মধ্যরাত। শহরের ব্যস্ততা থেমে গেছে অনেক আগেই। চারপাশে শুধু নিস্তব্ধতা আর ফাঁকা রাস্তা। সেই নির্জন পথ ধরে ছুটে চলছে একটি লাল গাড়ি। হঠাৎ গাড়ির সামনে চোখে পড়ে লাল শাড়ি পরা এক তরুণী। অন্ধকারের মধ্যে তার এমন উপস্থিতি যেন স্বাভাবিক কোনো দৃশ্য নয়। কে এই তরুণী? মাঝরাতে সেখানে দাঁড়িয়ে কেন? আর তার সঙ্গে লাল গাড়িটির সম্পর্কই বা কোথায়? এমন একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েই শুরু হয় হরর-থ্রিলার নাটক ‘লালপরী’র গল্প।
শুরু থেকেই দর্শককে পরিচিত বাস্তবতার বাইরে নিয়ে যায় ‘লালপরী’। মধ্যরাতের নির্জন রাস্তা, অচেনা এক তরুণীর রহস্যময় উপস্থিতি আর চারপাশের নিকষ অন্ধকার সব মিলিয়ে তৈরি হয় অস্বস্তিকর এক আবহ। একদিকে প্রেম, ভালোবাসা ও বিশ্বাস; অন্যদিকে অবিশ্বাস, প্রতারণা ও অতীতের অন্ধকার। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে প্রভা নামের এক তরুণীর জীবনের এমন এক ঘটনা, যার পরিণতি বয়ে বেড়াতে হয় তাকে। সেই ট্র্যাজেডির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে অয়ন (রেহান) নামের এক তরুণ। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে তাদের জীবনের গল্প এসে মিশে যায় এক রহস্যময় রাতের ঘটনায়।
গাড়িটি কেনার পর থেকেই একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে শুরু করে। সেই গাড়ির গ্যারেজ মেকানিক অয়নের আগমনও গল্পের গতিপথে নিয়ে আসে বড় পরিবর্তন। গাড়িতে ওঠার পর তার সঙ্গেও ঘটতে থাকে অদ্ভুত সব ঘটনা। কিন্তু অন্যদের মতো আতঙ্কে ভেঙে না পড়ে অয়ন বরং সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। আর তার এই অবস্থানই ধীরে ধীরে তাকে নিয়ে যায় এমন কিছু সত্যের কাছে, যা গল্পের শুরুতে অনুমান করাও কঠিন।
রেহান ও স্পর্শিয়ার চরিত্রের মধ্যকার সম্পর্কও নাটকটির গল্পে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। শুরুতে যে সম্পর্ককে কেবল রহস্যময় এক সাক্ষাৎ বলে মনে হয়, সময়ের সঙ্গে সেটিই হয়ে ওঠে গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাদের অস্বাভাবিক সাইকোলজিক্যাল ইন্টারঅ্যাকশনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অতীত ধীরে ধীরে সামনে আসতে থাকে। আর একপর্যায়ে রেহানকে ঘিরেই প্রকাশ পেতে শুরু করে কিছু অপ্রত্যাশিত সত্য ও টুইস্ট।

বিশেষ করে লাল গাড়ি ও লাল শাড়ির মধ্যে থাকা যোগসূত্র যখন দর্শকের সামনে স্পষ্ট হতে শুরু করে, তখন আগের অনেক দৃশ্যই নতুন অর্থ পেতে থাকে। যে ঘটনাগুলোকে এতক্ষণ বিচ্ছিন্ন মনে হচ্ছিল, সেগুলোই একে অপরের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে রহস্যের জট খুলতে শুরু করে। ফলে শেষ পর্যন্ত কী অপেক্ষা করছে, তা জানার আগ্রহ ধরে রাখে গল্প।
জোবায়ের আবীর পিয়ালের গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত ‘লালপরী’ শুধু প্রচলিত ভৌতিক গল্পের কাঠামোয় আটকে থাকেনি। রহস্য, হরর, আবেগ এবং মানসিক টানাপোড়েনকে পাশাপাশি রেখে গল্পটি এগিয়েছে। বিশেষ করে রেহান ও স্পর্শিয়ার চরিত্রের মিথস্ক্রিয়া নাটকটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। অতিরিক্ত সংলাপের ওপর নির্ভর না করে অনেক সময় তার অভিব্যক্তিই দৃশ্যের রহস্য ও অস্বস্তি প্রকাশ করেছে। রহস্যের শেষ দরজা খুলবে কোথায়, তা দেখা যাবে ‘হাউজ অব স্টোরিজ’-এর ইউটিউব চ্যানেলে।