জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পরও রাজধানীর বাজারে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়ে বাজারে ঊর্ধ্বগতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। তবে গতকাল ও আজকের মধ্যে অধিকাংশ পণ্যের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
খুচরা বিক্রেতা ও বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম পরিবহন খরচে পুরোপুরি প্রতিফলিত হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে নিত্যপণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকার রোববার রাতে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। নতুন দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, চাল, ডাল, আটা, ময়দা, চিনি, তেল, সবজি, মাছ ও মাংসের দামে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। বিক্রেতারা বলছেন, আজকের বাজারে যে পণ্য বিক্রি হচ্ছে, তার বড় অংশ আগেই পরিবহন করে বাজারে আনা হয়েছে। ফলে নতুন জ্বালানি দরে পরিবহন খরচের হিসাব এখনো পুরোপুরি যুক্ত হয়নি।
মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা আবু হোসেন বলেন, ‘আজ আলাদা করে দাম বাড়ানোর মতো পরিস্থিতি হয়নি। তবে পাইকারি বাজার থেকে আগামী দু-একদিনে বেশি দামে পণ্য কিনতে হলে খুচরা দামও বাড়াতে হবে।
রামপুরার এক মুদি দোকানি বলেন, ‘পরিবহন খরচ বাড়লে শুধু একবার পণ্য আনার খরচ বাড়বে না। পাইকার থেকে খুচরা—প্রতিটি ধাপে খরচ বাড়বে। তখন পণ্যের দামে সেটার প্রভাব পড়বে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে আগে পড়তে পারে পণ্য পরিবহনে। কৃষিপণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে তা জেলা বা মোকামে নেওয়া, সেখান থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজারে আনা এবং পরে খুচরা দোকানে পৌঁছানো—প্রতিটি ধাপেই পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা রয়েছে। ফলে ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব একধাপে না এসে কয়েকটি ধাপে বাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এসব বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, এ ঘোষণার পর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কারণ জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকার প্রায় সব বিষয়ই আন্তঃসম্পর্কিত।
নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শিল্প-কলকারখানা, অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বাসাবাড়িসহ সব জায়গায়ই খরচ বাড়বে। এসব খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত বাড়তি টাকা ভোক্তার পকেট থেকেই যাবে। এতে মানুষের খরচের পাল্লা ভারী হবে। একইসঙ্গে অন্যান্য পণ্য ও সেবার সঙ্গে জ্বালানি তেলের সম্পর্ক থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও আরেক দফা বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, এর আগে ব্যবসায়ীরা ইরান-সংকটসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম দফায় দফায় বাড়ার কারণ দেখিয়েও তারা বিভিন্ন সময়ে দাম বাড়িয়েছেন। এবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে তারা আরেক দফা দাম বাড়াবেন। এরই মধ্যে চিনি, সয়াবিন তেল, ময়দা, আটা, গরুর দুধসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। এখন এসব পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।