ওয়ান ইলেভেনের অন্যতম কুশিলব এবং আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসর লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সব অপকর্মের মূল হোতা মিজানুর রহমান কীভাবে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা সমিতির সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়? এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে এমন প্রশ্ন তুলেছেন লক্ষীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন,যেখানে ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আদি নোয়াখালী জেলা সমিতি রয়েছে এবং নোয়াখালী বিভক্ত হয়ে ফেনী লক্ষীপুর নামে আরও দুইটি জেলা হবার পর, এ দুটি জেলার নামেও পৃথক দুইটি জেলা সমিতি রয়েছে। গত ১৭ বছর আদি নোয়াখালী জেলা সমিতি আওয়ামী লীগের নেতা শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে এমনভাবে কুক্ষিগত ছিলো যেখানে নির্বাচন বলে কোন শব্দ ছিলোনা,১০,০০০ টাকা করে ১৮০০ আজীবন সদস্য থেকে নেয়া ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার কোন হিসাব নাই।

০৫ আগষ্ট জুলাই বিপ্লব উত্তর শাহাবুদ্দীনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে আদি নোয়াখালী জেলা সমিতির ১২১ বছরের ইতিহাসে প্তত্যক্ষ ভোটে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে এ সমিতির একটি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হলে পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের যেসব নেতা পদচ্যুত হয় তাদের একটি অংশ হালে পানি না পেয়ে বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রয়ুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ভর করে পতিত আওয়ামী দোসররা বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি নাম দিয়ে যে মিলনমেলা ও বিএনপির মন্ত্রী এমপিদের সংবর্ধনা দেয়ার নামে যে একটা অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছে, তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতির ব্যানার যদি হয়,তা হবে বিদ্যমান ৩ জেলা সমিতির নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি কিন্তু বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা সমিতির নামে এরা কারা? শাহাদাত হোসেন সেলিম স্পষ্ট করে বলেন,এরা আর কেউ নয়,নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসররা সামাজিক আঞ্চলিক সংগঠনের নামে ঐক্যবদ্ধ হবার এটা একটা নব কৌশল এবং পুরো নোয়াখালীবাসীর জন্য পতিত স্বৈরাচারদের এভাবে সংগঠিত হতে দেয়া চরম লজ্জাজনক।

তিনি আরও বলেন,মনগড়া ভাবে সৃজনকৃত বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজা মিজানুর রহমান চিহ্নিত স্বৈরাচারের দোসর, এখন খোলস পাল্টে ‘ঈদ পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা’র নামে বিএনপি-র সম্মানিত মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দাওয়াত দিচ্ছে। এটা এক গভীর ষড়যন্ত্র!
বিএনপি-র কোনো সম্মানিত মন্ত্রী, এমপি এবং প্রশাসনের কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে এই দোসরের আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

একই সাথে,আওয়ামী স্বৈরাচারের চিহ্নিত সহযোগী মিজানুর রহমান, সেতু,মনোয়ার হোসন তৌফিক সহ সবাইকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার জোর দাবি জানাচ্ছি।