জাতীয় বেতন স্কেলের আওতাধীন কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের জন্য একটি নতুন পে কমিশন গঠন করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের গতকালের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
এ কমিশনের প্রধান করা হয়েছে সাবেক অর্থ সচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে। ছয় মাসের মধ্যে কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানানো হয় বিবৃতিতে। তারা মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করবে।
বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুসারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পান। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন প্রায় ১৫ লাখ।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। এতে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে নতুন পে কমিশন গঠন করা হলো।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে আসার পর থেকে সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় গত বছরের নভেম্বর থেকে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মহার্ঘ ভাতা দেয়ার জন্য একটি কমিটি কাজও শুরু করে। এ নিয়ে বিরূপ সমালোচনা শুরু হলে সরকার পরে পিছিয়ে যায়। চলতি অর্থবছরের বাজেটে অবশ্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা দেয়ার কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বাজেট সংক্ষিপ্তসার অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাবদ ১৩ হাজার ৪৮৩ কোটি ও কর্মচারীদের বেতন বাবদ ৩০ হাজার ৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তাদের ভাতা বাবদ বরাদ্দ ৪১ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। বেতন-ভাতায় মোট বরাদ্দ করা হয়েছে ৮৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ৮২ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে বেড়েছে ১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা।