1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল, ময়মনসিংহে জামায়াত নেতার পদ স্থগিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানের কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা বান্ধবীর সঙ্গে ঝগড়ার পর টঙ্গীর মাঠে যান তাহসিফ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন : অর্থায়নে ইলিয়াস-কচি-জাহাঙ্গীর,সমন্বয়ে আলিফ-জুয়েল পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ-অবরোধ : মিরপুর, গাজীপুর ও সাভারে বন্ধ ছয় শতাধিক কারখানার উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বড় সংঘাতের আশঙ্কা : জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ক্রীড়া কূটনীতিতে নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক |
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৭ বার পঠিত

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের পরিধি দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্য, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে বিস্তৃত। দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের ৫০ বছর পেরিয়ে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে সামনে আসছে খেলাধুলা। ক্রীড়াক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা কূটনীতিকে নিচ্ছে অনন্য উচ্চতায়।

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) ও চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক যোগাযোগ, সমঝোতা স্মারক, প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থী বিনিময় দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্ককে দিচ্ছে নতুন মাত্রা। বিভিন্ন ফেডারেশন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও যাচ্ছে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন বার্তা।

বাংলাদেশ চীনকে ক্রিকেট শেখাচ্ছে। চীন বাংলাদেশকে শেখাচ্ছে উশু, টেনিস কিংবা টেবিল টেনিস। চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রীড়া বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা। খেলোয়াড়রা নিচ্ছেন বিভিন্ন প্রশিক্ষণ। আবার চীনও সহযোগিতা নিচ্ছে বাংলাদেশের প্রশিক্ষকদের। যে বিষয়গুলো দুই দেশের কূটনীতিকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দেশের মধ্যে নানান ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সামনে আসে ক্রীড়াক্ষেত্রেরও বেশকিছু কার্যক্রম।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও যুব উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার কথা বলা হয়


প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও যুব উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার কথা বলা হয়

গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালে দেশটির সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের যৌথ বিবৃতিতে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও যুব উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব পায়। গত মার্চ মাসেও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বৈঠকে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ক্রীড়া সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে খেলাধুলা বিষয়ক পড়াশোনা কিংবা প্রশিক্ষণের জন্য প্রধান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। ক্রীড়াক্ষেত্রে বড় বড় খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে এ প্রতিষ্ঠান থেকে। চীনের সঙ্গে ক্রীড়া বিষয়ে সম্পর্ক নিয়ে কথা হলে বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘চীনের সঙ্গে ক্রীড়াক্ষেত্রে বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের মধ্যে যে সম্পর্ক, এটাকে বলব- অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছে। পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় মাত্র ১০ ভাগের এক ভাগ খরচে চীন থেকে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সুবিধা মিলছে। এটি উভয় দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সম্পর্ককে নিয়ে যাচ্ছে উচ্চমাত্রায়।’

একাডেমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্তমানে বিকেএসপির সঙ্গে চীনের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি হাসপাতালের সমঝোতা চুক্তি আছে। যার ভিত্তিতে দুই পক্ষের মধ্যে ক্রীড়া যোগাযোগ আরও জোরদার হয়েছে। নতুন রূপ পেতে যাচ্ছে সম্পর্ক।

বাংলাদেশ-চীনের ‘ক্রীড়া কূটনীতি’
বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রীড়া সম্পর্ক পুরোনো হলেও এখন তা প্রাতিষ্ঠানিক ও বহুমাত্রিক রূপ পাচ্ছে। ক্রিকেট ও উশু- এই দুই খেলায় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার সূচনা ২০০৭ সাল থেকে। এছাড়া অন্য অলিম্পিক ইভেন্টগুলোতেও বাংলাদেশে বেড়েছে চীনা সহযোগিতা।

ক্রিকেট:
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কের সূচনা ২০০৭ সালে। মূলত এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল চীনাদের ক্রিকেট শেখানোর মূল দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সম্প্রতি চীনা নারী ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফাতেমা তুজ জোহরা এবং সাবেক পেসার মঞ্জুরুল ইসলাম।

২০১০ সালে গুয়াংজু ও ২০২৩ সালে হাংজুতে এশিয়ান গেমস আয়োজন করে চীন। যেখানে অন্যতম ডিসিপ্লিন ছিল ক্রিকেট। দুই আয়োজনেই ক্রিকেট মাঠ, উইকেট তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ গ্রাউন্ডসম্যান জসিম। বিসিবিও এক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছিল।

এ বিষয়ে কথা হলে বিসিবির প্রধান নির্বাহী (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের মাধ্যমেই সদস্য হিসেবে তারা বিভিন্ন সময় আমাদের সহযোগিতা চেয়েছিল, আমরা সহযোগিতা করেছি। ভবিষ্যতেও চীনারা তাদের দেশে ক্রিকেটের উন্নয়নে সহযোগিতা চাইলে আমরা সব সময়ই প্রস্তুত।

চীনা নারী ক্রিকেট দলের টেকনিক্যাল কোচ ছিলেন বাংলাদেশের ফাতেমা তুজ জোহরা


দুই বছরের বেশি সময় চীন নারী ক্রিকেট দলের টেকনিক্যাল কোচ ছিলেন বাংলাদেশের ফাতেমা তুজ জোহরা। এখন তিনি কাতার নারী ক্রিকেট দলের কোচ। দোহা থেকে ফাতেমা চীনের নারী ক্রিকেটের অগ্রগতি নিয়ে বলেন, ‘ক্রিকেটকে যখন অলিম্পিক ইভেন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তখন থেকে চীন এই ইভেন্টকে টার্গেট করে মাঠে নেমেছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটির অবস্থায় বেশ পরিবর্তন এসেছে। খুবই উদীয়মান একটি দল। কারণ চীনারা খুবই ডিসিপ্লিনড ও ডেডিকেটেড। ২০৩২ অলিম্পিককে লক্ষ্য বানিয়েছে। চীনের নারী ক্রিকেট দলের উন্নয়নে অংশ হতে পেরে বাংলাদেশি হিসেবেই গর্ব অনুভব হচ্ছে।’

উশু:
এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ উশুতে একটি পদক (ব্রোঞ্জ- ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে জিন্নাত আক্তার) জয় করে। ৪০ বছর পর ব্যক্তিগত কোনো ইভেন্টে এশিয়াডে বাংলাদেশ কোনো পদক জয় করলো। এই সাফল্যের পেছনে উশুকা জিন্নাত আক্তার চীনের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আগামী এসএ গেমসের জন্যও তিনি দুজন চীনা কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ নেবেন।

উশুতে চীনা সহযোগিতা বেশ পুরোনো। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক দিলদার হোসেন দিলু উশুতে চীনা সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০০৭ সালে অ্যাফিলিয়েশন (প্রাতিষ্ঠানিক) পাওয়ার পর প্রথম থেকেই বাংলাদেশে উশুর উন্নয়নে চীন সহযোগিতা করে আসছে।

দিলদার হোসেন বলেন, ‘২০০৮ সালেই আমরা চীনের কাছ থেকে ৬৩ লাখ টাকার ইকুইপমেন্ট পাই, যা দিয়ে সেবার সাউথ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করি। এছাড়া চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় আমরা ২০১৭ সালে চায়না-অ্যাম্বাসেডর কাপ আয়োজন করি। যার ধারাবাহিকতায় এবার (২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে) ৯ম অ্যাম্বাসেডর কাপ আয়োজন করেছি।

২০১০ সালে এসএ গেমসে বাংলাদেশ উশুতে স্বর্ণপদক অর্জন করে। দিলদার হোসেন দিলু বলেন, ‘সেবার গেমস আয়োজন ও প্রস্তুতিসহ নানা ইকুইপমেন্ট কেনার জন্য আমরা চীনের কাছ থেকে বড় সহযোগিতা পেয়েছিলাম।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনকে সরঞ্জাম কেনার জন্য ৬৫ লাখ টাকার চেক দিয়েছিল চীনা দূতাবাস। একই সময় চীন-বাংলাদেশ উশু প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনকে অর্ধকোটি টাকা মূল্যের প্রশিক্ষণ ম্যাট, পারফরম্যান্স পোশাক ও মার্শাল আর্টসের বিভিন্ন সরঞ্জাম দেয় চীনা দূতাবাস। শুধু তাই নয়, এ বছর সেপ্টেম্বরে ৩০ জন খেলোয়াড়কে ৫০ দিনের জন্য হেনান প্রদেশের ঝেংঝৌতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়। যাদের সব ব্যয় বহন করে দেশটির সরকার।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জানান, চীনের কাছে বাংলাদেশে একটি উশু কমপ্লেক্স করে দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উপযুক্ত জায়গা পেলে সেখানে ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ উশু সেন্টার’ স্থাপন করা হবে।

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত চায়না-অ্যাম্বাসেডর কাপের একটি দৃশ্য


কেন বাংলাদেশের উশুতে চীন এত সহযোগিতা করছে? জানতে চাইলে দিলদার হোসেন দিলু বলেন, ‘উশু হলো চীনের অন্যতম জাতীয় খেলা। তারা চায় এ খেলাটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ও জনপ্রিয় করে তুলতে। এ কারণেই বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনকে তারা এত বেশি সহযোগিতা করছে।

ফুটবল:
২০২৫ সালে বাংলাদেশ-চীন কূটনীতির ৫০ বছর উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ফুটবলে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ম্যাচ ছিল। ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাফুফে এলিট একাডেমি ও চায়না ইউনিভার্সিটি অব উইমেন্স দল একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে। ওই ম্যাচে চীনের বিশ্ববিদ্যালয় দল ৩-০ গোলে জয়লাভ করে।

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সেদিন দুই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সম্পর্ক নিয়ে বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনে এক সঙ্গে কাজ করবে। ক্রিকেট বাংলাদেশ চীনকে এবং ফুটবল, উশুতে চীন বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারে। দুই দেশের মধ্যকার ক্রীড়া বিনিময় অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ-চীন কূটনীতির ৫০ বছর উপলক্ষে আয়োজিত বাফুফে এলিট একাডেমি ও চায়না ইউনিভার্সিটি অব উইমেন্স দলের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ


চীনের সঙ্গে ফুটবলেও দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। যেখানে দুই দেশের ফুটবল দলের সফর বিনিময়ের আলোচনা উঠে আসে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ একাডেমি দল চীনের আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট লিজিয়াং প্রদেশে তিয়ানউ লিওফাং কাপে অংশ নেয়। সেই টুর্নামেন্টের ফাইনালে উহান অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরে বাংলাদেশ রানার্স আপ হয়ে দেশে ফেরে।

চলতি বছরের মার্চে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের কাছে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেন।

বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সাক্ষাৎ করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল


বাফুফে সেক্রেটারি ইমরান হোসেন তুষার বলেন, ‘ফুটবলে নানান ক্ষেত্রে আমরা চীনা দূতাবাসের সহযোগিতা পাই। বিশেষ করে নারী ফুটবলের ক্ষেত্রে। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, জাপানের অনুষ্ঠিত এবারের এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার আগে আমাদের নারী ফুটবল দল চীনের গুয়াংজুতে ক্যাম্প করেছে এবং দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। এ বিষয়ে আমরা চীনা দূতাবাসের আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি।’

চীন জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রীতি ম্যাচ আয়োজন নিয়ে বাফুফে চেষ্টা করছে বলেও জানান তুষার। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি। আগামী বছর হয়তো এর সুফল পাওয়া যেতে পারে।

টেনিস ও টেবিল টেনিস:
চীনা টেনিসে বাংলাদেশের বিশাল অবদান রয়েছে। বিকেএসপি পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল মো. গোলাম মাবুদ হাসান বলেন, ‘বিকেএসপির প্রায় ১০০ জনের মতো সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে চীনের বিভিন্ন ক্রীড়া একাডেমিতে সফলভাবে টেনিস কোচ হিসেবে কর্মরত। এটি দেশের অ্যাথলেটদের জন্য চীনে কাজের একটি বড় আন্তর্জাতিক সুযোগ তৈরি করেছে।

বিকেএসপির সাবেক শিক্ষার্থী আক্তার হোসেন অন্যদের চেয়ে নিজের অবস্থান আলাদা করে নিয়েছেন। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে টেনিসের নারী এককে চ্যাম্পিয়ন হন ঝেং কিনওয়েন। অলিম্পিকের টেনিসে নারী এককে কোনো এশিয়ান নারীর এটাই প্রথম স্বর্ণ। ২০২৪ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের নারী এককে রানার্সআপ হন। এছাড়া ২০২৩ এশিয়া গেমসের নারী এককে স্বর্ণ জেতেন তিনি। সেই জেং ছোটবেলায় টেনিস শেখেন আক্তার হোসেনের কাছে। বেইজিংয়ে জেংকে ২০১৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টেনিস শিখিয়েছেন আক্তার। চীনের বাইরে নানা টুর্নামেন্টে ছিলেন তার কোচও।

২০২৪ সালে চীনে টেবিল টেনিস খেলোয়াড়দের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে চীনাদের সাথে টিটি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি খন্দকার হাসান মুনীর


২০২৪ সালে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় খেলোয়াড় ও কোচসহ মোট ২৫ জনকে চীনে এক মাসের বেশি সময়ের জন্য প্রশিক্ষণে পাঠিয়েছিল। টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সহ-সভাপতি খন্দকার হাসান মুনীর বলেন, ‘তখন চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলাম। এখন বিকেএসপির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলছে। এছাড়া সামনের এসএ গেমস লক্ষ্য করে আমরা চীন থেকে কোচ আনার চেষ্টা করছি।

দুই দেশের খেলাধুলার সেতুবন্ধন ‘বিকেএসপি’
বাংলাদেশের ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে বিকেএসপির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে চীনের সঙ্গে ক্রীড়া সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিকেএসপিকে কেন্দ্র করে যে উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিকেএসপির যোগাযোগ, সমঝোতা ও বিভিন্ন চুক্তি সই হয়েছে কিংবা আলোচনা চলছে- এ সম্পর্কে জাগো নিউজকে বিস্তারিত তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল হাসান।

শেনইয়াং স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি: ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেএসপির সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বছরের আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক সই হয়, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময়ের ভিত্তি স্থাপন করে। কর্নেল হাসান জানান, এবছর শেনইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। নতুন করে আবারও চুক্তি করা হবে।

এই চুক্তিতে অ্যাথলেটিকস (ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড), সাঁতার, বক্সিং, ক্রিকেট, বাস্কেটবল, টেনিস, টেবিল টেনিস, ফুটবল, ভলিবল ও মার্শাল আর্টস- এই খেলাগুলোতে অ্যাথলেট এবং কোচদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, বিনিময় কর্মসূচি এবং প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথা বলা হয়। এছাড়া যৌথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা এবং ক্যাডেটদের বৃত্তির কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে চীনকে অনেক অলিম্পিয়ান উপহার দেওয়া শেনইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিকেএসপির প্রথম সমঝোতা চুক্তি সই হয় ২০১৭ সালের জুলাই মাসে। ওই সমঝোতার আওতায় বিকেএসপি তিনজন ক্রীড়াবিদকে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য পাঠিয়েছিল।

ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি: বিকেএসপির সঙ্গে বর্তমানে সবচেয়ে সক্রিয় ও দৃশ্যমান অংশীদারত্ব স্থাপিত হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের। ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য সমঝোতা চুক্তি সই হয়। যার আওতায় এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত ক্রীড়া প্রশিক্ষণ, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও যৌথ অবকাঠামোগত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বেইজিং স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি: চীনের শীর্ষ ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি বেইজিং স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি। আগে থেকে সম্পর্ক থাকলেও চলতি বছরের (২০২৬) ৩০ মার্চ বিকেএসপির মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহর নেতৃত্বে বিএসইউর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে তিন বছর মেয়াদি সমঝোতা চুক্তি সই হয়। এটি উচ্চতর স্পোর্টস সায়েন্স ও বায়োমেকানিক্স প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উহান স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি: ২০২৫ সালের ২৬ মে উহান স্পোর্টস ইউনিভার্সিটির সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি সই করে বিকেএসপি। এই চুক্তির অধীনে রিহ্যাবিলিটেশন থেরাপি ও স্পোর্টস রিহ্যাবিলিটেশন বিষয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য উহান বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

উহান অর্থোপেডিকস হাসপাতাল অব ইন্টিগ্রেটেড ট্রেডিশনাল চাইনিজ অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন মেডিসিন: অ্যাথলেটদের উচ্চতর স্পোর্টস মেডিসিন ও জটিল ইনজুরি পুনর্বাসনের লক্ষ্যে চীনের উহান শহরের প্রধান হাসপাতালসহ উহান বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাফিলিয়েটেড চারটি বিশেষায়িত হাসপাতালের ১৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল বিকেএসপির পরিকাঠামো পরিদর্শন করে। এরপর ২০২৫ সালের ১৪ জুন বিকেএসপিতে একটি বিশ্বমানের ‘স্পোর্টস ইনজুরি অ্যাসেসমেন্ট, রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড প্রিভেনশন সেন্টার’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে চুক্তি সই হয়। চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ১ ডিসেম্বর।

আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটি: শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মানোন্নয়নে বিকেএসপি প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি বিশেষ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

গ্যালপ একাডেমি, গুয়াংজু: টেনিস হাই-পারফরম্যান্স প্রশিক্ষণে বিশেষায়িত এ একাডেমির সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিকেএসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ বলেন, ‘কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চীনকে ক্রিকেট শেখানোর পাশাপাশি কোচ ও পরামর্শ দিচ্ছে। বিনিময়ে চীনের কাছ থেকে উশু, আর্চারি, শুটিং, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, ডাইভিং ও অ্যাথলেটিকসের মতো খেলায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও টেকনিক্যাল সুবিধা নিচ্ছে।

চীনা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বিকেএসপি মহাপরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ


তবে চীনের বিশ্ববিদ্যলয়গুলোর সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষেত্রে এশিয়ান লেভেলে বা অলিম্পিকে যে সব খেলার সম্ভাবনা প্রবল, সেগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিকেএসপির মহাপরিচালক এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের দুপক্ষের মধ্যে ট্রেনিং এক্সচেঞ্জের আলোচনাটা মূলত যে খেলাগুলোতে এশিয়ান লেভেলে বা অলিম্পিকে আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ভালো করার প্রমিজিং ও প্রসপেক্ট আছে, সেগুলো নিয়ে।

তিনি বলেন, ‘ভালো বলতে আমরা বোঝাচ্ছি, যে কোনো মানের পদক, অর্থাৎ স্বর্ণ, রৌপ্য বা ব্রোঞ্জ অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা যেসব খেলায় আছে, সেসব খেলাকে আমরা শর্টলিস্ট করেছি। যেমন, ইন্ডিভিজুয়াল গেমের মধ্যে আর্চারি, শুটিং, কুস্তি, ভারোত্তোলন, টেবিল টেনিস, উশু, মার্শাল আর্ট—এমনকি জুডোতেও তারা খুবই ভালো। এরপর ডাইভিং ও জিমন্যাস্টিক্স আছে। এসব ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের যদি ছোটবেলা থেকে একবার ট্রেনিং-প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আগামী পাঁচ-ছয় বছরে দেখা যাবে, তারাই লিড দিচ্ছে।

সম্পর্কের সেতু গড়ছে ক্রিকেট, বাড়ছে পরিধি
চীনে ক্রিকেট বাংলাদেশের মতো জনপ্রিয় খেলা নয়। তবে দেশটিতে ক্রিকেটের বিকাশে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ নিতে চাচ্ছে ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়।

২০২৫ সালের ২৪ মে ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্বোধন করা হয় ‘বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ ক্রিকেট সেন্টার’। বিকেএসপির তৎকালীন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মুনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সেখানে গিয়ে কেন্দ্রটি উদ্বোধন করে।

চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ ক্রিকেট সেন্টার’ উদ্বোধন করেন বিকেএসপির তৎকালীন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মুনিরুল ইসলাম


বিকেএসপির বর্তমান মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ বলেন, ‘চীনের সঙ্গে এখন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমরা আমাদের ডিপ্লোমেসি টু-ওয়ে ট্রাফিক করছি। আমরা কিছু দিচ্ছি, তারা কিছু দিচ্ছে। ওদের কাছ থেকে তো আমাদের নেওয়ার অনেক কিছু আছে। আমাদের কাছ থেকে তারা শিখছে ক্রিকেট। মূলত এই একটাই বার্গেইনিং পয়েন্ট রয়েছে আমাদের কাছে। আমরা বলছি, তোমরা ক্রিকেট শিখতে পারো, দেখলাম তারা এ বিষয়ে খুব ইন্টারেস্টেড।

সহযোগিতামূলক চুক্তির অধীনেই বিকেএসপির উপ-পরিচালক ও ক্রিকেট কোচ মন্টু কুমার দত্ত ২০২৫ সালে একমাসের জন্য চীনে যান ক্রিকেট প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য। শেনিয়াং স্পোর্টস ইউনিভার্সিটিতে এক মাসের ট্রেনিং দিতে গিয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে তার।

বিকেএসপির উপ-পরিচালক ও ক্রিকেট কোচ মন্টু কুমার দত্ত চীনে একমাসের ক্রিকেট প্রশিক্ষণ দিয়ে আসেন


মন্টু দত্ত জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশের তুলনায় চীনের ক্রিকেটের ইনডোর ও মাঠের অবকাঠামোগত সুবিধা কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সঠিক বিনিয়োগ ও সময় পেলে ক্রিকেটেও বিশ্বমানের সাফল্য অর্জন করা চীনের পক্ষে শতভাগ সম্ভব। এজন্য বাংলাদেশের কাছ থেকেই সর্বোচ্চ সহযোগিতা পেতে আগ্রহী তারা।

চলতি বছরের (২০২৬) সেপ্টেম্বরে ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ সদস্যের একটি দল বিকেএসপিতে আসে। তাদের মধ্যে ছিলেন ১১ জন ক্রিকেট প্রশিক্ষণার্থী, একজন ক্রিকেট কোচ, একজন তাই চি কোচ ও একজন দোভাষী। দুই সপ্তাহের বিনিময় প্রশিক্ষণে চীনা ক্রিকেট প্রশিক্ষণার্থীদের ক্রিকেটের বিভিন্ন কৌশল ও ব্যবহারিক দিক শেখান বিকেএসপির বিশেষজ্ঞ কোচরা।

বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ নিতে আসা চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা


এছাড়া সমঝোতা চুক্তির আলোকে বিকেএসপির সহযোগিতায় বেইজিং স্পোর্টস ইউনিভার্সিটিতে ‘ক্রিকেট সেন্টার’ ও উহান স্পোর্টস ইউনিভার্সিটিতে ‘ক্রিকেট টিচিং অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’ স্থাপনের কথা বলা হয়। যেখানে বিকেএসপি বিশেষজ্ঞ, কোচ, কারিগরি ও মানবসম্পদ সহায়তা দেবে।

বিকেএসপিতে চীনের তাই চি সেন্টার:
২০২৫ সালের এপ্রিলে চীনের ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বিকেএসপি পরিদর্শন করে। বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবং দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে ২১ এপ্রিল সেখানে ‘বাংলাদেশ-চীন তাই চি সেন্টার’ উদ্বোধন করা হয়।

বিকেএসপি মহাপরিচালক বলেন, ‘তারা (ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়) যেমন আমাদের বিকেএসপিতে বাংলাদেশ-চায়না তাইচি সেন্টার- উদ্বোধন করেছে, সেরকম রেসিপ্রোকালি আমরাও ওখানে গিয়ে তাদের ক্রিকেট শেখানোর জন্য একটি ক্রিকেট সেন্টার উদ্বোধন করে আসছি।

খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার বাঁচাতে চীনা সহযোগিতা
বাংলাদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা হলো খেলোয়াড়দের ইনজুরি এবং যথাযথ পুনর্বাসন সুবিধার সীমাবদ্ধতা। একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় দীর্ঘমেয়াদি চোটে পড়ার পর উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন না পেলে তার ক্যারিয়ার থেমে যেতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের খেলাধুলায় চীনের সঙ্গে সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে স্পোর্টস রিহ্যাবিলিটেশন।

রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চুক্তিতে স্বাক্ষর করছেন বিকেএসপির তৎকালীন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: মুনীরুল ইসলাম ও উহান বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের ড. শিয়ে ওয়েই

বিকেএসপির মেডিকেল সেন্টার থাকলেও আধুনিক ও উন্নত মানের ইনজুরি পুনর্বাসন ব্যবস্থা সেভাবে নেই। চীনের উহান অর্থোপেডিকস হাসপাতালের সঙ্গে করা সমঝোতা চুক্তিতে যে ‘স্পোর্টস রিহ্যাবিলিটেশন’ সেন্টারের কথা বলা হয়েছে, সেখানে থাকবে চীনা ভেষজ, আধুনিক ও অন্যান্য চিকিৎসার ব্যবস্থা। চীনা হাসপাতাল থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করবে। পরবর্তীসময়ে বিকেএসপির চিকিৎসকদের চীনে পুনর্বাসন চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগও থাকবে।

বিকেএসপির মহাপরিচালক


শুধু তাই নয়, বিকেএসপির আহত অ্যাথলেটদের চিকিৎসায় অগ্রাধিকারভিত্তিতে দূরবর্তী পরামর্শ দেওয়া কিংবা প্রয়োজনে চীনের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

বিকেএসপি পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল মো. গোলাম মাবুদ হাসান বলেন, ‘অ্যাথলেটদের ইনজুরি রিকভারি ও রিহ্যাবিলিটেশনের জন্য চীনে অনেক সময় ঐতিহ্যবাহী ‘হারবাল ট্রিটমেন্ট’ ব্যবহার করা হয়। বিকেএসপি সেই মডেল ও আধুনিক স্পোর্টস সায়েন্সের মেলবন্ধনে পুনর্বাসন কেন্দ্রটি স্থাপন করতে চায়। এজন্য প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ এবং লোকবলও চীন থেকে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিকেএসপির ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক উপকৃত হবে।

চীনা সহযোগিতায় উন্নত হচ্ছে ক্রীড়া বিজ্ঞান
রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগের সঙ্গে ভবিষ্যতে স্পোর্টস মেডিসিন, ফিজিওথেরাপি, স্পোর্টস সায়েন্স, ইনজুরি প্রিভেনশন ও পারফরম্যান্স অ্যানালাইসিস যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বিকেএসপির।

পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশে একমাত্র বিকেএসপিতেই আলাদা স্পোর্টস সায়েন্স ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। চীনের বেইজিং স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি, আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটি ও ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্স ডিপার্টমেন্ট এবং চাইনিজ দূতাবাসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হচ্ছে। চীন থেকে বায়োমেকানিক্স ও স্পোর্টস সায়েন্স এক্সপার্ট এনে বিকেএসপির ল্যাব পরিচালনা করা এবং দেশীয় বিশেষজ্ঞদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিকেএসপির মূল ক্যাম্পাসের সামনে মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফ উল্লাহর সঙ্গে চীনের প্রতিনিধি দল


বিকেএসপি মহাপরিচালক বলেন, ‘স্পোর্টস মেডিসিন, ফিজিওথেরাপি, স্পোর্টস সায়েন্স, ইনজুরি প্রিভেনশন, পারফরম্যান্স অ্যানালাইসিস- আপনি যখন বিজ্ঞানভিত্তিক স্পোর্টস ইকোসিস্টেম তৈরি করবেন, এই পাঁচ-ছয়টা জিনিস ছাড়া স্পোর্টস এগোতে পারবে না।

চাইনিজ ভাষা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং খেলোয়াড়দের জন্য বৃত্তি:
চীনের সঙ্গে ক্রীড়া সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উচ্চশিক্ষা। এরই মধ্যে বিকেএসপিতে চীনা ভাষা শিক্ষা সেন্টার চালু হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ ও চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি সেক্রেটারি রুয়ান চাওচি চীনা ভাষাশিক্ষা সেন্টার উদ্বোধন করেন।

কর্নেল হাসান বলেন, ‘বিকেএসপির ক্যাডেটদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দক্ষ করতে ও ভাষা শেখাতে চীন এক বছরের জন্য তিনজন ভাষা শিক্ষক পাঠিয়েছে। সম্প্রতি আমরা চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছি। যেখানে ৬০ জন অ্যাথলেট চীনা ভাষা শিখছে। ফলে খেলোয়াড়রা চাইনিজ ভাষা ও কালচার শিখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে পারবে।’

বাংলাদেশ-চীন তাই চি সেন্টার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অ্যাথলেটদের তাই চি পরিবেশনা
বাংলাদেশ-চীন তাই চি সেন্টার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অ্যাথলেটদের তাই চি পরিবেশনা

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কারণে প্রচুর চীনা নাগরিককে আসতে হয়। এ কারণে বিকেএসপির পক্ষ থেকে চীনে বাংলা ভাষা প্রশিক্ষণ সেন্টার খোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিকেএসপির মহাপরিচালক এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে সর্বজনীন ভাষা হিসেবে বিবেচনা করে বিকেএসপিতে শিক্ষার্থীদের জন্য চাইনিজ ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি চীনে অবস্থানরত চাইনিজদের বাংলা শেখানোর জন্য ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলা ভাষা কেন্দ্র বা বিভাগ’ খোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তিতে শুধু ক্রিকেট বা তাই চি নয়, শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণাসামগ্রী, একাডেমিক প্রকাশনা ও দক্ষতা বিনিময়ের কথাও রয়েছে। যৌথ গবেষণা, বৃত্তি এবং ক্রীড়া ও চারুকলায় প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির বিষয়ও চুক্তির অংশ।

বেইজিং স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি এবং শেনইয়াং স্পোর্ট ইউনিভার্সিটির সঙ্গে করা চুক্তিতেও বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক ও মাস্টার্স পর্যায়ে স্কলারশিপের কথা বলা হয়েছে।

চীনা ভাষা শিক্ষা সেন্টার উদ্বোধনের পর ক্লাস পরিদর্শন করছেন ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি সেক্রেটারি রুয়ান চাওচি

বিকেএসপি মহাপরিচালক ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে বলেন, ‘এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেসপন্স পেয়েছি ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি থেকে। ওদের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে তারা একটি ক্রিকেট টিম ও আমাদের উশু টিমের জন্য তিনজন প্রশিক্ষককে এক মাসের জন্য পাঠিয়েছে।

বিকেএসপির মহাপরিচালক আরও জানান, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস ও টেনিসের মতো ইভেন্টে জুনিয়র ক্যাডেটদের নিবিড় প্রশিক্ষণের জন্য চীনে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি উশু দলের ৩০ জন সদস্যকে ৫০ দিনের জন্য বিশেষ অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বিকেএসপির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল হাসান বলেন, ‘ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তির ফলে বিকেএসপির অ্যাথলেটরা টিউশন ফি, থাকা ও খাওয়ার সুবিধাসহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্পোর্টস সায়েন্সে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের খেলাধুলায় (ফুটবল, বাস্কেটবল, বক্সিং ইত্যাদি) চীনে অবস্থানকালীন উচ্চতর অ্যাথলেটিক প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। ভবিষ্যতে বিকেএসপির ১০৮ জন দেশীয় কোচকেও চীনে উচ্চতর প্রশিক্ষণে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিকেএসপির ১০ জন শিক্ষার্থী ফুল স্কলারশিপ পেয়েছে (২০২৪ সালে দুজন, ২০২৫ সালে চারজন ও ২০২৬ সালে চারজন)। ক্যাডেটরা সেখানে স্পোর্টস সায়েন্সে অনার্সের পাশাপাশি নিজ নিজ খেলাধুলার (ফুটবল, বাস্কেটবল, বক্সিং ইত্যাদি) প্রশিক্ষণ পাচ্ছে।

ক্রীড়া অবকাঠামো ও বিনিয়োগ:
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়া সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাগুলোর একটি হচ্ছে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ।

গত মার্চে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রীড়া খাতের আধুনিকায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের বড় ধরনের বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। চীনা রাষ্ট্রদূতও বাংলাদেশের যুব প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং স্পোর্টস ইনস্টিটিউটে বিনিয়োগের ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ ও আশাবাদের কথা জানান।

মন্ত্রণালয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক


বিকেএসপি মহাপরিচালক বলেন, ‘কেবল আধুনিক প্রযুক্তি কেনাই নয়, চীন থেকে প্রশিক্ষিত ইনস্ট্রাক্টর ও বায়োমেকানিক্স বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসার পরিকল্পনা আছে, যেন এসব সরঞ্জামের সাহায্যে খেলোয়াড়দের স্কিল উন্নয়ন করা যায়। এছাড়া সাশ্রয়ী মূল্যে আন্তর্জাতিক মানের উডেন বাস্কেটবল ফ্লোর ও বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী চীন থেকে সরাসরি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিকেএসপির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল হাসান জানান, টেনিস খেলার প্রশিক্ষণ উন্নত করতে গুয়াংজুর গ্যালপ একাডেমির সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে কথা-বার্তা চলছে।

আরও যত সম্ভাবনা:
বাংলাদেশ-চীন ক্রীড়া সম্পর্ক আগামী কয়েক বছরে আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

যৌথ হাই-পারফরম্যান্স ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশি কোচদের জন্য চীনে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্পোর্টস সায়েন্স ও স্পোর্টস মেডিসিন নিয়ে যৌথ গবেষণা, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট ও ফুটবল দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত সফর বিনিময় এবং চীনের ক্রীড়া শিল্প ও সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার সুযোগ তৈরি।

বিকেএসপি মহাপরিচালক জানান, চীনের সঙ্গে সম্পর্কের যে সূচনা হয়েছে, সে সম্পর্কের মধ্য দিয়েই পর্যায়ক্রমে এসব পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করা হবে। যেগুলো বিকেএসপির মাধ্যমে সম্ভব নয়, সেগুলোর ব্যাপারে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

সাবেক কূটনীতিবিদ এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের সাবেক ফ্যাকাল্টি মেম্বার সাকিব আলী মনে করেন, ক্রীড়া কূটনীতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এবং চীনের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। সাধারণত ক্রীড়া কূটনীতি সেখানে সবচেয়ে বেশি সফল হয়, যখন দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ক খুব খারাপ থাকে। যেমন চীন-আমেরিকার সম্পর্ক তৈরির অন্যতম একটি মাধ্যম ছিল পিংপং তথা টেবিল টেনিস। খেলাধুলার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে দুই দেশের যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়, তখন অন্যান্য ক্ষেত্রেও সম্পর্ক বাড়তে থাকে। বাংলাদেশের সাথে এমনিতেই চীনের সম্পর্ক ভালো। এখন ক্রীড়া কূটনীতি দিয়ে সম্পর্কটা আরও উন্নত করা যাবে, যখন এর ফলাফলটা ভালো হয়। ক্রীড়াক্ষেত্রে চীনের কাছ থেকে আমরা যে সব সহযোগিতা নিচ্ছি বা তারা যে সব সযোগিতা নিচ্ছে, দুই দেশেই যদি এ সহযোগিতা সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারে এবং এই সম্পর্ক যদি সাফল্য বয়ে আনতে পারে, তাহলে অবশ্যই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে।

একসময় বাণিজ্য, অবকাঠামো ও উন্নয়ন সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এখন খেলার মাঠ, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয়েও বিস্তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট অভিজ্ঞতা যেমন চীনের কাজে লাগছে, তেমনি চীনের উন্নত ক্রীড়া বিজ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। তবে এই সহযোগিতার প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে সমঝোতা ও পরিকল্পনাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। সেই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা গেলে ক্রীড়া কূটনীতি দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর