সাহসের সঙ্গে মাঠ সামলে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই জুলাই আন্দোলনকে ঐতিহাসিক মাত্রায় উন্নীত করে।

অদম্য সাহস ও আত্মত্যাগের জুলাই
আশিক বিন আলম সোহাগ
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ,চট্টগ্রাম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র-জনতার অদম্য সাহস ও আত্মত্যাগের এক অনন্য মহাকাব্য। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন যেভাবে অতি দ্রুত সমগ্র জাতির লড়াইয়ে রূপ নেয়, এটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রিকশাচালক, শ্রমিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও অভিভাবকসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ সেদিন রাজপথে নেমে শিক্ষার্থীদের পাশে অটল প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কেউ খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দিয়েছেন, কেউ আহতদের চিকিৎসা করেছেন, কেউবা আবার নিশ্চিত করেছেন নিরাপদ আশ্রয়। এই অভূতপূর্ব সংহতি প্রমাণ করেছে, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও অধিকার রক্ষার সংগ্রামে বাংলাদেশ কখনো বিভক্ত নয়। ছাত্র-জনতার পারস্পরিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা ও আত্মত্যাগই এই আন্দোলনকে সর্বাত্মক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক মেলবন্ধন কেবল বিজয়ের স্মারক নয়; বরং নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে স্বাধীনতার মূল্যবোধ চিরকাল জাগ্রত রাখার এক অমলিন প্রেরণা।

স্মৃতির পাতায় রক্তিম জুলাই
মো.মিজানুর রহমান
শিক্ষার্থী, সরকারি তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদবিরোধী এক রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের নাম। সরাসরি অংশ নেওয়া ও স্বচক্ষে দেখা এই লড়াইয়ে তরুণদের আত্মত্যাগ কখনোই ভোলার নয়। ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে ফ্লাইওভারের নিচে সহযোদ্ধাদের রক্তাক্ত নিথর দেহগুলো বসন্তের ঝরা পাতার মতো স্তূপ হয়ে থাকতে দেখেছি। ভয়াবহ সেই অধ্যায়টি আমার কাছে এক ‘বিষাক্ত বসন্ত’, যা আজও আমাকে গভীর মানসিক যন্ত্রণায় তাড়া করে ফেরে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই গণঅভ্যুত্থানে ১৪০০-এর বেশি মানুষ শহিদ হয়েছেন। যারা আহত হয়ে এখনো হাসপাতালের বিছানায় লড়ছেন, তাদের যন্ত্রণা অবর্ণনীয়। আমাদের দাবি, প্রশাসনকে অবিলম্বে শহীদ পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আহতদের সুচিকিৎসা এবং সরকারি চাকরি বা মুক্তিযোদ্ধা ভাতার মতো সম্মানজনক সুযোগের আওতায় আনতে হবে। এই বীরদের মহান আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

ইন্টারনেট শাটডাউন ভেঙে জুলাইয়ের গর্জন
মাহজাবীন তাসনীম রুহী
শিক্ষার্থী, এমসি কলেজ, সিলেট

ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনে ইন্টারনেট শাটডাউন কেবল প্রযুক্তিগত বাধা ছিল না, বরং এটি ছিল তথ্যপ্রবাহ রোধ ও বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করার সুপরিকল্পিত কৌশল। হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় পরিবার, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে প্রবল উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু তরুণ প্রজন্ম সাহসিকতার সঙ্গে অফলাইন নেটওয়ার্ক, এসএমএস ও ব্লুটুথের মতো বিকল্প উপায়ে তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রাখে।

ইন্টারনেট আংশিক সচল হতেই ছবি, ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার মাধ্যমে আসল সত্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে বিশ্বজনমত গঠনে অসামান্য ভূমিকা রাখেন। এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, সাময়িকভাবে সত্য দমিয়ে রাখা গেলেও মানুষের ঐক্য ও সাহসী উদ্যোগের কাছে তথ্যপ্রবাহ কখনোই স্তব্ধ হয় না।

রক্তের দামে কেনা বিজয়
তানজিলা আক্তার তানু
শিক্ষার্থী, সরকারি আদমজীনগর এম ডব্লিউ কলেজ, নারায়ণগঞ্জ

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এক অবিস্মরণীয় দিন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সেদিন পতন ঘটে দেড় দশকের ভয়ের সংস্কৃতির। ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির চূড়ান্ত চাপে রচিত হয় নতুন ইতিহাস। ৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে আমি তখন শয্যাশায়ী। পরদিন দুপুর ১টায় সহযোদ্ধা নাহিদ ভাইয়ের ফোনে ‘ঈদ মোবারক’ শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাই। বাবা এসে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘বাংলা আবার স্বাধীন হয়েছে, চলো বিজয় মিছিলে।’ বাবার হাত ধরে রাস্তায় নামতেই দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছিল; মনে পড়ছিল আন্দোলনের প্রতিটি ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা। ৫ আগস্টের বিজয় আমাদের শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার এক নতুন সম্ভাবনা এনে দিয়েছে। তবে এই অর্জনকে ধরে রেখে একটি সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জুলাই বিপ্লব: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি
ফারনাজ মুক্তা
শিক্ষার্থী, নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজ, নরসিংদী

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান কেবল স্বৈরাচারী সরকারের পতন ছিল না; তা ছিল শোষণ, দুর্নীতি ও বেকারত্বমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার বজ্রশপথ। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই স্বপ্নের কাঙ্ক্ষিত বাস্তবায়ন আজ বড় প্রশ্নের মুখে। স্বৈরশাসনের অবসান ঘটলেও প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে পুরোনো বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার ছায়া এখনো বিদ্যমান। নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষার এই লড়াই আমাদের এক কঠিন যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বর্তমানের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও নীরবতাই নির্ধারণ করবে আগামীর পথরেখা। শহীদদের রক্তে রঞ্জিত রাজপথে অর্জিত স্বাধীনতার আলো যেন ক্ষণিকের অবহেলা কিংবা নীরবতার আঁধারে নিভে না যায়। এই মহান অর্জনকে শুধু স্মরণে রাখা নয়, বরং তাকে রক্ষা ও হৃদয়ে ধারণ করাই হোক আমাদের সবার পবিত্র যৌথ অঙ্গীকার।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর