গত পরশু ভারতের কাছে হারের পর চোখে-মুখে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন ঋতুপর্ণা চাকমা-মারিয়া মান্দারা। যে প্রত্যাশা নিয়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ভারতের গোয়ায় এসেছে, তার ছিটেফোঁটাও এখনো মেটাতে পারেনি।
দুর্বল মালদ্বীপকে হারাতে ঘাম ছুটেছে তাদের। আর ভারতের কাছে করেছে অসহায় আত্মসমর্পণ। কিন্তু এই দলই কিনা মাস দুয়েক আগে অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপে চীন, উত্তর কোরিয়ার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে। প্রশংসা কুড়িয়েছিল এশিয়ান ফুটবলে।
প্রশ্ন উঠেছে, দুই মাসের ব্যবধানে কী হলো মেয়েদের মধ্যে? মাঠে মেয়েদের শারীরিক ভাষাও বার্তা দিচ্ছে ভিন্ন কিছুর।
একতা নেই, তাড়নাও নেইএমন অবস্থায় আগামীকাল বুধবার সেমিফাইনালে নেপালের মুখোমুখি হবে পিটার বাটলারের দল। তার আগে কাঠগড়ায় কোচের কৌশল এবং মেয়েদের মানসিকতা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়েদের মধ্যে ম্যাচ জেতার সেই তাড়নাই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
কোচ পিটার বাটলারও মেয়েদের পেশাদারি এবং লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আরো পেশাদার হওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। মনিকা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমাদের সেরা রূপে পাওয়া যাচ্ছে না। অধিনায়ক মারিয়া মান্দা সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সব সময় সফল হচ্ছেন না। রক্ষণভাগে আফঈদা খন্দকার তো একাদশেই জায়গা হারিয়েছেন।
তরুণ যারা সুযোগ পাচ্ছেন; সুরভী আরফিন, সুরমা জান্নাতরা চাপ নিতে পারছেন না। আক্রমণে আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার চেষ্টা করলেও শামসুন্নাহার জুনিয়র কিংবা সাগরিকা, সৌরভী আকন্দ প্রীতিরা তেমন সাহায্য করতে পারছেন না। সূত্র বলছে, সঙ্গে দলের মধ্যে বিভক্তিও তৈরি হয়েছে। দলের কোচিং স্টাফের এক সদস্য গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বড় একটা ম্যাচ হারের পরও দলের বেশির ভাগ মেয়ের মধ্যেই প্রতিক্রিয়া নেই। তবে চার-পাঁচজন খেলোয়াড় খুব কষ্ট পেয়েছে। তারা রাতের খাবার খায়নি। এমনকি ড্রেসিংরুমে কান্নাও করেছে। একজন তো খাবার খেতে গিয়েও খাবার রেখে চলে এসেছে। তার কষ্টটা আমি বুঝতে পারছি। মেয়েদে মধ্যে ভালো করার ক্ষুধাটা দেখতে পাচ্ছি না। বেশির ভাগই সিরিয়াস নয়।’
গতকাল মাঠের অনুশীলন ছিল না মেয়েদের। হোটেলেই রিকভারি সেশন হয়েছে। বিকেলে ছিল ভিডিও সেশন। ভারত ম্যাচে কোথায় কোথায় ভুল ছিল, সেসব তুলে ধরা হয়েছে। অনুশীলন না থাকায় মেয়েরা হোটেলেই ছিলেন।
কেউ ভীষণ মন খারাপ করে ছিলেন আবার কেউ ফুরফুরে মেজাজে সময় কাটিয়েছেন। সেমিফাইনালে আর কোনো ভুল করা যাবে না, সেসব বোঝানো হচ্ছে মেয়েদের। একটি দল হয়ে খেলার জন্য বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ওই সদস্য, ‘আমরা এখন সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। ফাইনাল খেলার সুযোগ আছে। কোচ ও অধিনায়ক আলাদা বসে কথা বলেছেন। অন্যদের সঙ্গে কোচ কথা বলবেন। ভিডিও সেশনে কী কী ভুল হয়েছে সেসব ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, আমরা কামব্যাক দিতে পারব।’
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের মধ্যমাঠ খুঁজেই পাওয়া যায়নি। পুরো ম্যাচেই মধ্যমাঠ দখলে ছিল স্বাগতিকদের। এতে ভীষণ চটেছেন বাটলার। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যমাঠ খুব বাজে খেলেছে। সেমিফাইনালে জিততে হলে এই জায়গায় উন্নতি আনতেই হবে। এ ছাড়া বিকল্প পথ খোলা নেই।’ হ্যাটট্রিক শিরোপার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে বিভক্তি ভুলে মারিয়া-ঋতুপর্ণাদের একটি দল হয়ে মাঠে লড়তে হবে। লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়ে সেরা ফুটবলটাই খেলতে হবে।