1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

চতুর্থ প্রজন্মের ৯ ব্যাংকের মধ্যে ৬টিতেই রয়েছে অতিরিক্ত তারল্য, সর্বোচ্চ এনআরবিসিতে

বিজনেস ডাইজেস্ট ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৪
  • ১০৬ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | জনতার গণঅভ্যুথানে ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতন ও ভারতে পলায়নের পর বাংলাদেশে সূচীত হয়েছে নতুন এক অধ্যায়ের। বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠন ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। দলীয় তোষণনীতির বিবেচনায় অধিকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে আর্থিকখাতককে খাদের কিনারে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। আর্থিকখাতের নিয়ন্ত্রকসংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে কলুষিত করা হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দু’মাসে আর্থিকখাতে একাধিক দূরদর্শী সিদ্ধান্তে ঘুরে দাড়াতে শুরু করেছে। এই ধারাবাহিকতায় দেশের পঁচাত্তর শতাংশ ব্যাংকেই উদ্বৃত্ত তারল্য বা অতিরিক্ত অর্থ আছে। সরকারি-বেসরকারি ৪৬টি ব্যাংকে এ তারল্যের পরিমান প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। আমানতকারীদের মধ্যে আস্থা ফেরায় একে ব্যাংক খাতের জন্য স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। এদিকে চতুর্থ প্রজন্মের ৯ ব্যাংকের মধ্যে ৬টিতেই রয়েছে অতিরিক্ত তারল্য। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য বিনিয়োগে কাজে লাগাতে না পারলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে নতুন কর্মসংস্থানে।

বিগত দেড় দশকে ব্যাংকে অনিয়ম, দুর্নীতি, পাচার ও নামে বেনামে ঋণের কারণে তারল্য সংকটে ডজন খানেক ব্যাংক। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় দুর্বল ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দেওয়ায় আস্থা ফিরতে শুরু করেছে ব্যাংক খাতে।

এমন পরিস্থিতিতে উল্টো চিত্র সবল ব্যাংকগুলোতে। প্রতিদিনই গ্রাহকের আমানতের পরিমান বাড়ছে এসব ব্যাংকে। সরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি প্রায় ৩১টি ব্যাংকেই রয়েছে ৯১ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য। আর রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকে তারল্যের পরিমান ছাড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু সোনালী ব্যাংকে রয়েছে ৪৯ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। পিছিয়ে নেই বিদেশি ৯ ব্যাংকও।

গেøাবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলছেন, এটা একটা স্বস্তির খবর। যদিও ইনডিভিজুয়ালি কোনো কোনো ব্যাংক বা যে কয়টা ব্যাংকের ভল্ট ভাঙা হলো, তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা তারল্য সংকট চলছে। আগামী ৬ মাসের ব্যবসার সেক্টরের ওপর নির্ভর করবে ব্যাংক কেমন যাবে। আমি আশা করছি, ডিসেম্বরের মধ্যে একটা স্থিতিশীলতা চলে আসবে।
চতুর্থ প্রজন্মের ৯ ব্যাংকের মধ্যে ৬টিতেই রয়েছে অতিরিক্ত তারল্য। দেশের আর্থিক খাতে নগদ অর্থের তীব্র সংকটের মাঝে এই ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য থাকার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৬টি ব্যাংকের এখন উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, নিজেদের প্রয়োজনের বেশি নগদ অর্থ হাতে থাকায় এই পরিমাণ বাড়তি অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রেখেছে আলোচ্য ছয়টি ব্যাংক। যে কারণে আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকিমুক্ত অবস্থানে থাকার পাশাপাশি দৈনন্দিন লেনদেনও সাবলিলভাবে করতে পারছে ব্যাংক ছয়টি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৪৫০ কোটি অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে এনআরবিসি ব্যাংকে।

২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া ৯টি ব্যাংকই মূলত দেশের চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে চিহ্নিত। এগুলোর মধ্যে পদ্মা ব্যাংকে (সাবেক ফার্মার্স) চরম লুটপাট চালিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর। পাশাপাশি ইউনিয়ন ব্যাংক ও এনআরবি গেøাবাল ব্যাংক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অন্তঃসারশূন্য করে ফেলেছে এস আলম গ্রæপ। এই ব্যাংক তিনটি থেকে আমানতকারীরা টাকা তুলতে পারছেন না। এগুলোর বাইরে বাকি ছয়টি ব্যাংক এখনও বড় কোনও সংকটে পড়েনি। কেবল এনআরবিসি ব্যাংক উদ্যোক্তা পরিচালকদের লুটপাটে কার্যক্রম শুরুর পরপরই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। তবে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোগ নিয়ে পরিষদ পুনর্গঠন করে দেওয়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে এনআরবিসি।

চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর আগস্ট ভিত্তিক তারল্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এনআরবিসি, মেঘনা, মিডল্যান্ড, এনআরবি, মধুমতি ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল এন্ড কমার্স ব্যাংকে (এসবিএসি) উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। এনআরবিসি ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তারল্য ২ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সর্বোচ্চ ৯৫০ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে মিডল্যান্ড ব্যাংকের। ৮৫০ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে মেঘনা ব্যাংকের। এনআরবি ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তারল্য ২০০ কোটি টাকা। এছাড়া মধুমতি ব্যাংকের ৮৩০ কোটি টাকা এবং এসবিএসি ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমান ৫০০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ছয় ব্যাংকে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ৫ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা।

এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এস এম পারভেজ তমাল বলেন, এনআরবিসি ব্যাংক ঝুঁকিমুক্ত নিরাপদ ব্যাংক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে ব্যতিক্রমী সেবামূলক কর্মকাÐের মাধ্যমে। একক গ্রাহককে অতিরিক্ত ঋণ না দিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের ছোট ছোট উদ্যোক্তার এসএমই ঋণ বিতরণে বেশি ভূমিকা রাখছে ব্যাংকটি। ফলে গ্রাহকের আমানতও সুরক্ষিত থাকছে।
তিনি বলেন, ব্যাংক পরিচালনার মূলনীতি-কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধিবিধান সঠিকভাবে পরিচালন করা। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সিআরআর এসএলআর যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে। ভবিষ্যতের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সব ব্যাংকই তার নীতি অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করে। যেসব ব্যাংক আমানতের সুরক্ষা দেয়, সেসব ব্যাংকে আমানত বাড়ছে। হাতে গোনা কয়েকটি ব্যাংক সমস্যায় আছে, তারা তারল্য সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করেছে। অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে এমন ১০টি ব্যাংক তাদের অর্থ সহযোগিতা করছে। যার গ্যারান্টি দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আশা করছি সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর সমস্যা কিছুদিনের মধ্যেই সমাধান হয়ে যাবে। ব্যাংকের অতিরিক্ত এসব অর্থ নির্দিষ্ট কয়েকজনকে ঋণ হিসেবে না দিয়ে বেশিসংখ্যক গ্রাহককে দেওয়ার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এখন উচিত হবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তাড়াতাড়ি স্বাভাবিকের দিকে নিয়ে যাওয়া।
এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমিয়ে স্বাভাবিক একটি পরিস্থিতি নিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আস্থা সংকটের কারনে নতুন করে বিনিয়োগে যাচ্ছে না ব্যবসায়ীরা। বিনিয়োগে ভাটা পড়ায় ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণও কমেছে। তাই ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরির তাগিদ বিশ্লেষকদের।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর