নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রায় ছয় দিন পর রাজধানী ঢাকার কিছু সড়কে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। ধীরে ধীরে ঢাকার সব সড়কে কাজ শুরু করবেন তারা।
রোববার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম।
আইজিপি বলেন, আমাদের ট্রাফিকে জনবলের সমস্যা নেই। এরইমধ্যে ইন্টারকন্টিনেন্টাল সিগন্যাল থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন। ধীরে ধীরে সব সড়কে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা কাজ শুরু করবেন।
তিনি বলেন, এসব সড়কে শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউটের সদস্যরাও রয়েছেন। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে যেন শিক্ষার্থীদের কোনো ভুলভ্রান্তি না হয় সেজন্য ছাত্র সমন্বয়কদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, যেসব শিক্ষার্থী রাস্তায় ট্রাফিকের কাজ করছে তাদের তালিকা করে সবাইকে পুলিশের পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। এই সার্টিফিকেট চাকরি ক্ষেত্রে যেন মূল্যায়ন হয়।
এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজের টাকায় সড়কে কাজ করছে, সড়ক পরিষ্কার করছে, রং কিনে দেয়াল সুন্দর করছে। এটা যদি সরকারি প্রজেক্ট হতো তাহলে হাজার কোটি টাকা লাগতো। একটা দেশে এই চাইতে ভালো উদাহরণ হতে পারে না।
কোনো রাজনৈতিক দল যদি দখল-চাঁদাবাজি করে তাদের পা ভেঙে দিতে সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
প্রথম কর্মদিবসে রোববার (১১ আগস্ট) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের একথা বলেন।
তিনি বলেন, এদেশে পলিটিক্স করতে হলে পলিটিক্যাল পার্টি অ্যাক্টের মধ্যে করতে হবে। এটা আপনাদের পছন্দ হলেও না হলেও। আমি যতদিন পর্যন্ত আছি, আমি এটা করে ছাড়বো। আপনারা স্বৈরাচারী হয়ে যাবেন এটা তো হবে না।
উপদেষ্টা বলেন, সব রাজনৈতিক দলগুলোকে আমি একটি মেসেজ দিচ্ছি। একটি পলিটিক্যাল পার্টির অবস্থা আপনারা দেখেন, এত বড় একটা দল, এত ঐতিহ্যবাহী একটা দল। যার নামের সঙ্গে স্বাধীনতা জড়িত, আজকে তাদের সদস্যদের পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, তাদের জায়গায় যদি মনে করেন আমি আসলাম, দখল করবো, বাজার দখল করবো, ঘাট দখল করবো, এটা দখল করবো, চাঁদাবাজি করবো। কিছুদিন করেন। কিন্তু আমি সেনাপ্রধানকে বলেছি, অনুরোধ করেছি, পা ভেঙে দিতে আপনাদের। আই ডোন্ট কেয়ার, ইউ গো টু হেল।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি শুনেছি কারওয়ান বাজারে গিয়ে চাঁদাবাজি করেন। কিছুক্ষণ আগে শুনলাম ব্যাংক দখলে নেওয়ার জন্য মারামারি হচ্ছে। কিছুটা সময় আছে, এখন করেন। ভাই আমি পাবলিকও না, আমি পলিটিশিয়ানও না, আমার ব্যাকগ্রাউন্ড হচ্ছে ফৌজি মানুষ। যা বলবো তাই করবো। এখানে একদিন থাকি, আর তিন দিন থাকি।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি করবেন যেই পার্টি হোক। আমি বারবার বলছি চাঁদাবাজি করবেন না। মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবেন না। তাহলে আমি জনগণকে বলবো আপনাদেরকে পিটাইয়া দিতে, যারা চাঁদাবাজি করেন।
জনগণের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, যারা চাঁদাবাজি করবেন তাদেরকে ওখানেই ধরেন। কি করা লাগে, সেটা আমরা করবো। শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। দেশ এভাবে চলতে পারে না।