1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

কালের সাক্ষী ৪০০ বছরের চান্দামারী জামে মসজিদ

ভ্রমণ ডেস্ক | সানজিদা নুসরাত পিংকী |
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৪১ বার পঠিত

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চান্দামারী মণ্ডলপাড়া গ্রামে সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় সাড়ে চারশ বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক চান্দামারী জামে মসজিদ।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, মোগল আমলে নির্মিত মসজিদটি স্থাপত্যশৈলী, নকশা ও কারুকাজে অনন্য। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও প্রাচীন এ স্থাপনা আজও দৃঢ়ভাবে টিকে আছে। নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ইতিহাসের ছোঁয়া নিতে এখানে ভিড় করেন।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ৫১ শতাংশ জমির ওপর মসজিদটির অবস্থান। তিন গম্বুজ ও তিন মেহরাব বিশিষ্ট স্থাপনাটি নির্মিত হয়েছে ইট, চুন ও সুরকির সমন্বয়ে। এর দৈর্ঘ প্রায় ৪৫ ফুট এবং প্রস্থ ২২ ফুট। চারদিক বাউন্ডারি দেওয়ালঘেরা মসজিদটির উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট। প্রাচীন নির্মাণরীতি অনুসরণে কোনো রড বা আধুনিক উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি। যা এর স্থায়িত্বকে আরও বিস্ময়কর করে তুলেছে।

স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তা‌দের ধারণা ১৫৮৪ থেকে ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে মসজিদটি নির্মিত হয়। স্থাপত্যে সুলতানি আমলের শিল্পরীতি ও মোঘল ধাঁচের সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। অনেকে ভারতের বাবরি মসজিদ এবং বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের সঙ্গে এর কিছু নকশাগত সাদৃশ্যের কথাও উল্লেখ করেন। যদিও প্রতিটি স্থাপনাই নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র।

চান্দামারী গ্রামের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী মেহের আলী বলেন, ‘ছোটবেলায় দাদার হাত ধরে এখানে নামাজ পড়তে আসতাম। দাদার কাছেই শুনেছি, এটি মোগল আমলের মসজিদ। তবে নির্মাণের নির্ভরযোগ্য লিখিত ইতিহাস আজও অজানা।’

৯০ বছর বয়সী মুসল্লি লুৎফর রহমান বলেন, ‘এই মসজিদ নির্মাণে কোনো রড ব্যবহার হয়নি। চুন, ইট ও সুরকির গাঁথুনিতে তৈরি হওয়ায় এত বছরেও অক্ষত আছে। কয়েক বছর আগে সামনের অংশ সম্প্রসারণের সময় দেওয়ালে হাতুড়ির আঘাতে আগুনের ফুলকি বের হতে দেখেছি, যা এর নির্মাণশৈলীর দৃঢ়তার প্রমাণ।’

দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে মসজিদটির কিছু অংশ জৌলুস হারালেও মূল কাঠামো এখনো শক্ত ও স্থিতিশীল। চার শতকের ইতিহাস বুকে ধারণ করে চান্দামারী জামে মসজিদ আজও কালের সাক্ষী হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। যা ইতিহাস, ঐতিহ্য, আস্থা ও স্থাপত্য গৌরবের অনন্য নিদর্শন।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর