1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

হুদায়বিয়ার সন্ধি : শান্তির পথে মহাবিজয়

ইসলাম ও জীবন |
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ৫৬ বার পঠিত

হিজরি ষষ্ঠ সালের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলো হুদায়বিয়ার সন্ধি। ইসলামের ইতিহাসে এই ঘটনাটি কেবল একটি রাজনৈতিক চুক্তি নয়, বরং এটি ছিল সুদূরপ্রসারী কৌশল, ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ঘটনাটি মূলত শুরু হয় যখন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) চৌদ্দশত সাহাবিকে সঙ্গে নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে রওনা হন। তাঁর এই যাত্রা ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ; এতে কোনো যুদ্ধের প্রস্তুতি বা আক্রমণাত্মক মনোভাব ছিল না। তবুও মক্কার মুশরিকরা মুসলমানদের এই আগমনকে সন্দেহের চোখে দেখে এবং তাদের প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রথমেই মুশরিকদের অবস্থা জানার জন্য একজন গোয়েন্দা পাঠান। উসফান নামক স্থানে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন যে, ‍মুশরিকরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে এবং তারা মুসলমানদের মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। এই সংবাদ পেয়ে রাসূল (সা.) তাঁর সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। সাহাবিদের মধ্যে হযরত আবু বকর (রা.) মত দেন যে, মুশরিকরা যদি পথরোধ করে, তবে প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা হবে। রাসুল (সা.) এই মতকে গ্রহণ করলেও তাঁর অন্তরে ছিল শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রবল আকাঙ্ক্ষা।

মুসলমানরা হুদায়বিয়া নামক স্থানে পৌঁছলে রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত ওসমানকে (রা.) মক্কায় পাঠান এই বার্তা দিয়ে যে, মুসলমানরা যুদ্ধ করতে আসেনি; তারা কেবল ওমরাহ পালন করতে এসেছে। কিন্তু মুশরিকরা এই শান্তিপূর্ণ বার্তাকে গুরুত্ব দেয়নি। বরং তারা তাদের অবস্থানে অনড় থাকে। এ অবস্থায় উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার সূচনা হয়। আলোচনা যখন চলছিল, তখন হঠাৎ উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যাওয়ার উপক্রম হয়; এমনকি তীর ও পাথর নিক্ষেপ পর্যন্ত গড়ায়।

এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎ খবর আসে যে, হযরত ওসমানকে (রা.) মুশরিকরা হত্যা করেছে। এই সংবাদ মুসলমানদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর হাতে একটি গাছের নিচে বায়আত গ্রহণ করেন—যা ইতিহাসে ‘বায়আতে রিজওয়ান’ নামে পরিচিত। এই বায়আতে তারা অঙ্গীকার করেন যে, তারা জীবন দিয়ে হলেও ওসমানের (রা.) হত্যার প্রতিশোধ নেবেন এবং পিছু হটবেন না।

কিন্তু অল্প কিছু সময় পরেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। জানা যায় যে, ওসমান (রা.) জীবিত আছেন এবং নিরাপদে ফিরে আসছেন। তার প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে যুদ্ধের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায় এবং পুনরায় শান্তিপূর্ণ আলোচনার পথ সুগম হয়। এরপর দীর্ঘ আলোচনা ও দরকষাকষির পর মুসলমান ও কোরাইশদের মধ্যে একটি সন্ধি চুক্তি সম্পন্ন হয়, যা ইতিহাসে ‘হুদায়বিয়ার সন্ধি’ নামে পরিচিত।

এই সন্ধির শর্তগুলো ছিল আপাতদৃষ্টিতে মুসলমানদের জন্য কঠিন ও অসম। প্রথমত, উভয় পক্ষের মধ্যে দশ বছরের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয়ত, মুসলমানরা সেই বছর ওমরাহ না করেই মদীনায় ফিরে যাবে। তৃতীয়ত, পরবর্তী বছর তারা মক্কায় এসে ওমরাহ করতে পারবে, তবে নির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতা মেনে। চতুর্থত, তারা মক্কায় মাত্র তিন দিন অবস্থান করতে পারবে। পঞ্চমত, সবচেয়ে কঠিন শর্ত ছিল—মক্কার কেউ মুসলমান হয়ে মদিনায় চলে গেলে তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে, কিন্তু মদিনার কেউ মক্কায় গেলে তাকে ফেরত দেওয়া হবে না।

এই শেষ শর্তটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। সাহাবিরা এই শর্ত মেনে নিতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং রাসুলুল্লাহর (সা.) কাছে এ ব্যাপারে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু তিনি তাদের আশ্বস্ত করেন যে, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে; আল্লাহ অবশ্যই এর উত্তম সমাধান করবেন। তাঁর এই কথা পরবর্তীতে সত্য প্রমাণিত হয়।

চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের নির্দেশ দেন কোরবানি দিতে ও মাথা মুন্ডন করতে যা ছিল ওমরাহ সম্পন্ন না করেই ইহরাম থেকে বের হওয়ার একটি প্রতীকী প্রক্রিয়া। প্রথমে সাহাবিরা কিছুটা বিমর্ষ হয়ে পড়লেও পরবর্তীতে তারা এই নির্দেশ পালন করেন।

হুদায়বিয়ার সন্ধি প্রাথমিক দৃষ্টিতে মুসলমানদের জন্য পরাজয়ের মতো মনে হলেও বাস্তবে এটি ছিল এক মহাবিজয়। এই সন্ধির ফলে মুসলমানরা যুদ্ধের চাপ থেকে মুক্ত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ইসলাম প্রচারের সুযোগ পায়। এর ফলেই অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এমন কি এই সন্ধির মাত্র দুই বছরের মধ্যে মক্কা বিজয়ের পথও সুগম হয়ে যায়।

হুদায়বিয়ার সন্ধি ছিল কৌশলগত ধৈর্য, দূরদর্শিতা এবং আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থার এক অনন্য উদাহরণ। এটি মুসলমানদের শিখিয়েছে যে, সবসময় শক্তি প্রয়োগই সমাধান নয়; বরং কখনো কখনো শত্রুর সঙ্গে সন্ধিই বৃহত্তর সাফল্যের পথ তৈরি করে। এই ঘটনাটি ইসলামের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর