1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ-অবরোধ : মিরপুর, গাজীপুর ও সাভারে বন্ধ ছয় শতাধিক কারখানার উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বড় সংঘাতের আশঙ্কা : জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা

ইরান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের দলে বিদ্রোহ, কংগ্রেসে ঐতিহাসিক বিল পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
  • ৮৩ বার পঠিত

ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক সামরিক সিদ্ধান্ত ও যুদ্ধংদেহী নীতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের ধাক্কা খেল মার্কিন প্রশাসন। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা খর্ব করতে একটি ঐতিহাসিক বিল পাস হয়েছে। বুধবারের (৩ জুন) এই ভোটাভুটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভেদকে আবারও প্রকাশ্যে এনেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের এটি ছিল প্রতিনিধি পরিষদের চতুর্থ প্রচেষ্টা। সমালোচকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ—কংগ্রেসের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প এই অবৈধ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভোটে রিপাবলিকানদের বিরল বিদ্রোহ:
প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২১৫-২০৮ ভোটে পাস হয়। ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবে ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকান পার্টির চারজন আইনপ্রণেতা সমর্থন দেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সাথে সুর মেলানো এই চার রিপাবলিকান হলেন—থমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট এবং ওয়ারেন ডেভিডসন। এ ছাড়া অতীতে এই ধরনের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়া ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড গোল্ডেনও এবার বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

ভোটের পর মিশিগানের রিপাবলিকান প্রতিনিধি টম ব্যারেট বলেন, কেবল কংগ্রেসেরই যুদ্ধ ঘোষণার অধিকার রয়েছে এবং আমাদের অবশ্যই এটি রক্ষা করতে হবে। আমি আমার বিবেক অনুযায়ী ভোট দিয়েছি এবং এর যে কোনো পরিণতির মুখোমুখি হতে আমি প্রস্তুত।

তবু রয়েছে শঙ্কা:
প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও বিলটি কার্যকর হতে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত মার্কিন সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে সিনেটে পাস হলেও এই যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিলে ভেটো (নাকচ) দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। আর প্রেসিডেন্টের সেই ভেটো বাতিল করতে হলে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ কঠিন।

এর আগে গত মে মাসে মার্কিন সিনেট একই ধরনের একটি প্রস্তাবের অগ্রগতি ঘটালেও সেটি এখনো চূড়ান্ত ভোটের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।

ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির তীব্র সমালোচনা:
হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই ভোটকে ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবৈধ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি দ্বিপক্ষীয় কড়া থাপ্পড়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এটি যুদ্ধ বন্ধের প্রথম পদক্ষেপ।

মিকস আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প যুদ্ধের মূল লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। উল্টো দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছেন এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচির কূটনৈতিক সমাধানকে আরও জটিল করে তুলেছেন।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা-পাল্টা হামলা:
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন বাহিনী ইরানে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের বাহিনীও মার্কিন মিত্র কুয়েতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

তবে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা ‘খুব ভালো’ চলছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই একটি চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। হামলার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা গত রাতে এবং তার আগের রাতেও তাদের ওপর বেশ জোরালো আঘাত হেনেছি। আমাদের কঠোর পদক্ষেপের কারণে তারা কিছুটা উসকে গেছে এবং পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে আমাদের প্রশাসনের বেশিরভাগ সদস্যই সবাইকে না মেরে দ্রুত এই সংকটের অবসান চান। তাত্ত্বিকভাবে, তারা (ইরান) একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার খুব কাছাকাছি রয়েছে।’

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক মিত্রদের জন্য ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন নিয়ে সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে রক্ষণশীলদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসে এই ধাক্কা ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দুর্বল করে তুলল।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর