1. admin@businessdigestbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় : ৪ বিষয়ে শিক্ষক সংকট বেশি, শিখনে ঘাটতি পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি : ঢাকা ওয়াসার গচ্চা ১৫৬২ কোটি টাকা যশোরে এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের প্রাসাদ থেকে অল্প দূরে আছড়ে পড়ল বিমান, ৯ জন নিহত শিক্ষকদের পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ৪০ হাজার বেতনে চাকরি দেবে রকমারি.কম, থাকছে যেসব সুবিধা পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

সড়ক দুর্ঘটনা : কে দিবে কাকে শান্তনা?

বিজনেস ডাইজেস্ট ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৪
  • ২৮০ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :

অসহায় পরিবারের একমাত্র আশার প্রদীপ ছিলেন হেলাল হাওলাদার (১৮)। ছোটবেলায় বাবাকে হারান। মা ভিক্ষা করে ছেলেকে নিয়ে জীবন নির্বাহ করছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে অল্প বয়সেই হেলালকে জীবনযুদ্ধে নামতে হয়। কয়েক বছর আগে তিনি যুক্ত হন পরিবহন খাতে।

সর্বশেষ ট্রাকচালক হিসেবে পণ্য নিয়ে যেতেন বিভিন্ন গন্তব্যে। এতে যা আয় হচ্ছিল, তাতে টেনেটুনে চলছিল সংসার। এর মধ্যে বিয়েও করেছেন। তাঁর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার সন্তানসম্ভবা। পরিবারে যখন ফুটফুটে এক শিশুর আগমনের আনন্দবার্তা ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই ঘটল অঘটন। ঢাকার অদূরে সাভারের হেমায়েতপুরে সড়কে তেলের লরি উল্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারালেন হেলাল।

গত মঙ্গলবার ভোরে ওই দুর্ঘটনার পর রাতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তাঁর মৃত্যু হয়। বুকের ধন হারিয়ে পাগলপ্রায় মা আলেয়া বেগম। হেলালের স্ত্রীও শোকে পাথর হয়ে গেছেন। তিনি বুঝেই উঠতে পারছেন না– জীবন শুরু না হতেই কীভাবে সব শেষ হয়ে গেল!

একই ঘটনায় দগ্ধ ট্রাকচালকের সহকারী (হেলপার) ১৫ বছর বয়সী সাকিব হোসেনও মঙ্গলবার গভীর রাতে মারা গেছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪-এ।

বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন তরিকুল ইসলাম জানান, শরীরের শতভাগ দগ্ধ হওয়ায় শুরু থেকেই সংকটাপন্ন ছিলেন হেলাল ও সাকিব। তাদের শ্বাসনালিও পুড়ে যায়। তাদের সারিয়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসার ব্যবস্থাই নেওয়া হয়। তবে ক্রমে তাদের অবস্থার অবনতি হয়।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় হেলাল এবং সোয়া ১টার দিকে সাকিবের মৃত্যু হয়।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুরের জোড়পুল এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারায় তেলবাহী একটি লরি। সড়কে ইউটার্ন নির্মাণের জন্য রাখা কংক্রিটের ব্লকে ধাক্কা লেগে লরিটি উল্টে গেলে পুরো এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়ে। একটু পরই সেখানে ঘটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এতে লরিটি ছাড়াও ওই সড়কে থাকা আরও চারটি গাড়ি পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সিমেন্টবাহী ট্রাকের সহকারী ইকবাল হোসেন (৩৫)। সেখান থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আড়তদার নজরুল ইসলাম (৪৫)।

নিহত হেলালের মামাতো বোন সুইটি বেগম বিজনেস ডাইজেস্টকে জানান, তাঁর ফুফু আলেয়া বেগম অনেক কষ্টে একমাত্র সন্তানকে বড় করেছেন। অভাবের কারণে তাঁর ভাইয়ের পড়ালেখা হয়নি। তবে উপার্জন শুরু করে সংসারের হাল ধরেছিলেন। এর মধ্যেই এলো সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ। বরগুনা সদরের ছোট গৌরিচন্না এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন হেলাল। তাঁর বাবা জয়নুদ্দিন হাওলাদার অনেক আগেই মারা গেছেন।

হেলালের স্ত্রী সোনিয়া তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনি জানান, সোমবার রাতে বরগুনা থেকে ট্রাকে তরমুজ বোঝাই করে গাজীপুরে নিয়ে যাচ্ছিলেন হেলাল। মঙ্গলবার ভোরে একজন ফোন করে তাঁকে বলেন, তাঁর স্বামী দগ্ধ হয়েছেন। কেউ মজা করছেন ভেবে প্রথমে তিনি বকাও দেন। তখন শুনতে পান স্বামীর জড়ানো কণ্ঠ– ‘সোনিয়া, সত্যি আমি পুড়েছি।’

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া সাকিবের পরিবারেও কান্নার রোল। বড় ভাই নাঈম হোসেন জানান, তাদের বাড়ি বরগুনা সদরের গৌরিচন্না বাজার এলাকায়। তিনি (নাঈম) পাইলিং মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন। তাদের বাবা মোহাম্মদ আলী ওরফে আবেদ আলী খাগড়াছড়িতে অটোরিকশা চালান। দু’জনের যৎসামান্য আয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। তাই চার মাস আগে হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করেন সাকিব। প্রাণচঞ্চল ছেলেটির এমন মৃত্যু পরিবারের কেউ মেনে নিতে পারছেন না। মা নাজমা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন।

শঙ্কায় মিলন ও মীম :
—————-

বর্তমানে বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিসাধীন ছয়জন। তাদের মধ্যে শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া শ্রমিক মিলন মোল্লা ও ২০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া শিশু মীম শঙ্কামুক্ত নয়। দু’জনেরই মুখমণ্ডলসহ শ্বাসনালি পুড়ে গেছে।

মীমের দাদা শহীদ তালুকদার জানান, বরগুনা সদরের সোনাতলা এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকে মীম। তার বাবা আল আমিন ঘটনার সময় তরমুজবাহী ট্রাকে ছিলেন। মেয়ে মামার বাড়ি সাভারে যাওয়ার আবদার করায় তাকে ট্রাকে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। দু’জনই দগ্ধ হন।

মিলন মোল্লার বাবা ফরিদ মোল্লা জানান, তাঁর ছেলে সিমেন্টবাহী ট্রাকে ছিলেন। তিনি সাভারের হেমায়েতপুরে পরিবারের সঙ্গে থাকেন।

চিকিৎসাধীন অপর চারজন দ্রুত সেরে উঠবেন বলে আশা চিকিৎসকদের। তারা হলেন কৃষক আল আমিন, নিরঞ্জন রায়, সিমেন্টবাহী গাড়ির চালক মো. আলামিন এবং এ কে এইচ গ্রুপের গাড়িচালক আবদুস সালাম।

লরি চালকের বিরুদ্ধে মামলা :
———————-
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার জানান, স্থানীয় ট্রাক ও বাসচালকদের অভিযোগ, ইউটার্ন নির্মাণের জন্য সড়কে অস্থায়ী পিলার দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়ায় ভোরে তেলের লরির চালক তা বুঝতে পারেননি। ফলে সেগুলোর ওপর গাড়ি উঠলে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মইনুল হাসান বলেন, মহাসড়কে ইউটার্ন নির্মাণের জন্য অস্থায়ীভাবে সিমেন্টের পিলার দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে চালকদের সচেতন হওয়ার জন্য লাল কাপড় দিয়ে সতর্কচিহ্নও দেওয়া হয়। তবে কোনো একটি গাড়ি তা ভেঙে দিয়ে চলে যায়। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আরও বেশি সতর্কবার্তার ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত লরি চালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ। তদন্ত সাপেক্ষে মামলায় আসামির সংখ্যা বাড়বে বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের এসআই বাবুল আক্তার।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরও খবর