সরকারি গোপন তথ্য ফাঁসের ঘটনা ও সেগুলোর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কন্যা শামারুহ মির্জা। মঙ্গলবার (২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ক্লাসিফায়েড ইনফরমেশন লিক হয় কি করে? … ক্লাসিফায়েড ইনফরমেশন এফ অ্যান্ড আই এভিনিউ ছাড়া তো মিডিয়ায় আসার কথা নয়। রানিং আ স্টেট ইজ আ সিরিয়াস ম্যাটার। জাস্ট সেইং।’
একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও পাবলিক স্বার্থের অধিকারকর্মী হিসেবে শামারুহ মির্জার এই প্রশ্ন ফের গোপন নথি ফাঁসের দায় ও তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের বৈধতা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘ক্লাসিফায়েড ইনফরমেশন’ আসলে কী?
ক্লাসিফায়েড ইনফরমেশন বা গোপনীয় তথ্য বলতে সেইসব সংবেদনশীল নথি, পরিকল্পনা, রিপোর্ট, যা কোনো সরকারি সংস্থা জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় জনসম্মুখে প্রকাশের অনুপযুক্ত মনে করে সুরক্ষিত রাখতে চায়। এক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক ‘নিরাপত্তা ছাড়পত্র’ ছাড়া এসব তথ্য দেখা বা ব্যবহার করা যায় না, তা ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁস করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশে ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট (গুপ্তচরবৃত্তি আইন) সরকারি গোপন তথ্যের অননুমোদিত সংগ্রহ বা প্রকাশ নিষিদ্ধ করেছে এবং নির্ধারিত করেছে সাজা।
তথ্য অধিকার আইন ও সরকারি গোপনীয়তার সীমারেখা:
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই সঙ্গে ২০০৯ সালে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘তথ্য অধিকার আইন’ । এর প্রস্তাবনায় বলা হয়, ‘তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের নিমিত্ত বিধান করিবার লক্ষ্যে প্রণীত আইন’। এর আওতায় নাগরিক লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত কিছু তথ্য পাওয়ার অধিকার রাখেন। তবে সংরক্ষিত গোপন নথি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য অবাধে পাওয়া যায় না।
গুপ্তচরবৃত্তি আইন ও তথ্য অধিকার আইনের সমন্বয় ঘটাতে গিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। তথ্য অধিকার আইনের ৩ ধারা বলছে, ওই আইনের বিধান অন্য যেকোনো আইনকে প্রত্যাহার বা অগ্রাহ্য করবে। ফলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পড়ে না এমন সরকারি গোপন তথ্য ফাঁস করে প্রচার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট ইনফরমেশন ডিসক্লোজার (প্রোটেকশন) অ্যাক্ট, ২০১১’ (হুইসেলব্লোয়ার আইন) সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে জনস্বার্থে তথ্য ফাঁসকারীকে সুরক্ষা দিতে পারে, যদি তথ্যটি সত্য হয় এবং অর্থ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধ, দুর্নীতি ইত্যাদির সঙ্গে সম্পর্কিত হয়।
শামারুহ মির্জার প্রশ্ন মূলত কার্যালয়ের গোপন নথির অনির্দিষ্ট ফাঁস ও সামাজিক মাধ্যমে সেগুলোর প্রচারকে আইনি জটিলতার ব্যাপারে সতর্ক করছে বলে নেটিজেনদের একটি অংশ মনে করছেন। তবে তিনি ‘জাস্ট সেইং’ বলায় সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনাকে ইঙ্গিত করেছেন কি না, তা স্পষ্ট হয়নি।