আফগানিস্তানে প্রকাশ্যে গান বাজানোর ওপর তালেবান সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেই নিষেধাজ্ঞা ও নৈতিকতা পুলিশের ভয়ে দেশটির অনেক মানুষ গান শোনা এড়িয়ে চলেন। তবে ব্যতিক্রম হয়ে উঠেছেন কিছু ট্যাক্সিচালক। গাড়িতে গান বাজিয়ে নীরবে সেই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তারা।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছর আগে আফগানিস্তানে প্রকাশ্য স্থানে গান বাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। এরপর রাজধানী কাবুলের রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও দোকানগুলো থেকে হারিয়ে যায় গানের শব্দ। তবে কিছু ট্যাক্সিচালক এখন গাড়িতে আফগান ও আঞ্চলিক লোকগান কিংবা জনপ্রিয় গান বাজাচ্ছেন।
![]()
২৮ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক রোয়িন জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকির কাছে পৌঁছালে তিনি গানের শব্দ কমিয়ে দেন। কখনো পুরোপুরি বন্ধও করে দেন। কারণ নৈতিকতা পুলিশের ভয়ে তিনি সমস্যায় পড়তে চান না।
রোয়িনের ভাষায়, নিষেধাজ্ঞার পর গান শোনার প্রতি তার আগ্রহ বরং আরও বেড়েছে। সকালে গান শুনতে না পারলেও সকাল ৮টার মধ্যে গাড়িতে গান চালিয়ে দেন তিনি। তার কাছে গান শোনা এখন এক ধরনের প্রতিবাদও।
আরেক ট্যাক্সিচালক জানান, গান রাখার অভিযোগে তার গাড়িতে থাকা ইউএসবি যন্ত্র ও স্মৃতিকার্ড দুবার তল্লাশি করা হয়েছে। একবার তিনি সেখানে গান থাকার কথা স্বীকার করলে সেগুলো ভেঙে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আফগান সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়। তার মতে, গানও আফগান জনগণের সংস্কৃতির একটি অংশ। তিনি চান না এটি হারিয়ে যাক।
আফগানিস্তানে প্রকাশ্য বিনোদনের বিভিন্ন মাধ্যমের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে। দেশটির নৈতিকতা পুলিশ নিয়মিত তল্লাশি চালায়। এমনকি কেউ গান শুনছে কি না দেখতে অনেক সময় কানে থাকা শ্রবণযন্ত্রও খুলে নেয় তারা।

তবু নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও গান শুনে চলেছেন কিছু মানুষ। রোয়িনের ভাষায়, আগে মানুষ গান শুনতে, নাচতে ও আনন্দ করতে পারত, কেউ বাধা দিত না। এখন কাবুল যেন এমন এক অন্ধকারে ঢাকা। এখানে আলোর দেখা মেলে না।