আওয়ামী লীগের টানা চার মেয়াদে ১৫ বছরের শাসনামলে নিয়োগ পাওয়া দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে যোগ্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে ‘অভিভাবক ঐক্য ফোরাম’।
শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করা সংগঠনটি শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল (সি-আর) আবরারকে এমন দাবি জানিয়ে স্মারকলিপিও দিয়েছে। তাতে শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো, শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন, কোচিং বাণিজ্য বন্ধসহ ১২টি দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার (৫ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলুর নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল। এরপর এ স্মারকলিপি দেন তারা।
অভিভাবক ঐক্য ফোরামের ১২ দাবি –
১. শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে।
২. শিক্ষাকে জাতীয়করণ করা।
৩. জবাবদিহিমূলক মনিটরিং কমিটি গঠন।
৪. যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম নির্ধারণ।
৫. আইডিয়াল, ভিকারুননিসা নূন, মনিপুর হাইস্কুলের চলমান দুর্নীতি উচ্ছেদে সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে অধ্যক্ষ নিযুক্ত করা।
৬. শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা।
৭. ভর্তি নীতিমালা বাস্তবায়ন করা।
৮. বিগত সরকারের ১৫ বছরে নিয়োগ করা শিক্ষক-কর্মচারীদের যাচাই-বাছাই করে পুনরায় পরীক্ষার মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া।
৯. শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো দেওয়া।
বিজ্ঞাপন
১০. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদ রাজনৈতিক নেতৃত্বমুক্ত রাখা।
১১. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত সনদ বাণিজ্য বন্ধ করা।
১২. অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় পল্টন থানায় করা আইসিটি আইনের মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মিয়া, সহ-সভাপতি ও মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ফোরামের সভাপতি মো. আহসান উল্ল্যা মানিক, ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম উদ্দীন।