নিয়োগ জালিয়াতি, শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জালিয়াতি এবং নীতিমালার শর্ত লঙ্ঘন করে এমপিওভুক্ত হওয়ার অভিযোগে তিন মাদ্রাসার পাঁচজন শিক্ষক-কর্মচারীর ইনডেক্স বাতিল করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একইসঙ্গে যোগদানের পর থেকে বেতন-ভাতা হিসেবে নেওয়া সরকারি অর্থ দ্রুত সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) অধিদপ্তরের অর্থ শাখা থেকে পৃথক তিনটি স্মারকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সিরাজ উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার ৩ জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ টেম্পারিং এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন— পরিচ্ছন্নতা কর্মী মো. মাহবুবুর রহমান, নিরাপত্তা কর্মী মো. আরিফুল ইসলাম এবং আয়া মোছা. হোসনে আরা। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের করা তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়ায়, তাদের ইনডেক্স বাতিল করা হয়েছে এবং বেতন-ভাতা হিসেবে উত্তোলিত নগদ অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার সেরুডাঙ্গা দারুল উলুম দ্বি-মুখী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (সমাজ বিজ্ঞান) মোছা. নারজুস আরা বেগমের শিক্ষক নিবন্ধন সনদটি ‘জাল ও ভুয়া’ প্রমাণিত হয়েছে। এনটিআরসিএ’র তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০০৮ সালে ৪র্থ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিলেন। সনদ জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এমপিও নীতিমালা-২০২৬, অনুযায়ী তার ইনডেক্সও বাতিল করা হয়েছে।
একইসঙ্গে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল এম এ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মো. মোশাররফ হোসাইনের বিরুদ্ধে নীতিমালার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও ভুলবশত তার এমপিওভুক্তি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে নীতিমালা অনুযায়ী, তিনি এই পদের যোগ্য না হওয়ায় তার ইনডেক্স বাতিল করা হয়েছে এবং বেতনের সব টাকা সরকারি তহবিলে ফেরতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।